সিলেট ২৬শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৬ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৪, ২০১৮
ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : ‘ক্রাইম জোন’ কুরুয়ায় লাশ হলেন ইয়ালিছ মিয়া। গুরুতর আহত হলেন সিলেটের ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান। ক্রাইম জোনের নিয়ন্ত্রক আনহারের নেতৃত্বে তাদের উপর্যুপরি কুপিয়ে খুন ও আহত করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওসমানীনগরে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলের অদূরে পুলিশ থাকলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেয়ায় ক্ষোভ আরো বাড়ছে। এদিকে গত তিন দিনেও খুনিরা গ্রেপ্তার হয়নি। পুলিশ বলছে- খুনিদের ধরতে একাধিক অভিযান চালালেও তাদের পাওয়া যায়নি।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগরের কুরুয়া এলাকা। বড় একটি বাস স্টপেজ, জনাকীর্ণ এলাকা এটি। ওই এলাকায় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নামে কিছু সন্ত্রাসী বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল। তাদের কর্মকাণ্ডে কুরুয়া এলাকা পরিণত হয় অন্যতম ক্রাইম জোনে। ওই এলাকার আনহার আলীর নেতৃত্বে একটি চক্র রাত হলেই ছিনতাই, মাদক বিক্রি, অসামাজিক কাজের আস্তানা গড়ে তুলে। এ কারণে সন্ধ্যা নামলেই ভয়ে কেউ এলাকায় যেতেন না। ওসমানীনগর থানা পুলিশ জানতো ওই ক্রাইম জোনের কথা।
এর আগেও তারা একাধিকবার আনহারের আস্তানায় হানা দিয়ে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বরং রাজনৈতিক শেল্টারে অপরাধে আরো বেপরোয়া ছিল। আর ওইসব অপরাধীর সঙ্গে পুলিশের সখ্য থাকার কারণে ভয়ে এলাকার মানুষ কেউ প্রতিবাদ করতেন না। তবে এলাকার রাঘবপুর গ্রামের কিছু মানুষ ছিলেন এর প্রতিবাদী। তাদের অপরাধ কর্মকাণ্ডের নানা বিষয় নিয়ে অতীতেও দ্বন্দ্ব প্রকট হয়েছিল। পুলিশি হস্তক্ষেপে দ্বন্দ্ব প্রশমিত হয়েছিল। কিন্তু ক্রাইম জোনের নিয়ন্ত্রকরা গ্রেপ্তার না হওয়ার কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছিল না।
স্থানীয় রাঘবপুর গ্রামের লন্ডন প্রবাসী রুয়েল মিয়া কয়েক মাস আগে ছুটি কাটাতে নিজ বাড়িতে আসেন। তিনি আসার পর ক্রাইম জোনের নিয়ন্ত্রকদের কর্মকাণ্ডে প্রতিবাদী হয়েছিলেন। এ নিয়ে গত ২৭ তারিখ সন্ধ্যায় তার সঙ্গে স্থানীয় কুরুয়া বাজারে ক্রাইম জোনের নিয়ন্ত্রক আনহার আলীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। পরে স্থানীয় লোকজন সেটি মীমাংসা করে দেন। ঘটনার পরদিন সকালে রুয়েল মিয়া লন্ডন যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এর মধ্যে রাতে তাকে বিদায় জানাতে সিলেট থেকে যান রুয়েলের বন্ধু কামরুজ্জামান। এ সময় সঙ্গে ছিলেন রুয়েলের আত্মীয় ইয়ালিছ মিয়া। রাত ১টার দিকে নিজস্ব গাড়ি নিয়ে তারা কুরুয়া বাজারের কাছে ইসলাম ফিলিং স্টেশনের কাছে চা খেতে নামেন। এ সময় ক্রাইম জোনের নিয়ন্ত্রক আনহার আলীর নেতৃত্বে বশির, জামাল খান, কামাল খান ও কামরুল খান তাদের ওপর দা, রামদা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় তারা উপর্যুপরি কুপিয়ে ঘটনাস্থলেই খুন করে ইয়ালিছ মিয়াকে। তাদের হামলায় গুরুতর আহত হন সিলেটের ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা এখনো আশংকাজনক।
ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার মাথার অনেক জায়গা কেটে গেছে। এ সময় তারা কামরুজ্জামানের পায়ের রগও কেটে ফেলে। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছিল কামরুজ্জামানের। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তাররা জানিয়েছেন, কামরুজ্জামানের অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক। গতকাল তার মাথায় ও পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনার পর স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। পরে ওসমানীনগর থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
এদিকে খুনের ঘটনায় শনিবার রাতে ওসমানীনগর থানায় মামলা করেছেন নিহত ইয়ালিছ মিয়ার ভাই ফারুক মিয়া। তিনি মামলায় আসামি করেছেন নিজ কুরুয়া গ্রামের সাহিদ উল্লাহর ছেলে আনহার আলী, আবদুল লতিফের ছেলে বশির, খাপন খালপাড় গ্রামের জামাল খান, কামাল খান ও কামরুল খানকে। ঘটনার পর পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ ও সিলেটের বাগবাড়ি এলাকায় অভিযান চালালেও কাউকে পায়নি। আসামি সবাই এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ বলে জানিয়েছেন মামলার বাদী।
ওসমানীনগর থানার ওসি আলী মাহমুদ গতকাল বিকালে জানিয়েছেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি অভিযান চালানোও হয়েছে। তিনি বলেন, ওই সময় ঘটনাস্থলের কাছাকাছি তাদের পুলিশ দল থাকলেও ঘটনাটি জানতো না। এ কারণে পুলিশ যায়নি। পরে তিনি ফোন করে পুলিশ পাঠিয়েছেন। কুরুয়া এলাকায় কোনো ক্রাইম জোন থাকবে না। পুলিশ সব অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনবে। যারা খুনের সঙ্গে সম্পৃক্ত তাদের কোনো ভাবেই ছাড় দেয়া হবে না বলে জানান তিনি।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd