মো. আবুল কাশেম, বিশ্বনাথ :: সারা দেশে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। গত রবিবার সকাল থেকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রার্থীদের মধ্যে দলীয় চিঠি প্রদান করা হয়। এতে সিলেট জেলার ৬টি আসনের মধ্যে ২টি আসনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা কিংবা চিঠি প্রদান করা হয়নি। সিলেট-২ ও ৫ আসনে আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি। তবে এ দুটি আসন জাতীয় পার্টির জন্য রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফলে রবিবার সকাল থেকে গতকাল সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সিলেট-২ আসনের দলীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে শুরু হয় কানাঘোষা। শেষ পর্যন্ত কি লাঙ্গল প্রতীক ও ধানের শীষের মধ্যে লড়াই হবে? সিলেট-২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের অনুসারীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ আসনে নৌকা প্রতীক দেওয়ার দাবিতে দুটি বলয়ের নেতারা সোমবার দুপুরে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভও করেন। বর্তমানে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে হায়-হতাশ বিরাজ করছে। তারপর তারা আসা ছাড়তে নারাজ। শেষমেশ নৌকা প্রতীকে এ আসনে নির্বাচন হওয়ার স্বপ্নও দেখছেন তারা। তার জন্য হয়ত আরো দু’একদিন অপেক্ষা করতে হবে। মহাজোটের প্রার্থী কারা হচ্ছেন- তা জানতে হয়তো কাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
এদিকে, সিলেট-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী তাহসিনা রুশদি লুনার নাম ঘোষণা হওয়ায় স্থানীয় বিএনপি নেতারা খুশি। এ আসনে বর্তমানে বিএনপি নেতারা অনেকটা ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন। ভোটের মাঠে লাঙ্গল প্রতীকের সঙ্গে ধানের শীষের লড়াই হবে এমনটাই ধারণা তাদের মাঝে। ফলে স্থানীয় অনেক বিএনপি নেতারা রয়েছে ফুরফুরে। লাঙ্গল প্রতীক হলে এ আসনে ধানের শীষের বিজয় সম্ভাবনা রয়েছে বিএনপি নেতারা মনে করছেন। তবে এখনো বিজয় নিশ্চিত বলতে নারাজ তারা। জোটগতভাবে এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন হবে বলে তারা জানান।
অপরদিকে, দলীয়ভাবে সোমবার বিকেলে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া। জাতীয় পার্টি মনে করছে, যেহেতু এ আসনে আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষনা হয়নি, এতে আমাদের লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী এ আসনে নির্বাচন করবেন বলে আশাবাদী। এতে দলীয় নেতাকর্মীরা কিছুটা উজ্জীবিত রয়েছেন। এ আসনে প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়াই করে জয়লাভ করতে হবে। ফলে কিছুটা বেকায়দায় রয়েছে জাপা। তবে তাদের বিশ্বাস গতবারের মতো এবারও ফের লাঙ্গল প্রতীকের বিজয় হবে।
জানা গেছে, সিলেট-২ আসন (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী কে হচ্ছেন- এ নিয়ে দুই উপজেলা জুড়ে গত কয়েকদিন ধরে চলছিল সরব আলোচনা। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন দলের কর্মী ও সমর্থকরা। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী দলীয় মনোনয়ন পেতে বেশ তৎপর ছিলেন।
আওয়ামী লীগ থেকে এ আসনে আরো চারজন মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টি থেকে বর্তমান সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির যুগ্ম-মহাসচিব ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া আবারও মহাজোটের প্রার্থী হতে জোর লবিং চালান। গত দুইদিন ধরে মহাজোটের মনোনয়ন প্রত্যাশী তিন চৌধুরীকে ঘিরেই চলছিল নানান-হিসাব-নিকাশ। শেষ পর্যন্ত কে হচ্ছেন মহাজোটের প্রার্থী।
তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা দাবি করে আসছিলেন এবার এ আসনে নৌকা প্রতীক পাওয়া যাবে। আর জাতীয় পার্টি দাবি করেছিল লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন হবে। এ নিয়ে গত কয়েকদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঝড় উঠে। রবিবার আওয়ামী লীগ তাদের দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করে। এতে সিলেট-২ আসনে আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি। ফলে জাতীয় পার্টি অনেক নিশ্চিত তারা মহাজোটের প্রার্থী হয়ে এ আসনে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে আবারও নির্বাচন করতে যাচ্ছেন।
এ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শফিকুর রহমান চৌধুরী কিংবা যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী জোর তৎপরতা শুরু করেছিলেন। তারা দুইজনই নৌকা প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহ প্রকাশও করেন।
আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী দেশে এসে বিশাল শোডাউন করেন। শফিকুর রহমান চৌধুরী নির্বাচন তফসিল ঘোষণার আগ থেকে এলাকায় নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেন। এলাকায় তার উপস্থিতিও ছিল সরব। দুটি উপজেলায় শফিক চৌধুরী ও আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর অনুসারী রয়েছে। দলীয় মনোনয়ন ফরম জমাকালে তাদের অনুসারীরাও ঢাকায় আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান করতে দেখা যায়।
আর তাই আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের নমিনেশন পেতে প্রার্থীদের মধ্যে মাঠে ময়দানে তীব্র লড়াই শুরু হয়েছিল। শেষ মুহূর্তে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা না হওয়ায় তারা অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েন।
এ ব্যাপারে উপজেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম-আহবায়ক একেএম দুলাল বলেন, উন্নয়ন ও এলাকার শান্তির লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক রাস্টপ্রতি হোসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সিলেট-২ আসনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে ইয়াইয়া চৌধুরী এহিয়াকে মনোনীত করবেন বলে আমরা আশাবাদী। সিলেট-২ আসনে আবারও মহাজোটের প্রার্থী নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে। মহাজোটের স্বার্থে আওয়ামী লীগ নেতারাও লাঙ্গল প্রতীকের পক্ষে কাজ করবেন ও ভোট দিবেন এবং এ আসন ফের মহাজোট প্রার্থী বিজয়ী হবেন বলে আশাবাদী।
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবদুল হাই বলেন, দীর্ঘদিন পরে ভোটের মাধ্যমে এমপি নির্বাচনের সুযোগ হয়েছে। তাই দলীয় নেতাকর্মীরা কিছুটা খুশি। তবে এ আসনে প্রতিপক্ষ প্রার্থীকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হলে বিপুল ভোটে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী তাহসিনা রুশদির লুনা (ভাবী) জয়ী হবেন বলে তিনি আশাবাদী।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব পংকি খান বলেন, নৌকা প্রতীক না পাওয়ায় নেতাকর্মীরা হতাশ হয়েছেন। অনেকের মধ্যে ক্ষোভও বিরাজ করছে।