সিলেট ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৮শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৭:০২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৫, ২০২০
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে খাসিয়ামারা নদীর বালুমহাল এবার সরকারিভাবে ইজারা দেয়া হয়নি। এক্ষেত্রে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ হলেও তা মানছে না অসাধু বালুখেকোরা।
করোনা সংকটকালে কয়েক মাস ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন আর বালু বোঝাই স্টিলবডি ও ইঞ্জিন নৌকায় বাড়ছে চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য। প্রতিদিন ১৫-২০টি বালুবোঝাই স্টিলবডিসহ অর্ধশতাধিক ইঞ্জিন নৌকা ফিরছে নদীর উজান থেকে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসব অবৈধ বালুভর্তি স্টিলবডি ও নৌকাকে শেল্টার দিতে প্রশাসন ও মসজিদের নাম ভাঙ্গিয়ে চলছে বেপরোয়া চাঁদাবাজি। মাঝপথে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা। নদীর তীর কেটে বালু উত্তোলনে ভাঙনের তীব্রতায় নদীর স্বাভাবিক পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট হচ্ছে ক্রমশ।
খাসিয়ামারা নদীর বালু উত্তোলন নিয়ে পূর্ব থেকেই আপত্তি রয়েছে নদীর দুপারের বাসিন্দাদের। অবাধে বালু উত্তোলনের ফলে ইতোমধ্যে নদীগর্ভে ফসলি জমি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছে অন্তত দু’শতাধিক কৃষিজীবী পরিবার।
এনিয়ে খাসিয়ামারা বালুমহাল ইজারা বন্ধের দাবিও তুলেছেন স্থানীয়রা।একাধিকবার মানববন্ধন, সভা সমাবেশ, জেলা প্রশাসন বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হলেও কার্যত কোনো ফল হয়নি। এতে স্থানীয়রা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও লাভবান হচ্ছে অসাধু বালু ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিনই একের পর এক খালি স্টিলবডি নৌকা খাসিয়ামারা নদীর উজান থেকে বালু বোঝাই করে ফিরছে। বেশিরভাগ স্টিলবডি নৌকা সন্ধ্যা থেকে রাতভর বালু বোঝাই করে ভোরের দিকে সুরমা নদী অভিমুখে ফিরে। মাঝপথে দু-তিন স্থানে স্টিলবডি প্রতি ২শ’ থেকে ৩শ’ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। কখনো প্রশাসন ম্যানেজ আবার কখনো মসজিদ নির্মাণের দোহাই দিয়ে রসিদ ছাড়াই চাঁদা নেয়া হচ্ছে বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্টিলবডির লোকজন।
আলাপকালে তারা জানান, প্রশাসনিকভাবে কোনো বাধানিষেধ না থাকায় তারা বালু উত্তোলন করছেন। প্রশাসন বালু উত্তোলন বন্ধ করে দিলে তারাও আর বালু উত্তোলন করবেন না বলে জানান।
স্থানীয় আলীপুর সমাজকল্যাণ পরিষদের সহ সভাপতি জামাল উদ্দিন বলেন, “খাসিয়ামারা নদীর বালুমহাল ইজারা বন্ধের দাবিতে জেলা প্রশাসন বরাবর স্মারক লিপি দিলেও কোনো প্রতিকার মিলেনি। আমাদের বাধানিষেধ উপেক্ষা করে রাতের আধারে নদীর তীর কেটে বালু নিচ্ছে অসাধু ব্যবসায়িরা। কিছু বললে প্রশাসনকে মেনেজ করেই বালু নিচ্ছে বলে উল্টো শাসিয়ে থাকে তারা।”
সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান মাস্টার বলেন, “অবাধে বালু উত্তোলনের ফলে নদীবিধৌত বৃহত্তর লক্ষীপুর ইউনিয়নের জনজীবন এখন হুমকির মুখে। প্রাকৃতিক পরিবেশ ও স্থানীয়দের ভিটেমাটি রক্ষায় দীর্ঘ মেয়াদিভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ রাখতে হবে। খাসিয়ামারা নদীর বালুমহাল ইজারা বন্ধকরণ, অসাধু বালু ব্যবসায়ি ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটদের দৌরাত্ম্য অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।”
এব্যাপারে দোয়ারাবাজার থানার ওসি আবুল হাশেম জানান, “খাসিয়ামারা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারী বা চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট কাউকেই ছাড় দেয়া হবেনা।”
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd