অনির্বাচিত সরকারের অধিনে আমরা নির্বাচন চাইনা : জাপা মহাসচিব

প্রকাশিত: ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৬, ২০১৮

অনির্বাচিত সরকারের অধিনে আমরা নির্বাচন চাইনা : জাপা মহাসচিব

Manual2 Ad Code

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : সম্মিলিত জাতীয় জোটের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সংলাপ অত্যন্ত সফল ও আলোচনা সন্তোষজনক হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার।

সোমবার সংলাপ শেষে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানী অফিসে এক ব্রিফিং এ তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। সংলাপকালে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আট দফা প্রস্তাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, সংলাপে আমরা অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কথা বলেছি। তবে, নির্বাচন অবশ্যই সংবিধানের আলোকে হতে হবে।

Manual2 Ad Code

তিনি বলেন কোনো অনির্বাচিত সরকারের অধিনে আমরা নির্বাচন চাইনা। কারণ ১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের তথাকথিত অনির্বাচিত সরকার লেভেলপ্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া ওয়ান-ইলেভেনের অনির্বাচিত সরকার মাইনাস টু ফর্মুলায় দেশের শীর্ষ নেতাদের রাজনীতির মাঠ থেকে বিতাড়িত করতে চেয়েছে।

একটি দলীয় বা জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের অধীনে যে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে আমরা তার প্রতিশ্রুতি চাই এবং বাস্তবে তার প্রতিফলন আশা করি, বলেন তিনি।

জাপা মহাসচিব বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য বর্তমান সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি সর্বদলীয় অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রস্তাব করেছি। নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনীকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েন করার প্রস্তাব করেছি। তবে তাদের হাতে বিচারিক ক্ষমতা থাকবে না। ২০০১ সালের নির্বাচনের তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকেই আমরা এই প্রস্তাব করেছি।

Manual1 Ad Code

তিনি বলেন, নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে সরকারের পক্ষ থেকেও প্রস্তাব রাখার প্রস্তাব করছি।

আমাদের একটি সংস্কার কর্মসূচির প্রস্তাব আছে। সেটা হচ্ছে- প্রাদেশিক ব্যবস্থা প্রবর্তন। দেশের সচেতন মানুষ মাত্রেই এই প্রস্তাব সমর্থন করেন। একজন প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে এই ১৭/১৮ কোটি মানুষের দেশ পরিচালনা করা কষ্টসাধ্য ব্যাপার। এই প্রতিশ্রুতি প্রত্যাশা করি আগামী সংসদে আমরা এই প্রাদেশিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের আইন পাশ করবো।

Manual7 Ad Code

তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের নিশ্চয়তা দেওয়ার পর কে নির্বাচনে আসবে বা কে আসবে না তা দেখার কোনো অবকাশ নেই।

Manual7 Ad Code

ব্রিফিংয়ের শেষ মুহুর্তে এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে, সারপ্রাইজ আসতে পারে।

তিনি আরও বলেন ,আলোচনা একটি চলমান প্রক্রিয়া, আমাদের প্রেসিডিয়ামে আলোচনা শেষে আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি ছোট্ট পরিসরে আলোচনা করব এবং দলের চেয়ারম্যান সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণের বিষয় উল্রেখ করে তিনি বলেন, সংলাপ শেষে প্রধানমন্ত্রীকে মধ্যাহ্নভোজ অথবা নৈশভোজে অংশ নিতে তার বাসভবনে পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী সময়-সুযোগ মতো এই আমন্ত্রণে অংশ নেবেন বলেও জানান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, সুনীল শুভ রায়, এসএম ফয়সল চিশতী, সুলেয়মান আলম শেঠ, আতিকুর রহমান আতিক, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব এমএ মতিন, জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজু, ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর, নুরুল ইসলাম নুরু, সংসদ সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ইয়াহ ইয়াহ চৌধুরী এমপি, অধ্যাপক নুরুল ইসলাম মিলন এমপি, আমির হোসেন ভূঁইয়া এমপি, যুগ্ম মহাসচিব মোস্তাকুর রহমান মোস্তাক, দিদারুল কবির দিদার, মো. নোমান মিয়া।

Sharing is caring!

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..