সিলেট ২৬শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৬ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ১:০৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৬, ২০১৮
ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : ঘুষ কেলেঙ্কারির ঘটনায় বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানার এসআই দ্বীপায়ন ও বকশী কনস্টেবল সুকান্ত ক্লোজড হওয়ার পর একই মামলায় এসআই শামীম’র বিরুদ্ধে ১৮ হাজার টাকা ঘুষ নেয়ার বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। রবিবার বরিশাল পুলিশ লাইনে ডিঅ্যান্ডপিএস শাখার ইন্সপেক্টর হেলাল উদ্দিন ওই তদন্ত শুরু করেন।
জানা গেছে, ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার ঢাপড় গ্রামের ইব্রাহীম মানিক বাদী হয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি নালিশী অভিযোগ দায়ের করলে আদালত বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানাকে এজাহার হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেন। বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানার মামলা নং-৬৯, তারিখ-২৮/৩/১৮ ও জি/আর-১৮২/১৮। এ তদন্তকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত হন এসআই দ্বীপায়ন।
তিনি মামলা ফাইনাল দেয়ার কথা বলে আসামি মাওঃ কামাল হোসেন’র কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। মাওঃ কামাল ওই টাকা দিতে রাজী হননি। এরপর গত ৫/৭/১৮ তারিখ মাওঃ কামাল এসআই দ্বীপায়নের কাছে মামলার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি সকল আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়ার কথা বলেন। পরবর্তীতে এসআই দ্বীপায়ন কনস্টেবল সুকান্তের মাধ্যমে মাওঃ কামাল হোসেনকে বরিশাল পুলিশ লাইনের সামনে কুটুমবাড়ি নামক রেস্টুরেন্টে দেখা করতে বলেন।
গত ১১/৭/১৮ তারিখ দুপুর সাড়ে ১২টায় মাওঃ কামাল ওই রেস্টুরেন্টে দেখা করতে এলে মামলার ধারা কমিয়ে দেয়ার কথা বলে এসআই দ্বীপায়নের জন্য ১০ হাজার ও সুকান্ত তার নিজের জন্য ২ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। এ ঘটনা সাংবাদিক মু: মনিরুজ্জামান মুনির কৌশলে তার মোবাইলের গোপন ক্যামেরায় ধারণ করেন। ঘুষ চাওয়ার ভিডিও ১২/৭/১৮ তারিখ বরিশাল থেকে প্রকাশিত অনলাইন পত্রিকা বরিশাল ক্রাইম নিউজ ডট কমে প্রকাশ করা হলে ওইদিন রাতেই এসআই দ্বীপায়ন ও কনস্টেবল সুকান্তকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়।
এরপর মামলাটি পুনরায় তদন্তের জন্য কোতোয়ালী মডেল থানার এসআই শামীমকে দায়িত্ব দেয়া হয়। তদন্তভার পাওয়ার পর এসআই শামীমও মামলা ফাইনাল দেয়ার কথা বলে আসামি মাওঃ কামাল হোসেনের কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। এদিকে মাওঃ কামাল বাকেরগঞ্জের ওসি মাসুদুজ্জামানের মাধ্যমে তদ্বীর করলে তিনি এসআই শামীমকে ফোন করে ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে মামলা থেকে অব্যাহতি দিতে বলেন।

ওসি মাসুদুজ্জামানের কথামত এসআই শামীম মাও: কামালকে ফোন দিয়ে দেখা করতে বলেন। মাও: কামাল হোসেন গত ২০/৭/১৮ তারিখ বিকেলে সাগরদী মেসার্স ডোস্ট ট্রেডার্স পেট্রোল পাম্পের নিকট সাংবাদিক মু: মনিরুজ্জামান মুনিরের স্ত্রী শাহনাজ আক্তার মুক্তা, ছেলে মাসুদুজ্জামান মিতুল ও মেয়ে মাইশা জামান মৌরীনকে সাথে নিয়ে দেখা করেন। তখন এসআই শামীম শাহনাজ আক্তার মুক্তার নিকট হতে নগদ ৫ হাজার টাকা গ্রহণ করার পরও মাও: কামাল হোসেনকে আটক করেন। ওইসময় এসআই শামীম তাকে ছেড়ে দেয়ার জন্য ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করলে মাও: কামাল হোসেন তার পকেটে থাকা ১০ হাজার টাকা তাকে দেন বলে তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন।
এর পরেও মাও: কামাল হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে যান এসআই শামীম। পরবর্তীতে মাও: কামাল হোসেনকে একদিনের রিমান্ডে এনে গত ৮/৯/১৮ তারিখ তার স্ত্রী আফরোজা বেগমের নিকট হতে ৩ হাজার টাকা নেন এসআই শামীম। যা মিলিয়ে এসআই শামীম মাও: কামালের কাছ থেকে মোট ১৮ হাজার টাকা ঘুষ নেন। পরে মাও: কামাল হোসেন জামিন লাভ করার পর গত ৮/৯/১৮ তারিখ আইজিপি’স কমপ্লেইন সেলে অভিযোগ দায়ের করেন। উক্ত অভিযোগ তদন্তের জন্য ইন্সপেক্টর হেলাল উদ্দিনকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয়। এর প্রেক্ষিতে গতকাল রোববার মাওঃ কামাল হোসেন, সাংবাদিক মু: মনিরুজ্জামান মুনির ও মাও: কামাল হোসেনের স্ত্রী আফরোজা বেগম সাক্ষ্য দেন তার কাছে।
এ বিষয়ে অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘‘এসআই শামীমের বিরুদ্ধে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ তুলে আইজিপি’স কমপ্লেইন সেলে একটি অভিযোগ দায়ের করেন মাও: কামাল হোসেন। ওই অভিযোগের দায়ীত্ব দেয়া হয় আমাকে। যার তদন্ত চলমান।”
ঘটনার বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার এসআই শামীমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘যে কেউই আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে পারেন। অভিযোগ দিয়ে থাকলে তা তদন্ত করে দেখবে কর্তৃপক্ষ। তদন্তে যদি সত্যতা প্রকাশ পায় তাহলে কর্তৃপক্ষ আমাকে যে শাস্তি দিবে তা আমি মেনে নিবো।” তিনি আরও জানান, ‘‘মাওলানা কামাল হোসেন (অভিযোগকারী) একজন খারাপ লোক, তিনি যে আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলতে পারেন তা আগেই আন্দাজ করেছিলাম। আমি মাওলানা কামাল হোসেনকে আটক করে জেল-হাজতে পাঠিয়েছি। যে কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলতে পারেন।”
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd