বরখাস্ত নিয়ে যা বল্লেন কানাইঘাট সদর ইউপি চেয়ারম্যান মামুন

প্রকাশিত: ৭:৩৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১২, ২০২১

বরখাস্ত নিয়ে যা বল্লেন কানাইঘাট সদর ইউপি চেয়ারম্যান মামুন

Manual1 Ad Code

কানাইঘাট প্রতিনিধি :: কানাইঘাট সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা মামুন রশিদকে চেয়ারম্যান পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত নিয়ে ইউনিয়নের নাগরিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

চেয়ারম্যান মামুন রশিদের অনুসারীরা মনে করেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে উদ্দ্যেশ্য মূলক ভাবে সাজানো তদন্ত রিপোর্টের মাধ্যমে তাকে চেয়ারম্যান পদ থেকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন অর্থ বছরের এলজিএসপির ১১টি প্রকল্পের মধ্যে ৪টি স্কিমের কাজে দাপ্তরিক প্রকল্পের চেয়ে বাস্তবে কম কাজ করে সরকারী অর্থ আত্মসাৎ, কাজের স্থলে সাইনবোর্ড না করা সহ দায়িত্বে ও কর্তব্য পালনে অবহেলার কারনে স্থানীয় সরকার ইউনিয়ন (পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ধারা ৩৪(১) অনুযায়ী কানাইঘাট সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মামুন রশিদকে স্বাক্ষর সম্বলিত এক পত্রের মাধ্যমে ৩১/০৩/২০২১ ইং তারিখে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মোঃ আবু জাফর রিপন।

জানা যায় স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতাকর্মী এলজিএসপির বিভিন্ন অর্থ বছরের কাজে অনিয়মের অভিযোগ ও অর্থ আত্মসাৎ সহ চেয়ারম্যান মামুন রশিদ বিএনপির রাজনীতির সাথে জাড়িত থেকে সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করেছেন বেশ কিছু অভিযোগ তুলে তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি লিখিত অভিযোগ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে দায়ের করেন।

এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলামের নির্দেশে ডিএফ, সিলেট আবু হানিফ তালুকদার অভিযোগকারীদের সাথে নিয়ে এলজিএসপির প্রকল্পের কাজের এলাকা কয়েক মাস আগে পরিদর্শন করেন। চেয়ারম্যান মামুন রশিদ সহ ইউনিয়নের অধিকাংশ ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যদের অভিযোগ তাদের কোন ধরনের না জানিয়ে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে ডিএফ আবু হানিফ তালুকদার উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে গোপনে এলজিএসপির বিভিন্ন অর্থ বছরের কাজে অনিয়ম অর্থ আত্মসাৎ ও প্রকল্পের এলাকায় সাইনবোর্ড না থাকার কারন দেখিয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক বারবরে গত ২৯ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এসব জেনে তারা ডিএফ আবু হানিফ ও জেলা প্রশাসকের কাছে এলজিএসপির বিভিন্ন অর্থ বছরের প্রকল্পের কাজ শতভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে এবং প্রকল্পের কোন অর্থ আত্মসাৎ বা অনিয়ম হয়নি ব্যাংকে সমূহ প্রকল্পের টাকা রয়েছে মর্মে জানানোর পরও কোন প্রতিকার পাননি।

Manual7 Ad Code

জেলা প্রশাসক তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে চেয়ারম্যান মামুন রশিদকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করার জন্য সুপারিশ করে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালয়ে পাঠান। উক্ত তদন্ত রিপোর্টে উদ্দেশ্য মূলক ভাবে হয়রানীর জন্য করা হয়েছে এমন অভিযোগ এনে চেয়ারম্যান মামুন রশিদ স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালয় সচিবের বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেন। তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করার জন্য গত ৪/২/২০২১ ইং তারিখে সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মশিউর রহমান, ডিএফ, সিলেট আবু হানিফ, ইউপি চেয়ারম্যান মামুন রশিদ সহ স্থানীয় কয়েকজন সরকারী কর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে অভিযোগে উল্লেখিত এলজিএসপির বিভিন্ন অর্থ বছরের ৪০টি প্রকল্পের মধ্যে ৩৪টি প্রকল্প মাঠ পর্যায়ে গিয়ে তদন্ত করেন। তদন্তকালে সঠিক মতো স্কিম অনুযায়ী হয়েছে মর্মে তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন। কিন্তু কর্তব্যে অবহেলার কারণে চেয়ারম্যান মামুন রশিদের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার ইউনিয়ন (পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ধারা-৩৪(ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অসাদাচরনের অভিযোগ তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন। এছাড়া গত ১৭/১২/২০২০ ইং তারিখে এলজিএসপির বিভিন্ন অর্থ বছরের স্কিম এলাকার কাজ পরিদর্শন করে কাজ সটিক হয়েছে মর্মে এলজিএসপির-৩ এর উপ-প্রকল্প পরিচালক (ফিল্ড অপারেশন) মোঃ রাহেনুল ইসলাম কাজের টাকা ছাড় দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারী অফিসে সুপারিশ পাঠান।

Manual4 Ad Code

সাময়িক বরখাস্তের ব্যাপারে চেয়ারম্যান মামুন রশিদের সাথে কথা হলে তিনি বলেন একমাত্র বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার দায়ে প্রতিহিংসা মূলক ভাবে তাকে এলজিএসপির ৩টি প্রকল্পের কাজ কম করে অর্থ আত্মসাতের মিথ্যা অভিযোগে এনে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারনে একাধিক সাজানো অভিযোগ এনে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে কিছু লোকজন তার বিরুদ্ধে দরখাস্ত দেন। প্রত্যেকটি অভিযোগ তদন্তকালে তাকে কোন ধরনের না জানিয়ে মনগড়া ভাবে তদন্ত করে ডিএফ সিলেট আবু হানিফ তালুকদার তার বিরুদ্ধে সাজানো প্রতিবেদন রিপোর্ট জেলা প্রশাসক সিলেটের কাছে দিয়েছেন।

Manual1 Ad Code

কিন্তু আবু হানিফ তালুকদারের তদন্ত রিপোর্ট মিথ্যা ছিল যা পরবর্তীতে সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার এনডিসি মোঃ মশিউর রহমানের তদন্তকালে প্রমানিত হয়েছে। র্দীঘদিন ধরে সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছি কেউ বলতে পারবে না কোন কাজের টাকা আমি আত্মসাৎ করেছি। দুঃখজনক হলেও সত্য ব্যাংকে এলজিএসপির বিভিন্ন অর্থ বছরের টাকা এখনো রক্ষিত থাকলেও ৩টি প্রকল্পের কাজ কম করে আমি আত্মসাৎ করেছি এমন মনগড়া অভিযোগ এনে আমাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

Manual1 Ad Code

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..