সিলেট ৯ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২১শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৪:৫২ পূর্বাহ্ণ, মে ১২, ২০২১
ক্রাইম সিলেট ডেস্ক :: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নার্সরা। দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর সুবিধা-অসুবিধার দিকে সবচেয়ে বেশি খেয়াল রাখছেন নার্সরাই। চিকিৎসকদের তুলনায় করোনা আক্রান্ত রোগীর স্বাস্থ্যসেবায় তুলনামূলক বেশি সময় নার্সদেরই দিতে হয়। তারপরও তাদের এখনো কোনো প্রণোদনা দেওয়া হয়নি।
সারা দেশে তীব্র নার্স সংকট থাকা সত্ত্বেও করোনাকালে নার্স নিয়োগ পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ায় রোগী কাক্সিক্ষত সেবা পাচ্ছে না। আবার সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি হওয়ায় প্রতিদিনই প্রাণঘাতী এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন নার্সরা। নার্সদের কয়েকটি সংগঠনের নেতারা বাংলাদেশ প্রতিদিনের কাছে অভিযোগ করে জানান, ঝুঁকি নিয়ে রোগীদের সার্বক্ষণিক সেবা দিলেও তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি এখনো অবহেলিত। এমনকি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও এ ব্যাপারে উদাসীন। এই অবস্থায় আজ পালিত হবে আন্তর্জাতিক নার্স দিবস। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘নার্স : ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যসেবার নেতৃত্বের কণ্ঠ। ’ সোসাইটি ফর নার্সেস সেফটি অ্যান্ড রাইটসের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে, করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে মোট ২৭৮০ জন নার্স করোনায় আক্রান্ত হন।
আর মৃত্যুবরণ করেছেন ২৪ জন। সংগঠনটির পরিচালিত এক গবেষণা থেকে জানা যায়, দেশের হাসপাতালগুলোতে করোনা ওয়ার্ডগুলোতে কর্মরত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নার্সই পূর্ণাঙ্গ পারসোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) পাননি। আবার করোনা চিকিৎসার কাজে জড়িতদের যে ইনফেকশন কন্ট্রোল প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় তাও অধিকাংশ নার্স পাননি। আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, পিপিই ছাড়া দায়িত্ব পালন করা গেলেও প্রশিক্ষণ ছাড়া দায়িত্ব পালন করতে গেলে সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। নার্স নেতারা বাংলাদেশ প্রতিদিনের কাছে অভিযোগ করে বলেন, বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত নার্সরা করোনায় আক্রান্ত হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা প্রকাশ করে না। আবার চাকরি হারানোর ভয়ে নামিদামি হাসপাতালে কর্মরত নার্সরাও মুখ খুলছেন না।
তারা আরও জানান, সারা দেশের হাসপাতালগুলোর আইসিইউতে মাত্র দুই থেকে তিনশ প্রশিক্ষিত নার্স আছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত কম। করোনা সংক্রমণের ফলে অনেক নার্স করোনা পরবর্তী জটিলতায় ভুগছেন। এর ফলেও নার্সদের জনবল সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে।
আবার করোনার জন্য নার্স নিয়োগের পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ায় নার্সদের জনবল সংকটের সমস্যা আরও তীব্র হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, যে নার্সরা করোনা আক্রান্তদের সেবা দিয়েছেন তাদের চেয়ে যারা সাধারণ রোগীদের সেবা দিয়েছেন তারাই বেশি করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। এর কারণ করোনা চিকিৎসায় যারা সরাসরি জড়িত তাদের যতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সাধারণ রোগীদের যারা সেবা দিচ্ছেন তাদের তেমন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। এ জন্য সব নার্সের জন্য মানসম্মত পিপিই ও এন-৯৫ মাস্ক সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। আবার সরকারি হাসপাতালে একজন নার্সকে একজন করোনা রোগীকে সেবা দেওয়ার পরই নতুন আরেক জোড়া হ্যান্ড গ্লভস দেওয়ার কথা কিন্তু তাদের এটি ছয় ঘণ্টা পর তা দেওয়া হচ্ছে।
সোসাইটি ফর নার্সেস সেফটি অ্যান্ড রাইটসের মহাসচিব সাব্বির মাহমুদ তিহান বলেন, হাসপাতালগুলোতে যারা করোনা আক্রান্ত রোগীদের নিয়ে কাজ করছেন তাদের মধ্যে নার্সদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। চিকিৎসাকালীন ৮০ শতাংশ সময়ই নার্সদের রোগীর কাছে থাকতে হয়। আবার চিকিৎসকরা পিপিই পরে দায়িত্ব পালন করলেও নার্সদের সবাই পিপিই পাননি। তিনি বলেন, ফ্রন্টলাইনার হিসেবে নার্সদের দুই মাসের বেতন অগ্রিম প্রণোদনা হিসেবে দেওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তা দেওয়া হয়নি।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd