বিয়ের দাবিতে এক প্রেমিকের বাড়িতে হাজির দুই প্রেমিকা

প্রকাশিত: ১২:৩১ অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০১৯

বিয়ের দাবিতে এক প্রেমিকের বাড়িতে হাজির দুই প্রেমিকা

Manual6 Ad Code

এক ফুল, দুই মালি। একজনকে পেতে দুই নারী এখন মরিয়া। ফুলের নাম মিজানুর রহমান বাবু। দুই নারীর একজন ঢাকার একটি গার্মেন্টসের কর্মী অন্যজন সাভার ইপিজেড এ কাজ করেন। ঘটনাটি রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার সৈয়দপুর মুন্সিপাড়া গ্রামের।

শুক্রবার সকালে ওই দুই নারী ঢাকা থেকে তারাগঞ্জের হারিয়ালকুঠি ইউনিয়নের সৈয়দপুর মুন্সিপাড়া গ্রামে বাবুর বাড়িতে এসে উঠেছেন বিয়ের দাবিতে। কিন্তু বাবুর পরিবার তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেয়। পরে গভীর রাতে এলাকাবাসীর দাবির মুখে বাবুর মা তাদের দুজনকে বাড়িতে তুলতে বাধ্য হন। ওই দুজন নারী ঘটনাটি স্থানীয় চেয়ারম্যান এবং থানার ওসিকে জানালেও কোনো সুরাহা হয়নি।

সরেজমিনে জানা গেছে, প্রেমিক মিজানুর রহমান বাবু রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার সৈয়দপুর মুন্সিপাড়া এলাকার জহুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করেন। পাশাপাশি গার্মেন্টস শ্রমিকদের একটি মেসের ম্যানেজারের কাজও করেন। নিজের দুই ছোটভাইকে নিয়ে থাকেন ঢাকার আমতলীতে।

এরইমধ্যে মিজানুর রহমান বাবু এ দুই তরুণীর সঙ্গে প্রেমের জেরে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তাদের একজন স্বামী পরিত্যক্তা (২৬) নারী। স্বামী পরিত্যক্তা ওই নারীর বাড়ি জামালপুর জেলার মাদরগঞ্জ উপজেলার চন্নগড়ে।

Manual8 Ad Code

অপর নারী সাভার ইপিজেড-এ কাজ করেন। তার বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামে। থাকেন সাভারের বাইপাইলের আমতলায়।

এ দু’জনের সঙ্গেই দীর্ঘ তিন বছর ধরে সম্পর্ক বাবুর। স্বামী পরিত্যাক্তা ওই নারীর সঙ্গে আমতলীর মেসে শারীরিক সম্পর্কের সময় এলাকাবাসীর কাছে আটক হয়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রক্ষা পান বাবু। তবে মেস থেকে বেরিয়ে ওই নারীকে ফেলে গ্রামে পালিয়ে আসেন বাবু।

Manual6 Ad Code

এদিকে বাবুকে খুঁজতে গিয়ে মেসের ওই ঘটনা জানতে পারেন ওই ইপিজেড কর্মীও। এরপর খুঁজে বের করেন বাবুর লালসার শিকার স্বামী পরিত্যাক্তা ওই নারীকেও। তারপর দু’জনই শুক্রবার সকালে বাবুর বাড়িতে এসে ওঠেন।

গার্মেন্টসকর্মী ওই নারী বলেন, ‘স্বামীর সঙ্গে তালাক হয়ে যাওয়ায় সন্তানকে নিয়ে গার্মেন্টসে চাকরি শুরু করি। আমতলীতে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকি। চাকরির সময় আমার সঙ্গে পরিচয় হয় বাবুর। সে আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দিলে আমি আমার আগের স্বামী ও সন্তানের কথা বলি। সেসব কিছু মেনে নিয়ে আমাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। দীর্ঘ ৩ বছর সে আমার সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর মতো মেলামেশা করেছে। বিয়ের কথা বললে সে বলে বাড়িতে পাকাঘর করার পর বিয়ে করবো।

