রুমমেট’র ফাঁদে ফেলে যুবকদের টার্গেট করতো সুন্দরী: সেই ভয়ঙ্ককর পরী গ্রেফতার

প্রকাশিত: ৬:৩২ অপরাহ্ণ, জুলাই ১, ২০২০

রুমমেট’র ফাঁদে ফেলে যুবকদের টার্গেট করতো সুন্দরী: সেই ভয়ঙ্ককর পরী গ্রেফতার

Manual7 Ad Code

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : কখনো তানিশা আক্তার, আবার কখনো ফারিয়া চৌধুরী অথবা পরী (৩০) যখন যে নামে ভর করুক না কেন যার উপর একবার পরীর নজর পড়েছে আর্থিক-মানসিক ও শারিরীকভাবে ভয়ঙ্কর বিপদে ফেলে দেওয়ার ঘটনা শত শত। হতদরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া ও একজন চা বিক্রেতার স্ত্রী হওয়া সত্বেও গোসল করতেন বিলাশবগুল বাথটাবে। রুমভর্তি দামী দামী আসবাবপত্রে ঠাসা। সমাজের উচুস্তরের বেশকিছু পুরুষ পতিতার আনাগোনা ছিলো প্রকাশ্যে। রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ প্রশাসন, পুলিশ ও রাজনৈতিক পরিচয়ে উপজেলার শতাধীক গরীব মানুষদেরকে সরকারী ঘর বরাদ্ধ, বয়স্ক ও বিধবা ভাতা এবং বিদ্যুতের মিটার দেয়ার নাম করে হাতিয়ে নিয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রঙে বিভিন্ন রূপে টার্গেট করা ব্যক্তিদের জীবন অতিষ্ট করে তুললেও শেষ রক্ষা হলো না।

লক্ষীপুরের রামগঞ্জে অবশেষে সেই ভয়ঙ্কর পরী বেগমকে গ্রেফতার করেছে রামগঞ্জ থানা পুলিশ। (৩০ জুন) মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির জাহানের কার্যালয় থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। গ্রেফতারের পর তাকে লক্ষীপুর জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন। পরীর গ্রেফতারের খবর সর্বত্র ছড়িয়ে পড়লে রামগঞ্জ উপজেলাব্যাপী ভুক্তভুগীরা স্বস্থি প্রকাশ করেছে। পরীর না জানা আরো অনেক অপকর্ম নিয়ে নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন ভূক্তভূগীরা। এদিকে স্থানীয়রা জানিয়েছেন ভয়ংকর ওই পরীকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার বিভিন্ন অপকর্মের নানান তথ্য বের হয়ে আসবে।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী কয়েকজন নারী ও গরীব মানুষরা জানান, শুধু নামেই নয় সুন্দর চেহারার অধিকারী পরী বেগম। কখনো উপজেলা নির্বাহী অফিসার কখনো মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আবার কখনো সমাজসেবা কর্মকর্তা সেজে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে পুরুষ, গ্রামের অবলা দরিদ্র অসহায় নারী ও কিশোরীদের ফাঁদে ফেলে নিজের ইচ্ছা মাফিক অর্থ আদায় করাই হলো এই পরীর কাজ।

Manual7 Ad Code

আর উঠতি বয়সের যুবক, চাকুরীজীবি, জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদসহ ব্যক্তিদের ফেইজবুকে আপত্তিকর চ্যাটিং বা মোবাইল ফোনে কথা বলে ট্রাপে ফেলেও প্রতারনার মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছে কয়েক লাখ লাখ টাকা।
অন্যদিকে ফোনে কথা বলে রুমমেট করার ফাঁদে ফেলে শিকার ধরতো ওই সুন্দরী পরী। পরীর মন হরন কথায় ফাঁদে পড়তেন এক শ্রেণীর পুরুষ বা মহিলা।

কিন্তু এ ফাঁদ যে কত ভয়ঙ্কর তা যখন টের পেতো তখন কিছুই করার আর থাকতো না ভূক্তভোগীদের। তার ওইসব অপকর্মকে শেল্টার দেয়ার জন্য রয়েছে উপজেলায় রয়েছে অঘোষিত একটি সিন্ডিকেট । যার ফলশ্রুতি ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি কখনো।

