সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র দখল ও জাল ভোটের ছড়াছড়ি

প্রকাশিত: ১:৩৫ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৩১, ২০১৮

সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র দখল ও জাল ভোটের ছড়াছড়ি

শিবগঞ্জ বখতিয়ার বিবি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চৌহট্টা আলিয়া মাদ্রাসা ভোট কেন্দ্রে হট্টগোল ও সংঘর্ষ।

নিজস্ব প্রতিবেদক (লায়ন শেখর চন্দ্র বোধ): শহরতলীর শিবগঞ্জস্থ বখতিয়ার বিবি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গত ৩০/০৭/২০১৮ ইং তারিখে সকাল ১১.৩০ ঘটিকায় সিলেট সিটি নির্বাচন চলাকালীন সময়ে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কর্মী ও সমর্থকরা জোর পূর্বক ভাবে ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করে এবং উক্ত কেন্দ্রটি তাদের দখলে নেয়। সেই সময় তাহারা ধানের শীর্ষের এজেন্টদের বুথ হইতে জোর পূর্বক বাহির করে দেয় এবং নৌকা প্রতীকের ব্যালেট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে ছাত্রলীগের কর্মী ও সমর্থকরা একতরফা ভাবে সীল মারিতে থাকে। সেই মুহুর্তে টেবিল ঘড়ি প্রতীকের এজেন্টরা তাহাতে বাধা প্রদান করিলে উভয় পক্ষের মধ্যে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। তখন ভোটারদের ভোট প্রদানে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। সেই সময় ছাত্রলীগের সমর্থকরা প্রতিপক্ষের উপর হামলা করিলে ১৯নং ওয়ার্ড শাখার ছাত্র শিবির নেতা আব্দুল মুক্তাদির ফাহাদ এর উপর তাহারা দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে হামলা করে। তাৎক্ষনিক ভাবে আশপাশের অবস্থানরত রোকন সদস্য ও কর্মীরা একত্রে দলবদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে আসা মাত্রই ছাত্রলীগ-ছাত্র শিবির কর্মীরা দাঙ্গা-হাঙ্গামায় জড়িয়ে পরে। উক্ত সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় দলের কমপক্ষের ৮ জন লোক আহত হইলে তাহারা সকলেই স্থানীয় ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন। তখন বখতিয়ার বিবি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ডিউটিরত পুলিশ সদস্যরা নিরব অবস্থান করিতে ছিল। উভয় পক্ষের সংঘর্ষ শুরু হইলে উক্ত কেন্দ্রে অবস্থানরত ছাত্রলীগের কর্মী ও সমর্থক এবং ডিউটিরত পুলিশ সদস্যরা একত্রে মিলে টেবিল ঘড়ি প্রতীকের সমর্থক ও কর্মী সৌমিত্র বোধ গোবিন্দ কে আটকে রাখে। সেই সময় ধানের শীর্ষের এজেন্টদের বাহির করে দিয়ে ছাত্রলীগের সদস্যরা জাল ভোট প্রদান করিতে থাকে। পরবর্তীতে দ্রæত সংবাদ পাইয়া টহলরত অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসিয়া ভোট কেন্দ্রে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিলে আশপাশের অবস্থা কিছুটা শান্ত হইলে অত্র কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার পুনরায় ভোটারদের কে স্বাভাবিক অবস্থায় ভোট প্রদানের আহবান জানান। অপর দিকে চৌহট্টাস্থ আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে বিকাল ০৩.০০ ঘটিকায় সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনী আইন লঙ্গন করে নৌকার সমর্থকরা কেন্দ্র দখলে নেয়। ক্ষমতাসীন দল ছাত্রলীগ, যুবলীগ এর কর্মী ও সমর্থকরা এজেন্টদের কে বাহির করে জাল ভোট প্রদান করিতে থাকে। তখন অন্যান্য দলীয় কর্মী ও সমর্থকরা তাহাতে বাধা দিলে ছাত্রলীগের কর্মীরা তাদের উপর ক্ষিপ্ত হইয়া হামলা করে। সেই সময় ১নং ওয়ার্ড এর কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ও কাটা চামচ প্রতীকের কান্ডারী মুফতি কমর উদ্দিন কামু এর এজেন্ট ও মদন মোহন কলেজ শাখার ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনসুর আহমদ ও ছাত্রদলের সদস্য আব্দুল হায়াত আমু তাহাদের হামলায় গুরুতর আহত হন। সেই সময় অন্যান্য প্রার্থীর এজেন্ট মুহিব উদ্দিন মনু ও সুনীল কুমার পাল উক্ত হামলার শিকার হন। আমাদের নিজস্ব প্রতিনিধি শেখর চন্দ্র বোধ প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সহিত যোগাযোগ করে জানিতে পারেন যে, ভোট কেন্দ্র সমুহের ভোটারদের ভোট প্রদানে সাময়িক বিঘœ সৃষ্টি হইলেও তার প্রভাব কোন ভাবে ভোটারদের কে প্রভাবিত করেনি বলে আমাদের প্রতিনিধি কে জানিয়েছেন।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..