আমি বিশ্বাস করে আমার জমানো দুই লাখ টাকা তাকে ব্যবসার জন্য দেই। বেতনের টাকা থেকেও প্রতিমাসে তাকে ৩ থেকে সাড়ে তিন হাজার করে টাকা তিন বছর ধরে দিয়ে আসছি। কিন্তু সে আমার সঙ্গে প্রতারণা করে আরও একটি মেয়ের সঙ্গে একই সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। এটা আমি ভাবতেও পারছি না। বাধ্য হয়ে আমি তার বাড়িতে চলে এসেছি। আমাকে বিয়ে না করা পর্যন্ত এখান থেকে যাব না।’

অপর প্রেমিকা (২৪) বলেন, ‘গার্মেন্টসে চাকরির সুবাদে বাবুর সঙ্গে পরিচয় ও সম্পর্ক হয়। সে আমাকে তার মেসের মধ্যে রুম ভাড়া দেয়। সেখানেই আমরা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে থাকি। তার ছোট দুই ভাইও আমাকে ভাবি বলে ডাকে। আমি বিয়ের কথা বললে সে জানায় গ্রামে দুই তলা বাড়ি বানাচ্ছে। বাড়ি কমপ্লিট হলে আমাকে বিয়ে করবে।

Manual4 Ad Code

আমি তার ওপর বিশ্বাস করে তাকে স্বামী পরিচয় দিয়ে আমার গ্রামের বাড়িতে গত ঈদ-উল-ফিতরের ছুটিতে নিয়ে যাই। সেখানে জামাই হিসেবে আমার পরিবার তাকে বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা করে। আমি ঈদের বোনাসসহ বেতনের ২৭ হাজার টাকা পাই। পুরো টাকাটাই ওকে দিয়েছি।

এছাড়াও একবছর ধরে আমি ১৬ হাজার ৫০০ টাকা বেতন পাচ্ছিলাম। আমার খরচ বাদে বাকি প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা ওর হাতে তুলে দিয়েছি। ঈদের ছুটির পর আমরা আবারও ঢাকার বাসায় যাই। এ সময় স্থানীয়রা আমাদের আটক করে। বিয়ের কাবিননামা দেখাতে না পারায় স্থানীয়রা আমাদের আটকে রাখে। পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে অন্য বাসায় গিয়ে উঠি। কিন্তু রাতে বাবু আমাকে রেখে ওই বাসা থেকে পালিয়ে যায়। আমি এখন দুই মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা।

এরই মধ্যে আরেক আপু এসে আমাকে বলে তারসঙ্গেও বাবু একইরকম করেছে- ৩ বছর ধরে একই বাসায় থেকেছে। এরপর আমি ওই আপুকে নিয়ে তার বাড়িতে চলে এসেছি। আমাকে বিয়ে না করা পর্যন্ত আমি যাবো না। আমার সন্তানের স্বীকৃতির জন্য বিয়ে করতেই হবে। যদি বিয়ে না করে তাহলে আমি এখানে আত্মহত্যা করব।’

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, শুক্রবার সকালে দুই প্রেমিকা বাবুর বাড়িতে উঠলে তার বাবা-মা তাদের বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে নিজেরা পালিয়ে যায়। বাধ্য হয়ে ওই দুই প্রেমিকা বাড়ির পশ্চিম পাশে আনিছুর মেম্বারের দোকানের সামনে অবস্থান নেয়।

Manual7 Ad Code

রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাদের একজনের বাবা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে তারা কোনোভাবেই বাবুর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। এরপর প্রথমে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানান।

চেয়ারম্যান তাকে জানান, এটা বিচারের এখতিয়ার তার নেই। থানায় যেতে হবে।

পরে থানায় গেলে ওসি বলেন, আপনারা বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করেন। না হলে আমাদের জানাবেন। কারণ বিষয়টি ধর্ষণ সংক্রান্ত।

স্থানীয় সাবেক ইউপি মেম্বার আনিছার রহমান আনিছ বলেন, একই সঙ্গে দু’টি মেয়ে সম্পর্কের দাবি নিয়ে এসেছে। এরমধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা। কিভাবে সমাধান করা যায়, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে বাবুর পরিবারের পক্ষ থেকে তেমন সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। সমাধান না হলে মেয়ে দু’টি আত্মহত্যার হুমকি দিচ্ছে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় চেয়ারম্যান বাবুল জানান, আমার কাছে বিষয়টি এসেছিল। আমি বলেছি এটা ধর্ষণের ঘটনা। আমার বিচারের এখতিয়ার নেই। আমি থানায় যেতে বলেছি।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) মারুফ জানান, বিষয়টি জানার পর সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..