গাড়ি ছিনতাই করতেই বিশ্বনাথের চালক কামরুলকে গলাকেটে খুন করে ঘাতকরা

প্রকাশিত: ৯:৪৪ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৮

গাড়ি ছিনতাই করতেই বিশ্বনাথের চালক কামরুলকে গলাকেটে খুন করে ঘাতকরা

Manual1 Ad Code
মো. আবুল কাশেম, বিশ্বনাথ থেকে :: সিলেটের বিশ্বনাথের সিএনজি অটোরিকশা চালক কামরুল ইসলাম (১৯)’কে দক্ষিণ সুরমা এলাকায় নিয়ে গলা কেটে হত্যার ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে জানায়, সিএনজি অটোরিকশা ছিনতাই করার জন্যই গাড়ির চালক কামরুল ইসলামকে গলা কেটে নির্মমভাবে খুন করা। আজ মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্বনাথ থানা কম্পাউন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য জানিয়েছেন থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) শামসুদোহা পিপিএম।
সংবাদ সম্মেলনে ওসি জানান, বিশ্বনাথ উপজেলার ভল্লবপুর গ্রামের নূর আলী প্রায় ৭ মাস পূর্বে একই উপজেলার আটঘর গ্রামের আমজাদ আলীর পুত্র নাজিম উদ্দিন নিজাম এর কাছ থেকে একটি সিএনজি (অটোরিকশা) গাড়ি ক্রয় করেন। নূর আলী গাড়িটি ক্রয় করার পর থেকে ভাড়ায় চালিয়ে আসছিল তার ভাগনা কামরুল ইসলাম। কিন্ত নূর আলীর কাছে গাড়িটি বিক্রি করার পর থেকে ওই গাড়িটি চুরি-ছিনতাই ফেরত নিতে পরিকল্পনা করে নাজিম উদ্দিন নিজাম। এরপর ঘটনার তিন দিন পূর্বে জগন্নাথপুর উপজেলার কেউনবাড়ী বাজারে বসে পরিকল্পনা নেয় নাজিম উদ্দিন নিজাম (২৪) ও উপজেলার আটঘর গ্রামের আবদুস সালাম (২৮)। এরপর কেউনবাড়ী বাজারস্থ একটি রেষ্টুরেন্ট থেকে চাকু, মিয়ারবাজারস্থ একটি দোকান থেকে হ্যান্ড গ্লাস ও স্থানীয় একটি দোকান থেকে কসটিব ক্রয় করে এবং সেই পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সিলেট থেকে বিদেশ যাত্রী আনার কথা বলে গত শনিবার (১৫ ডিসেম্বর) রাত ৮টায় মিয়ারবাজার থেকে কামরুল ইসলামের গাড়িটি ভাড়া করে সিলেটের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। এরপর তারা সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের রশিদপুরে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে বিদেশ যাত্রী না আসায় তারা পুনরায় মিয়ারবাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে বাগিছাবাজার পৌছলে সেখানে চালক কামরুল তার মামাতো ভাই (নূর আলীর পুত্র) জামিল আহমদকে দেখতে পায়। এসময় জামিল আহমদকে কৌশলে গাড়িতে তুলে তাকে পীরেরবাজারে নামিয়ে দেয় কামরুল। কামরুলকে নিয়ে ফের সিলেটের উদ্দেশ্যে যাত্র করে ঘাতক নাজিম উদ্দিন নিজাম ও আবদুস সালাম। এরপর সুযোগ বুঝে নির্জন স্থানে নিয়ে কামরুলকে হত্যা করে তার গাড়িটি ছিনতার করার লক্ষে সিলেট দক্ষিণ সুরমাস্থ বাইপাস রোডে অবস্থান করে সময় ক্ষেপন করতে থাকে নিজাম ও সালাম। একপর্যায়ে তারা গাড়িটি নিয়ে দক্ষিণ সুরমার লালাবাজার-জালালপুর রোডের বাঘেরখলা নামক স্থানে পৌছলে হঠাৎ করে গাড়িটি থেকে যায়। এসময় গাড়ি থেকে নেমে ড্রাইভার কামরুল গ্যাসের মিটারের লাইন চেক করতে থাকলে নিজাম ও সালাম পিছন দিক থেকে কামরুলকে ঝাপটে ধরে। তাদের ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে কামরুল কাদা মাটিতে পড়ে গেলে চাকু দিয়ে তার গলার শ্বাসনালী কেটে মৃত্যু নিশ্চিক করে নিজাম ও সালাম। এরপর সেখানে কামরুলের লাশ ফেলে রেখে তার চালিত সিএনজি অটোরিকশাটি ছিনতাই করে সিলেটের উদ্দেশ্যে পাত্রা করে ঘাতক নিজাম ও সালাম। পথিমধ্যে জালালাবাদ থানার তেমুখী-বাদাঘাট সড়কের সোনাতলা এলাকার একটি ডুবায় কাদামাখা জামাগুলো ফেলে দিয়ে সিলেট শহরের মদিনা মার্কেট এলাকার বাসিন্দা গাড়ি চোর চক্রের সদস্য হাবিবুর রহমান (৩০) এর কাছে গাড়িটি বিক্রি করে নিজাম ও সালাম।
ওসি জানান- নিহত কামরুলের মামাতো ভাই জামিল আহমদের তথ্যমতে গত রোববার সকালে নিহতের মামা নূর আলী বাদি হয়ে বিশ্বনাথ থানায় একটি অভিযোগ দিলে এর ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক জগন্নাথপুর থানার কেউনবাড়ী বাজার থেকে অভিযুক্ত আব্দুস সালামকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কামরুল ইসলামকে হত্যার কথা সালাম স্বীকার করলে তার তথ্যমতে অভিযুক্ত নাজিম উদ্দিন নিজামকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর সিলেট নগরীর মদিনা মার্কেটস্থ আল-মদিনা আবাসিক এলাকা থেকে হবিগঞ্জ জেলার নবিগঞ্জ থানার বনগাঁও গ্রামের আলফু মিয়ার পুত্র হাবিবুর রহমানকে আটক ও অটোরিকশা গাড়ি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দক্ষিণ সুরমার থানার বাঘেখলা গ্রামের একটি ফসলি জমির পানি থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত চাকু,ও হাত গ্লাস, জালালাবাদ থানার সোনাতলা বাজার এলাকার একটি ডুবা থেকে কাদামাখা জামা ও ঘাতক নাজিমের  বাড়ি থেকে কামরুলের ব্যবহৃত মোবাইল সেট উদ্ধার করে পুলিশ।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..