ওসমানী বিমানবন্দরে মুজম্মিলদের দৈনিক চাঁদাবাজির লাখ টাকা ভাগভাটোয়ারা

প্রকাশিত: ৯:০২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৭, ২০১৮

ওসমানী বিমানবন্দরে মুজম্মিলদের দৈনিক চাঁদাবাজির লাখ টাকা ভাগভাটোয়ারা

Manual7 Ad Code

আফজালুর রহমান, বিমানবন্দর থেকে :: দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হলো সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। নানা কারণে আর অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে সমালোচনায় আসে এই বিমানবন্দরটি। কিন্তু বর্তমানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহায়তায় বিমানবন্দরটি বেশ সুনাম অর্জন করলেও এই অর্জনে ছাই ঢালছে চাকরির সুবাদে নিয়োজিত কতিপয় অসাধু কয়েক কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে একজন বিমানবন্দরের আনসারের প্লাটুন কমান্ডার (পিসি) মুজম্মিল। তার বিরুদ্ধেও অভিযোগের শেষ নেই। বিমানবন্দরজুরে একক রাজত্ব কায়েম করেছেন তিনি। একাধিক ভুক্তভুগি হয়েছেন নানাভাবে হয়রানির শিকার। তার রাজত্ব আর একনায়কতন্ত্রে দিন দিন বেড়েই চলছে অবৈধপন্থায় অপকর্ম এবং অপরাধ কর্মকান্ড। এমনকি তার দেউলিয়াত্ব থেকে বাদ পড়ছেন না খোদ বিমানবন্দর এলাকায় নিয়োজিত বিভিন্ন শ্রেণির চাকরিপ্রাপ্তরা। চাকরি ঠিকিয়ে রাখতে মাসোহারাও দিতে হয় থাকে। অন্যথায় চাকরি চলে যাবে বলেও ভয়ভীতি পদর্শন করেন তিনি। তবে ভয়ে কেউই মুখ খুলতে পারছেন না।

Manual8 Ad Code

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান এমন কিছু তথ্য। যা জানেন না বন্দরের বড়কর্তারাও। গত ২ মাস পূর্বে দুজন আনসার সদস্যের চাকরির মেয়াদ গেলেও তারা মুজম্মিলকে বড় অঙ্কের টাকা দিয়ে বহাল রয়েছেন এখনো। গায়ে ইউনিফর্ম না থাকলেও তারা ভূয়া আইডি কার্ড ঝুলিয়ে নির্বিঘেœ চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের ডিউটি নামক অবৈধ কর্মকান্ড। মেয়াদ শেষ হলেও বিমানবন্দরে কাজ করার এতো উৎসাহী হওয়ার কারণ হিসেবে জানা গেছে, এখানে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা পেসেনঞ্জারদের কাবু করে বকশিস বা সাহায্য চেয়ে ডলার পাউন্ডসহ বিভিন্ন মুদ্রায় বাংলাদেশি হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়া। শুধু মুজম্মিলই নন এ রকম রয়েছেন আরো একজন সিকিউরিটি ইনচার্জ নজরুল।

Manual6 Ad Code

তাদের নেতৃত্বে আনসার সদস্যদের চাঁদাবাজি ও যাত্রী হয়রানী চরমে হয়ে ওঠেছে। দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ছে দেশের সিলেট এবং সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দুর্নাম ।

কোন বিদেশী বা প্রবাসী ওসমানী বিমানবন্দরে নামলেই আনসার সদস্যরা শুরু করে চাঁদাবাজি। ‘গীভ টেন রিয়াল, টুয়েন্টি পাউন্ট, থারটি ডলার, টুয়েন্টি দেরহাম যেন তাদের দৈনিক জপমালা। তাদের চাওয়া মত না দিলে বা দিতে না পারলে শুরু করে যাত্রীদের রকমফের হয়রানী। এবছর হ্জাারো প্রবাসী ও বিদেশী এহেন হয়রানীর শিকার হয়েছেন বলে দেশ-বিদেশ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে যাত্রীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি ও হয়রানীর মাধ্যমে অর্জিত অর্থের একটা বড় অংশ পেয়ে থাকেন পিসি মুজম্মিল ও সিকিউরিটি ইনচার্জ নজরুল।

Manual5 Ad Code

অভিযোগে প্রকাশ, ওসমানী বিমানবন্দরে অভ্যন্তরে যেসব আনসার সদস্যদেরকে চাঁদাবাজি ও যাত্রী হয়রানীতে নিযুক্ত রাখা হয়েছে তাদের কয়েকজন হচ্ছে, মো.ফেরদোস মিয়া, জাবেদ মিয়া, খোকন মিয়া, শিপন দাশ, হাবীব মিয়া, মন্টু পাল, দিলওয়ার হোসেন, বিতেন্দ্র পাল-সহ প্রায় ২৫ জন। এছাড়াও পিছি মুজম্মিল ও সিকিউরিটি ইনচার্জ নজরুল কর্তব্যকাজে ফাঁকি দেয়া অনুপস্থিত ্আনসার সদস্যদের কাছ থেকে গ্রহণ করে থাকেন প্রাপ্ত বেতনের নির্ধারিত কমিশন।

সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানর বন্দরস্থ আনসার ক্যাম্পে নারী-পুরুষ-সহ কর্তব্যরত আনসার সদস্য ১০৪ জন। সরকারীভাবে তাদের থাকার ব্যবস্থা থাকলেও এদের মধ্যে মাত্র ৫৪ জন আনসার সদস্য দৈনিক ডিউটি পালন করে থাকে। বাকি ৫০ জন নিজ-নিজ বাসা-বাড়িতে থেকেই দৈনিক ২শ’ টাকা করে বেতন-ভাতা গুনে থাকেন। আর বিনা কাজে প্রাপ্ত এই বেতন-ভাতার একটা অংশ তারা দিয়ে থাকে পিসি মুজহম্মিল ও সিকিউরিটি ইনচার্জ নজরুলকে।

আনসার সদস্যদের সবচেয়ে বেশি লাভজনক ডিউটি প্লেস হচ্ছে, ওসমানী বিমানরবন্দরের সামনের পার্কিং এরিয়া। এ স্থানে যাত্রীরা টাকা ছাড়া গাড়ি পার্কিং করতেই পারেন না। সরকারীভাবে নির্ধারিত পার্কিংস্থানে গাড়ি পার্কিং করতে যাত্রী ও চালকদের আনসার সদস্যদের দিতে হয় টাকা। এ টাকা হতে পার্কিংয়ে ডিউটিরত আনসার সদস্যরা পিসি মুজম্মিলকে দিতে হয় জনপ্রতি ৪ শ’ টাকা করে।

Manual6 Ad Code

সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ঢাকার মত ভিজিট পাসের ব্যবস্থা নেই। তাই যাত্রীছাড়া সঙ্গীয় অন্যেদের প্রবেশে রয়েছে সরকারি বাঁধা। নিরাপত্তাজনিত কারণেই এ নিষেধাজ্ঞা থাকলেও পিসি মুজম্মিল ও সিকিউরিটি ইচার্জ নজরুলের নেতৃত্বে কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা টাকার বিনিময়ে একেক যাত্রীর সাথে একাধিক সঙ্গী ও ভিজিটারদের প্রবেশ করিয়ে দেন। এতে করে ওসামনী বিমানবন্দরে সার্বিক নিরাপত্তা বিঘিœত হওয়ার সমূহ আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। আর এই সব চাঁদাবাজি থেকে প্রতিদিন উত্তোলিত লক্ষাধিক টাকা ভাগভাটোয়ারা করা হয় কতিপয় কয়েক কর্তাব্যক্তিদের মধ্যে।

এদের দৌরাত্ম থেকে রক্ষা পেতে এবং জনসচেতনতা তৈরী করতে ইতিপূর্বে একাধিক প্রবাসী ব্যক্তি বিভিন্ন মিডিয়া এবং সংবাদ কর্মীদের সাথে যোগাযোগ করেন। এবিষয়ে টের পেয়ে অভিযুক্তরা সংবাদ প্রকাশ না করতে বিভিন্ন সোর্স মাধ্যমে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করেন। এমনকি তাদের অনিয়ম দূর্নীতির বিরুদ্ধে যাতে কোন প্রকার অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ করা না হয়, সে জন্য তারা তাদের অপকর্ম সম্পর্কে অবগত এমন এক ব্যক্তিকে জড়িয়ে সিলেটের স্থানীয় একটি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন ছাপিয়েছে।

অভিযোগের ব্যাপারে পিসি মুজম্মিল ও সিকিউরিটি নজরুলের সাথে মুটোফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা অনিয়ম-দূর্নীতি ও চাঁদাবাজির সকল অভিযোগ অস্বীকারের মধ্য দিয়ে মূল বিষয়টি এড়িয়ে যান। এছাড়া এব্যাপারে আলোচনার জন্য প্রতিবেদকের কাছে সময় চান তারা।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..