Manual1 Ad Code

এটা কোন কাল্পনিক কোন জ্বীন-পরীর গল্প না বা ডানাবিহীন পরীও না। জেলার রামগঞ্জের এক প্রতারক পরী বেগমের কথা বলছি। বেশ কয়েক মাস থেকে সে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জের এলাকা থেকে ওই পরী বেগমের নানান প্রতারনার খবর এখন টক অব দ্যা রামগঞ্জে পরিনত হয়েছে।

পরীর এহেন অশালীন ও প্রতারনার কর্মকান্ডের বিচারের দাবিতে ভূক্তভোগী শিরীন আক্তার নামে এক গৃহবধু একাধিক নারীর পক্ষে বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার রামগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী অফিসার মুনতাসির জাহানের বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

Manual5 Ad Code

খোজ নিয়ে জানা গেছে, পরী বেগম (প্রকাশ ফাতেমা আক্তার পরী) রামগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড নন্দনপুর গ্রামের উম্মেদ ভূঁইয়া বাড়ির চা দোকানী আলমগীর হোসেনের স্ত্রী। চা দোকানদার স্বামী আলমগীর বেশ কয়েকবার স্ত্রীর বেপরোয়া অনৈতিক কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করেও দফায় দফায় মারধরের শিকার হয়েছেন। পরীর ভাড়া করার লোক দিয়ে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে কয়েকবার।

পরী বেগম সম্প্রতি রামগঞ্জ উপজেলার চন্ডীপুর ইউনিয়নের বেচারাম বাড়ির শিরীন আক্তারসহ ২৩জন দরিদ্র অসহায় নারীর কাছ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পরিচয় দিয়ে বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, প্রতিবন্ধীভাতা, মাতৃত্বভাতা ও সরকারী বরাদ্ধে ঘর করে দেওয়ার নাম করে সহজ সরল মহিলাদের কাছ থেকে এক লক্ষাধীক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

এছাড়াও প্রতারক পরী বেশকয়েকদিন আগেও রামগঞ্জ পৌরসভার সাতারপাড়া গ্রামের মিয়া বাড়ির জেসমিন আক্তার কাছ থেকে ৩ হাজার, সুফিয়া বেগমের কাছ থেকে ৮হাজার, একই গ্রামের মিয়ার বাড়ির সোহাগী বেগমের কাছ থেকে ১০ হাজার, নাসরিন আক্তারের কাছ থেকে ৩০ হাজার, সুমা আক্তার ৭হাজার, আকলিমা আক্তার ৭হাজার, বাচ্চু মিয়ার কাছ থেকে ৬ হাজার সহ পাশ্ববর্তী আবদুল করিম বেপারী বাড়ির, জয়নাল আবেদিন বেপারী বাড়ির সহ অসংখ্য নারী-পুরুষের হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েক লক্ষ টাকা।

Manual8 Ad Code

এ ব্যপারে পরী বেগমের স্বামী আলমগীর হোসেন জানান, আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো মিথ্যা। শিরিন বেগম ইএনও অফিসে যে অভিযোগ করেছে তাও পুরোপুরি সত্য নয়। আমার স্ত্রীর সাথে কথা বলার সে জানায় শিরিন বেগম তাকে মাত্র ২হাজার ৫শত টাকা দিয়েছে। বাকী টাকা সে আত্মসাত করে আমার স্ত্রীকে দোষারোপ করছে।

এ ব্যাপারে রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুনতাসির জাহান জানান, ফাতেমা আক্তার পরীর বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের জন্য সমাজসেবা কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে পরীর বিরুদ্ধে বিধিমোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, আমরা পরী বেগমের বিরুদ্ধে একটি প্রতারনা অভিযোগ পেয়ে তদন্তে সত্যতা পেয়ে তাকে গ্রেফতার করেছি। তার বিরুদ্ধে প্রতারনা ও প্রশাসনের পরিচয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেলে লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারে প্রেরণ করেছি।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..