সিলেট ২৬শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৬ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৫:১০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২, ২০১৮
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটের বিশ্বনাথের লামাকাজী ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়া ও ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার আবুল কালামের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। এসময় স্থানীয় লোকজন আবুল কালাম মেম্বার এবং তার বড় ভাই আব্দুস ছালাম ও ছোট ভাই আব্দুল কাদিরকে গণধোলাই দিয়ে থানা পুলিশে সোপর্দ করেছেন। রোববার (২ডিসেম্বর) দুপুরে স্থানীয় লামাকাজী বাজার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়া ও পরিষদের অন্যান্য সদস্যদের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছে পরিষদের আবুল কালামের। উক্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে আবুল কালামকে বরখাস্তও করা হয় এবং পরবর্তি বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার হয়। এরপর পরিষদের সচিবের দায়েরকৃত একটি মামলায় কারাবরণ করেন আবুল কালাম। গত ২৫ নভেম্বর চেয়ারম্যান ধলা মিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সভা আহবান না করেন। ওই সভায় কর্মসৃজনের কয়েকটি প্রকল্প অনুমোদন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে দাখিল করা হয়। একটি প্রকল্পের সভাপতি করা হয় মেম্বার আবুল কালামকে। আবুল কালামকে না জানিয়ে প্রকল্প অনুমোদন করায় মেম্বার আপত্তি উত্থাপন করেন এবং গত ২৮ নভেম্বর পরিষদে গিয়ে সচিব জিয়াউল হককে অশালিন কথাবার্তা বলেন আবুল কালাম। এবিষয়টি চেয়ারম্যানকে সচিব অবহিত করলে আজ রোববার পরিষদে জরুরী সভা অনুষ্টিত হয়। সভায় চেয়ারম্যান সাথে মেম্বার আবুল কালামের বাকবিতন্ডা শুরু হলে পরিষদের অন্যান্য সদস্যদের অনুরোধে সভা মুলতবি করেন চেয়ারম্যান। সভা শেষে চেয়ারম্যান একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় পরিষদ থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে পরিষদ থেকে বের হয়ে লামাকাজী পয়েন্টে যাওয়া মাত্র চেয়ারম্যানের গাড়ির গতি রোধ করে তাকে ঝাপটে ধরেন আবুল কালাম। এসময় তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হলে স্থানীয় লোকদের রোশানলে পড়েন আবুল কালাম। এসময় চেয়ারম্যানের অনুসারীরা আবুল কালামকে গণধোলাই দিয়ে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে আবুল কালামের বড় ভাই আব্দুস ছালাম ও ছোট ভাই আব্দুল কাদির ঘটনাস্থলে আসলে তাদেরকেও গণধোলাই দেওয়া দিয়ে আটকে রাখা হয়। এরপর তাদের তিনজনকে থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়। রোববার রাত ১০টায় এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ইউপি সদস্য আবুল কালাম ও তার দুই ভাই থানায় পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন বলে জানা যায়।
এব্যাপারে চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়া বলেন- পরিষদের জরুরী সভা শেষে ফেরার পথে আবুল কালাম মেম্বার তার ওপর হামলা করে পকেটে থাকা নগদ ৫০হাজার টাকা লুট করে। এঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান।
তবে আবুল কালাম মেম্বার তার উপর আনিত সকল অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে বলেন- চেয়ারম্যান’সহ ৫জন ব্যক্তি আমাকে অপহরণ করে নিয়ে যেতে চাইলে তাদের সঙ্গে আমি ধস্তাধস্তি করে গাড়ি থেকে নেমে পড়ি। এসময় চেয়ারম্যান ও তার অনুসারীরা আমার উপর হামলা চালায়। আমাকে বাঁচাতে আমার দুই ভাই এগিয়ে আসলে তাদেরকেও মারপিট করা হয়।
এব্যাপারে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) শামসুদ্দোহা পিপিএম বলেন- ঘটনার খবর পেয়ে ইউপি সদস্য আবুল কালাম ও তার দুই ভাইকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। তারা পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন, তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd