সিলেট ২৬শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৬ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ২:৩৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৮, ২০১৮
ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : ১৫ মার্চ,মগবাজার মোড় থেকে কিছুটা সামনে রাস্তাটা বাঁক নিয়ে সিদ্ধেশ্বরীর দিকে গেছে। একটি স্মার্ট ছেলেকে এমন ভঙ্গীতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়যায় যেন সে কারও অপেক্ষায় আছে। সাংবাদিকতা করি বলেই হয়তো অনেক কিছুই এড়িয়ে যেতে পারিনা। খবরের সন্ধানে ব্যপ্ত থাকি অহর্নীশি।কিছুটা দুরে গিয়ে দাঁড়ালাম এবং লক্ষ্য করতে থাকলাম। ছেলেটির পরনে নেভী ব্লু প্যান্ট, সাদা গেঞ্জি, কাঁধে একটি ব্যাগ। তার শরীর থেকে ভেসে আসছিল উগ্র পারফিউমের ঘ্রাণ। বারকয়েক কথা বললো মোবাইলফোনে। সময় তখন রাত ৯ টা প্রায়। দেখেই মনে হয়েছিল নির্ধারিত কারো জন্য অপেক্ষা করছিল সে।

কিছুক্ষন পরেই একটি ব্লু কালারের গাড়ি এসে দাঁড়ালো। গাড়ির গ্লাস নামিয়ে এক মধ্য বয়সী নারী যুবকটিকে ডাকলেন হাতের ঈশারায়। মুচকি হেসে ছেলেটি এগিয়ে যায়। তারপর আস্তে আস্তে কথা হয় তাদের।স্পষ্ট বোঝা যায় যে,দরকষাকষি চলছে কিছু নিয়ে।অতঃপর যুবকটি গাড়িতে উঠতেই গাড়িটি সামনের দিকে যায়।
এ জগতে মেইল এস্কর্ট, এস্কর্ট বয় বা রেন্ট বয় হিসেবে পরিচিত অনেক ছেলে সাধারনত সবাই বলে পুরুষ পতিতা।তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকায় এরকম অনেক পুরুষ পতিতা রয়েছে। তাদের মধ্যে একজন হয়তো এই ছেলেটি।
অপর একজন জানালেন লেখাপড়ার পাশপাশি ফরেনারদের গাইড হিসেবে কাজ করতো সে।
পুরুষ বেশ্যাবৃত্তির এই ধারনা সে পেয়েছিলো এক বিদেশিনীর মাধ্যমে। ঢাকায় বেড়াতে এসেছিলেন সেই নারী। গুলশানের একটি হোটেলে ছিলেন। ওই নারীর গাইড হিসেবে কাজ করার দ্বিতীয় দিনই তাকে বিছানায় সঙ্গ দিতে প্রস্তাব দেন। বিনিময়ে তাকে পে করা হবে। তখন আমেরিকান ওই নারীর প্রস্তাবে রাজি হয়ে বেশ কিছু বাড়তি টাকা আয় করেছিলো ছেলেটি। শারীরিক ভাবে ভীষন তৃপ্ত হয়ে সেই নারী তাকে পরামর্শ দেন মেইল এস্কর্ট হিসেবে কাজ করলে ভালো উপার্জন করবে সে। সেই থেকেই এই পথে যাত্রা শুরু তার।
আমাদের দেশে একটা শ্রেণি রয়েছে যাদের লাইফ স্টাইল বিদেশীদের মতোই। জানা যায়, ওই শ্রেণির কাছে ওয়েব সাইট তৈরি করে নিজেদের প্রচার করতে শুরু করে এই ছেলেরা।পরবর্তীকালে খোঁজ পান মেসেঞ্জার পাবলিক ডটকমের। সেখানে অনেক মেইল ইস্কর্ট রয়েছে । অ্যাকাউন্ট ওপেন করেন সেখানে। ওই সাইটে গিয়ে দেখা গেছে এতে তার বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। যা দেখলে সহজে তার সম্পর্কে অনুমান করা যায়।তাদের উচ্চতা,বয়স, কি কি ভাষায় দক্ষ সব তথ্য দেয়া থাকে।সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়,অভিজ্ঞতা অনুসারে গোপনীয়তা, নিরাপদ সম্পর্ক, প্রকৃত তৃপ্তি দেয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়।শুধু প্রকৃত ক্লায়েন্টকে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করে ফোন নম্বর ও মেইলের ঠিকানা দেয়া থাকে সেখানে।
জানা যায়, এই ছেলেদের খদ্দের মূলত অভিজাত শ্রেণির ও বিদেশীনি কিছু নারী। দেশি অভিজাত নারীদের অনেকের স্বামী নেই। ডিভোর্সি অথবা বিধবা। নিঃসঙ্গ বোধ করেন। তারা পুরুষ পতিতা খুঁজেন। গুলশান, বনানী, বারিধারা, উত্তরা ও ধানমন্ডি এলাকায় এরকম অনেক ক্লায়েন্ট রয়েছে বলে জানা যায়। অনেক নারী শুধু শরীর ম্যাসেজ করার জন্যেও এদের ডাকেন। এসব কাজে ঘণ্টা হিসেবে টাকা নেয়া হয় । প্রতি ঘন্টায় ২০ থেকে ৪০ ডলার বা ২হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা নেয়া হয় ।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd