গোয়াইনঘাটের প্রবাসী প্রয়াত শাহীনের স্ত্রী লাকী পেলেন ২৫ লাখ টাকা

প্রকাশিত: ৯:৩২ অপরাহ্ণ, জুন ২০, ২০২১

গোয়াইনঘাটের প্রবাসী প্রয়াত শাহীনের স্ত্রী লাকী পেলেন ২৫ লাখ টাকা

Manual3 Ad Code

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি : প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপির সহায়তায় ২৫ লাখ টাকার চেক পেলেন গোয়াইনঘাট উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের ছৈলাখেল ৯ম খন্ডের সৌদি আরব প্রবাসী লিফট দুর্ঘটনায় নিহত শাহীন আহমদের সহধর্মিণী লাকী বেগম।

গোয়াইনঘাট উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের ছৈলাখেল ৯ম খন্ডের আশ্রব খাঁ এর ছেলে শাহীন আহমদ প্রায় ৩ বছর আগে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে সৌদি আরবে গমণ করেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসের গোড়ার দিকে লিফট দুর্ঘটনায় শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। এসময় তার ওয়ারিশ হিসেবে রেখে যান স্ত্রী লাকী বেগম, ২ ছেলে, ২ মেয়ে। প্রবাসী শ্রমিকের মৃত্যুর খবর ও তার অসহায় পরিবারের বিষয়ে জানতে পারেন মন্ত্রী।

Manual3 Ad Code

পরবর্তীতে তিনি উদ্যোগ নিয়ে শাহীনের কর্মরত প্রতিষ্ঠান থেকে ২২ লাখ টাকা এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয় থেকে ৩ লাখ টাকার ব্যবস্থা করেন।

Manual3 Ad Code

এরই ধারাবাহিকতায় ২০ জুন দুপুর ২ টায় গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সৌদি আরব প্রবাসী প্রয়াত শাহীনের সহধর্মিণীর হাতে ২৫ লাখ টাকার চেক প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসন।

Manual8 Ad Code

উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিলুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি বলেন, প্রবাসী কর্মীরা মারা গেলে মৃতদেহ দেশে আনার জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় সরকার। বিমানবন্দরে লাশ হস্তান্তরের সময় সেটি পরিবহন ও দাফনের খরচ হিসেবে দেওয়া হয় সরকারি অনুদান। এছাড়া মৃত প্রবাসী কর্মীর পরিবারের জন্য আর্থিক অনুদান আর মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থাও করে থাকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

Manual7 Ad Code

মন্ত্রী বলেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের অধীন সংস্থা ওয়েজ অনার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে এসব সুবিধা পান প্রবাসী কর্মীর স্বজনরা।‘বিদেশে প্রবাসী কর্মীদের সুরক্ষা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সার্বিক কল্যাণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এজন্য প্রবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ বা সমস্যা থাকলে তা দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়।’

দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীদের বহির্গমন ছাড়পত্র যাচাই, কার্ড পূরণ, কর্মীদেরকে বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতার বিষয়ে পরামর্শ প্রদানের জন্য রয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক। তাদের মাধ্যমে প্রবাসী মৃত কর্মীদের লাশ দেশে আসার পর আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর, পরিবহন ও দাফনের জন্য চেক প্রদান করা হয়। প্রবাসে মৃত্যুবরণকারী বাংলাদেশি কর্মীর লাশ পরিবারের মতামত নিয়ে দেশে আনে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড। কোনও মৃতের পরিবার সংশ্লিষ্ট দেশে লাশ দাফনের ইচ্ছা প্রকাশ করলে সেই ব্যবস্থাও করা হয়। মৃতের লাশ দেশে প্রেরণে নিয়োগকর্তা খরচ বহন করতে অপারগতা প্রকাশ করলে ও মৃতের পরিবার লাশ দেশে আনার জন্য খরচ বহনে সক্ষম না হলে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ তহবিল থেকে অর্থায়ন করা হয়।

প্রবাসে বাংলাদেশি কর্মী মৃত্যুবরণ করলে বিমানবন্দর থেকে লাশ গ্রহণের সময় মৃতের পরিবারকে লাশ পরিবহন ও দাফন হিসেবে ৩৫ হাজার টাকার চেকের মাধ্যমে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক থেকে এই চেক প্রদান করা হয়। এজন্য মৃত প্রবাসী শ্রমিকের স্বজনকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্র, পরিবারের সদস্য সনদ, লাশ পরিবহন ও দাফন খরচের অর্থ গ্রহণের জন্য ক্ষমতা অর্পণপত্র সঙ্গে আনতে হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- সিলেটের জেলা প্রশাসক এম, কাজী এমদাদুল ইসলাম, গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ ইব্রাহিম, গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফজলুল হক প্রমুখ।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..