হীরা মণিকে ধর্ষণের পর হত্যা, ১৮ দিনেও রহস্য উদঘাটন হয়নি

প্রকাশিত: ১:৫০ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১, ২০২০

হীরা মণিকে ধর্ষণের পর হত্যা, ১৮ দিনেও রহস্য উদঘাটন হয়নি

Manual2 Ad Code

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : লক্ষ্মীপুরে ঘরে একা পেয়ে নবম শ্রেণির ছাত্রী হীরা মণিকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনার রহস্য উদঘাটনে অগ্রগতি নেই। আলোচিত এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৮ দিনেও নিশ্চিত করে কিছুই জানাতে পারেনি পুলিশ।

Manual3 Ad Code

একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত কেউ শনাক্ত হয়নি। এ নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার। তবে পুলিশ বলছে, গুরুত্ব দিয়ে মামলাটির তদন্ত চলছে। শিগগিরই এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন হবে।

Manual2 Ad Code

এ হত্যাকাণ্ডের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠেন সচেতন মানুষ ও শিক্ষার্থীরা। তারা খুনিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয় প্রশাসনকে আলটিমেটাম, স্মারকলিপি দিয়ে ও মুখে কালো কাপড় বেঁধে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। তখন জনপ্রতিনিধি, মানবাধিকারকর্মীসহ বিভিন্ন সামাজিক-স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা পরিবারটির পাশে দাঁড়ায়।

অন্যদিকে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্তকারী তরিকুল ইসললাম অয়ন ও সুমন হোসেনকে তিনদিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। আরিফ হোসেন নামে আরেক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং নিহতের প্রতিবেশী।

Manual8 Ad Code

থানা পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্র জানায়, সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়নের পালেরহাট পাবলিক হাইস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রীর বাবা হারুনুর রশিদ ক্যানসারে আক্রান্ত হন।

১২ জুন ছাত্রীর বাবা ঢাকায় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। ছাত্রীর মা ও ছোট দুই ভাই-বোন বাবার সঙ্গে হাসপাতালে ছিলেন। ছাত্রী হাসনাবাদ গ্রামের নানার বাড়ি থেকে ১২ জুন সকালে নিজেদের বাড়ি পশ্চিম গোপীনাথপুরে আসে। ওই দিন ঘরে একাই ছিল সে। দুপুরে বাড়ির এক নারী তাকে ঘরে ডাকতে যায়। তখন তাকে নিথর পড়ে থাকতে দেখতে পায় ওই নারী। পুলিশের ধারণা, ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে ছাত্রীকে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, এ ঘটনায় ছাত্রীর মা ১২ জুন অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। ঘটনার দিন আরিফ হোসেন ও সুমন হোসেন নামে দুই তরুণকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্তকারী তরিকুল ইসলাম অয়নকে গ্রেফতার করা হয়। ১৫ জুন অয়ন ও সুমনকে সন্দেহভাজন হিসেবে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। তাদের তিনদিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত। পরে আরিফকেও গ্রেফতার দেখানো হয়।

নিহতের মা ও মামলার বাদী ফাতেমা বেগম বলেন, আমার মেয়ে বেঁচে নেই; এই কথা মনে পড়লে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। আমি মেয়ে হত্যার কঠিন বিচার চাই।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নিরাপদ নোয়াখালী চাই’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মো. সাইফুর রহমান রাসেল বলেন, ১৮ দিনেও আলোচিত স্কুলছাত্রী হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত না হওয়ায় আমরা হতাশ। ঘটনার পর আমরা ভিকটিমের বাড়িতে গেছি, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আমরা আইনজীবী নিয়োগ দেব।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আজিজুর রহমান মিয়া বলেন, মামলায় ইতোমধ্যে আমরা সন্দেহভাজন তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছি। তাদের রিমান্ডে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসা করা হয়েছে। ভিকটিমের শরীরের আলামত ও আসামিদের রক্ত পরীক্ষার জন্য সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, সিআইডির রিপোর্ট হাতে পেলেই রহস্য উদঘাটন হবে।

Manual7 Ad Code

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..