সিলেট ২৬শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৬ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৪:০০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৬, ২০১৮
স্টাফ রিপোর্টার :: ছোট বেলা থেকেই আইনের শাসন আর ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখতেন ইসরাত জাহান কলি। সে স্বপ্ন পূরণে ২০১১ সালে ভর্তি হন সিলেটের প্রথম বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় লিডিং ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগে। অদম্য আস্থা, অধ্যবসায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনুপ্রেরণায় তাকে পৌঁছে দিয়েছে কাংখিত স্থানে। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের একজন সহকারী জজ হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন। ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জুডিসিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় মেধা তালিকায় ৪২তম স্থান অধিকার করেন তিনি।
দেশ বরেণ্য শিল্পপতি, মানব কল্যাণমূলক অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা দানবীর ড. রাগীব আলী প্রতিষ্ঠিত লিডিং ইউনিভার্সিটির ১৩ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান কলি। এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৫ সালে এলএলবি অনার্স এবং ২০১৬ সালে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ২০১৭ সালের এপ্রিলে একাদশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের লিখিত পরীক্ষায় এবং একই বছরের ডিসেম্বরে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বরে প্রকাশিত ফলে তার কৃতকার্যের খবর বের হয়। গত ১৯ নভেম্বর সরকারের আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তার নিয়োগ এবং ২৬ নভেম্বরের মধ্যে কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশনা দেয়া হয়। নিজ জেলার পার্শ¦বর্তী একটি জেলায় সহকারী জজ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন তিনি। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ পরিপত্র জারী করেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিচার শাখা-১ এর উপ-সচিব (প্রশাসন-১) মো: মাহবুবার রহমান সরকার। এতে সর্বমোট ১৪৩ জনকে সহকারী জজ (শিক্ষানবিশ) হিসেবে পদায়নের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
মেধাবী মুখ ইসরাত জাহান কলি হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের ছয়শ্রী গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতা আবুল কালাম শামসুদ্দিন একজন ব্যবসায়ী এবং মা লুৎফুন্নেসা বেগম একজন স্কুল শিক্ষিকা। শিক্ষা জীবন সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথে কর্মজীবনের প্রথম পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফল অর্জিত হওয়ায় তার পরিবারে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। পাশাপাশি লিডিং ইউনিভার্সিটির শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীরাও তাদের শিক্ষার্থীর ভাল খবরে উচ্ছ্বসিত। লিডিং ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ মনে করছেন, তার ভাল ফলাফল এ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
ইসরাত জাহান কলি চুনারুঘাটের আমুরোড উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে এসএসসি এবং সিলেট সরকারী মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। উভয় পরীক্ষাতেই তিনি জিপিএ-৫ লাভ করেন। তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়। তার বোনদের মধ্যে একজন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে অনার্স সম্পন্ন করে বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং অপরজন এমসি কলেজে অনার্স কোর্সে অধ্যয়নরত। একমাত্র ভাই হবিগঞ্জের সরকারী বৃন্দাবন কলেজে অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।
ভাল ফলাফলের জন্য ইসরাত জাহান কলি লিডিং ইউনিভার্সিটির ল’ বিভাগের শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত এবং নিয়মিত পাঠদান এবং শিক্ষকদের নিবিড় তত্বাবধান তার অগ্রগতির সহায়ক হিসেবে কাজ করেছে বলে জানান তিনি। আইন বিষয়ে আরো উচ্চতর ডিগ্রী লাভের ইচ্ছা তাঁর। বিচারিক কাজে সফলতার জন্য তিনি সকলের দোয়া চেয়েছেন।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd