সিলেট ২৫শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৫ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ২:১১ অপরাহ্ণ, মে ১১, ২০১৯
এমনিতেই আয়তনের তুলনায় দেশে জনসংখ্যার চাপ বাড়ছে, তার মধ্যে এসেছে আরও ১০লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী। যাদের সিংহভাগই নারী। এসব রোহিঙ্গারা জন্ম নিয়ন্ত্রণে আগ্রহী নয়। ফলে তাদের এই ভাসমান জীবনেও থেমে নেই অরক্ষিত যৌন সঙ্গম। ফলে জন্ম নিচ্ছে হাজার হাজার শিশু। চাপ বাড়ছে বাংলাদেশের ওপর।
বন জঙ্গল উজাড় করে যেমন তারা হাজার কোটি টাকার সম্পদ বিনষ্ট করছে, তেমনি গণহারে শিশু জন্ম দিয়ে জনসংখ্যা বিস্ফোরণের এক মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলছে বাংলাদেশকে।
সরকারি হিসাবমতে, গত ২০ মাসে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে জন্ম নিয়েছে দেড় লক্ষেরও বেশি শিশু। আর বর্তমানে গর্ভবতী আছেন আরও ৩৫ হাজার নারী। তবে বেসরকারি হিসাবমতে এ সংখ্যা আরও বেশি।
কক্সবাজারে কর্মরত ইউনিসেফ এর এক কর্মকর্তা বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক আমাদের ঢাকা অফিসের জরিপ অনুযায়ী, গত ১ বছরে এ পর্যন্ত ৬০ হাজার নবজাতক জন্মগ্রহণ করেছে এখানে।
অন্যদিকে কক্সবাজার সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যমতে বর্তমানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গর্ভবতীর সংখ্যা ১৮ হাজার ৩৩২ জন। সে হিসাবে চলতি বছর শেষ হতেই বর্তমানে অবস্থানরত রোহিঙ্গার সঙ্গে যোগ হবে আরও প্রায় ১ লাখ রোহিঙ্গা। সেভ দ্য চিলড্রেন এর জরিপমতে দিনে প্রায় ১৩০টি করে রোহিঙ্গা শিশু জন্ম নিচ্ছে।
কক্সবাজার রোহিঙ্গা প্রতিরোধ ও প্রত্যাবাসন কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, অনেক ভয়ের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছি। রাতে ঘুম হয় না। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করলে কান্না আসে।
এই রোহিঙ্গা থেকে কীভাবে মুক্তি পাবে আমার প্রাণ প্রিয় অঞ্চল। পাহাড়-পর্বত জমি সব রোহিঙ্গাদের দখলে চলে গেছে। আর দিনের পর দিন তাদের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি নানা প্রকার অপরাধও বাড়ছে।
উখিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহাম্মদ বলেন, আমরা এখন নিজ শহরে বন্দি হয়ে বসবাস করছি। কারণ ইতিমধ্যে রোহিঙ্গাদের কারণে আমাদের বনভূমি, পাহাড়, জলাধার, রাস্তাঘাট, প্রাকৃতিক পরিবেশ এমনকি কর্মসংস্থানের পরিবেশও ধ্বংস হয়ে গেছে। এ ছাড়া দ্রব্যমূল্যের দামসহ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।
সেভ দ্য চিলড্রেনের মিডিয়া ম্যানেজার ইভান শারম্যান বলেন, ‘বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে ২০১৯ সালের মধ্যে ৬০/৭০ হাজার রোহিঙ্গা শিশু জন্ম নেবে, এমনটা ধারণা করছি আমরা। এসব রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানুষ এমনিতেই গাদাগাদি করে থাকছে। তারা জন্মনিয়ন্ত্রণে আগ্রহী নয়।
টেকনাফ ২১ নাম্বার ক্যাম্পের চাকমারকুল মেডিকেল ক্যাম্পে কর্মরত ডা. আয়েশা কবির বলেন, রোহিঙ্গা নারীদের মধ্যে সন্তান জন্মদানের প্রবণতা অনেক বেশি। আমার দেখা মতে, ২০ বছরের একজন রোহিঙ্গা মেয়ের ৩টি করে সন্তান আছে। তাদের পরিবার-পরিকল্পনার কথা বললেও তারা সহজে রাজি হয় না। বরং ডাক্তার-নার্সদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন।
এদিকে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে টেকনাফ পৌরসভার মেয়র হাজী ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গারা যখন বানের পানির মতো বাংলাদেশে ঢুকছিল, আমি তখনও বলেছিলাম- এরা সহজে যাবে না। কারণ আমার অনেক দিনের অভিজ্ঞতা।
আমি জানি রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসে আর যায় না। এখন তারা যে হারে সন্তান জন্ম দিচ্ছে, কয়েক বছর পর কী হবে সেটি একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। তবে এ সমস্যা সমাধান খুবই জরুরি।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd