হবিগঞ্জে কনস্টেবল হওয়ার গল্প শুনিয়ে কাঁদালেন দুই বোন

প্রকাশিত: ২:৩২ অপরাহ্ণ, জুলাই ৮, ২০১৯

হবিগঞ্জে কনস্টেবল হওয়ার গল্প শুনিয়ে কাঁদালেন দুই বোন

Manual3 Ad Code

মা অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে দুই মেয়ে ও দুই ছেলেকে লালন পালন করেছেন। সংসারের ঘানি টানতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এলাকার মানুষের সহযোগিতা নিয়ে আরেক মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। চরম অভাবের মাঝে কখনও খেয়ে, আবার কখনও না খেয়ে কেটেছে দিন। মাকে কিছুটা শান্তি দিতে দুই বোনও মায়ের সঙ্গে ঝিয়ের কাজ করতেন। তবে এতকিছুর মাঝেও চালিয়েছেন পড়ালেখা। স্বপ্ন দেখেছেন ভালো একটা চাকরির। এবার সেই স্বপ্ন সত্যি হলো। মায়ের ওষুধ কেনার টাকার আর অভাব হবে না।

Manual1 Ad Code

কান্নাজাড়িত কণ্ঠে এসব কথা বলছিলেন আর চোখের পানি মুছছিলেন পুলিশে নিয়োগ পাওয়া হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমবাগ গ্রামের রিমা রাণী দেব ও তার ছোট বোন রুনা রাণী দেব।

বাবা দূর্গাচরণ দেব মারা গেছেন প্রায় ৭ বছর আগে। এরপর থেকেই ৩ মেয়ে, ২ ছেলেকে নিয়ে জীবন সংগ্রামে নামেন বাসন্তি রাণী দেব। প্রথমে আত্মীয়-স্বজন কিছুটা সহযোগিতা করলেও কিছুদিন পরই তা থেমে যায়। সংসার চালাতে নিজে অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ নেন। মানুষের কাছ থেকে সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে বড় মেয়েকে বিয়ে দেন। এবার একসঙ্গে দুই মেয়ের চাকরি হওয়ায় আনন্দে উদ্বেলিত বাসন্তি রাণী দেব।

Manual8 Ad Code

এ বছর সরকারি শিশু সদন থেকে এসএসসি পাস করা মো. শাকিল আহমেদেরও কনস্টেবল পদে চাকরি হয়েছে। বাবা কদর আলী মারা গেছেন ২০০৪ সালে। সংসারের ঘানি টানতে সংগ্রামে নামেন তার মা রহিমা খাতুন। বাড়ি সদর উপজেলার যমুনাবাদ গ্রামে। নিজে মাটি কাটার শ্রমিকের কাজ করতেন। আর তাই ছেলেকে দেন সরকারি শিশু সদনে। মাঝে মাঝেই তিনি দেখতে যেতেন। তখন ছেলে বাড়ি চলে যেতে চাইলে ধমক দিয়ে রেখে আসতেন। এবার বুঝি দুঃখ ঘুচবে তার।

এসব কথা বলার সময় চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করেন রহিমা খাতুন। তার কান্না দেখে অনেকেরই চোখে পানি এসে যায়।

Manual8 Ad Code

রোববার বিকেলে পুলিশ লাইনে কনস্টেবল পদে নিয়োগের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এ সময় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানান মনোনীতরা। তাদের বক্তব্যে অনুষ্ঠানস্থলে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি পুলিশ কর্মকর্তাসহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই।

Manual8 Ad Code

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা জানান, সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই চাকরি হয়েছে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কনস্টেবলদের। তারা প্রত্যেকেই অত্যন্ত মেধাবী। তা বলার কোনো অপেক্ষা রাখে না।

তিনি বলেন, পুলিশ তদন্তে নিয়োগপ্রাপ্তদের পারিবারিক অবস্থা দেখে আমি বিস্মিত হয়েছি। যাদের চাকরি হয়েছে তাদের অধিকাংশই অতিদরিদ্র। এত অভাব এবং প্রতিকূলতার মাঝেও তারা এমন মেধার স্বাক্ষর রাখতে পেরেছে তা সত্যিই প্রসংশার দাবিদার। আমি তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।

নিয়োগ কমিটির তথ্য থেকে জানা গেছে, হবিগঞ্জে গত ১ জুলাই শারীরিক বাছাই পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া পুলিশের ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হয় ৬ জুলাই মৌখিক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে। বাছাই প্রক্রিয়ায় ৩ হাজার ৬৩৪ জন অংশ নিলেও মৌখিক পরীক্ষা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেন ২১৬ জন। আর সব প্রক্রিয়া শেষে ৯৭ জনকে প্রাথমিকভাবে মনোনীত করা হয়। এরমাঝে ৫৮ জন পুরুষ ও ৩৯ জন নারী।

Sharing is caring!

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..