সিসিকের অসময়ের উন্নয়ন, নগরবাসীর গলার কাটা

প্রকাশিত: ৪:১৬ অপরাহ্ণ, জুন ২৭, ২০১৯

সিসিকের অসময়ের উন্নয়ন, নগরবাসীর গলার কাটা

Manual5 Ad Code

সিলেট নগরজুড়ে চলছে উন্নয়ন কর্ম। আর এই উন্নয়নযজ্ঞই এখন নগরবাসীর গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অসময়ে চলমান ড্রেন, নালা ও ছড়ার সংস্কার বৃষ্টির পানি নিস্কাশনের পরিবর্তে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করছে নগরজুড়ে। বাড়িয়েছে জনদুর্ভোগের মাত্রা। তিনদিন ধরে অব্যাহত বৃষ্টিতে নগরীতে জলাবদ্ধতায় সৃষ্ট জনদুর্ভোগের এমন দৃশ্য চোখে পড়েছে।

এ নিয়ে নগরবাসী অভিযোগের তীর ছুড়ছেন নগরভবনের দিকে। আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড় করছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে। তারা বলছেন, অতীতের মতো মেয়র চাইলে বর্ষার আগেই ড্রেন, ছড়া সংস্কার কাজ শেষ করে পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারতেন। মেয়রের অসময়ের কর্মযজ্ঞই নগবাসীকে ভোগান্তিতে ফেলেছে। বর্ষা মৌসুমে সড়ক ও সেতু সংস্কারকাজ শুরু করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

তবে নগরবাসীর এমন অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান।

তিনি বলেছেন, নগরীতে জলাবদ্ধতা ভোগান্তি দীর্ঘদিনের। কয়েক বছরে ছড়া উদ্ধার, ড্রেন সংস্কারসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে জলাবদ্ধতা অনেক কমেছে। কিছু এলাকার ড্রেন এখনো ছোট। এগুলো সংস্কারে কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে আর জলাবদ্ধতা থাকবে না। নগরীর দুর্ভোগ লাঘবে সিসিক মেয়র আন্তরিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি বলেন।

Manual8 Ad Code

মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও সরকারের আন্তরিকতার কারণেই নগরীতে ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে। বেদখল হওয়া ছড়া, নালা উদ্ধারের পাশাপাশি এগুলো গভীর ও প্রসস্তকরণের কাজ চলছে। এর সুফল পেতে একটু অপেক্ষা করতে হবে।

কিন্তু সিসিকের প্রধান প্রকৌশলীর এমন বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন নগরীর অনেক বাসিন্দাই।

এব্যাপারে নগরীর যতরপুরের কামরুল ইসলাম বলেন,  রাস্তা উপচে ড্রেনের দুর্গন্ধময় পানি ঘরে ঢুকছে। দুইদিন ধরে ঘরে ভেতর পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছি। ঘরের বাইরেও একই অবস্থা। এটা কী ধরণের উন্নয়ন। যেখানে বৃষ্টির পানির জন্য ঘরে বাইরে চলাচল দায় হয়ে পড়েছে।
একই ধরেনের বক্তব্য নগরীর উপশহরের বাসিন্দা আবুল কালামের।

তারমতে, নগরীতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নতুন কিছু নয়। গত কয়েক বছর বর্ষার আগে ড্রেন, ছড়া, নর্দমা পরিস্কার করার কারণে নগরীতে জলবদ্ধতা তেমন একটা চোখে পড়েনি। কিন্তু এবার সিসিকের খামখেয়ালিপনার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পানি মাড়িয়ে চলতে হচ্ছে।নগর কর্তৃপক্ষ এমন দুর্ভোগের দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।

শাহজালাল উপশহরের আরেক বাসিন্দা ব্যবসায়ী মান্নান আহমদ বলেন, ছোটবেলা থেকেই দেখছি একটু বৃষ্টি হলেই এ এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এখন পর্যন্ত জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

Manual2 Ad Code

সিএনজিচালক মো. রহমত আলী বলেন, প্রায় ১০ বছর ধরে সিলেট শহরে সিএনজি চালাই। প্রতি বছরই বৃষ্টির সময় এ রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। সারা শহরের কোথাও জলাবদ্ধতা না থাকলেও এখানে থাকে। বৃষ্টির দিনে সড়কটি আমাদের জন্য ভয়ানক হয়ে ওঠে। কারণ সিএনজি নিয়ে গেলেই ইঞ্জিনে পানি ঢুকে নষ্ট হয়ে যায়।

Manual3 Ad Code

নগরীর নয়াসড়কে জলাবদ্ধতায় সড়কের গর্তে পড়ে চাকা ভেঙে যায় রিকশাচালক আম্বর আলীর। তিনি বলেন, ‘সারা দিনে রুজি হইছে না ১০০ টাকা, কিন্তু গাড়ির চাক্কা ভাঙ্গিয়া ২০০ টাকা গলাত দণ্ডি (জরিমানা) লাগছে।’

মঙ্গলবার রাত থেকেই বৃষ্টি শুরু হয় নগরীতে, আজ বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে।

বৃষ্টিতে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের লন্ডনি রোড থেকে মদিনা মার্কেট এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। এছাড়া নগরীর নয়াসড়ক, ছড়ারপাড়, পুরান লেন, শেখঘাট, ঘাসিটুলা, কলাপাড়া, ভাতালিয়া, উপশহরসহ কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

বৃষ্টি হলেই সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের লন্ডনি রোড থেকে মদিনা মার্কেট এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। মূলত এই সড়কের পাশের ড্রেন ছোট হওয়ায় বৃষ্টির পানি নামতে সময় লাগে। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন সংস্কারের জন্য গত বছর সিলেট সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ৬ কোটি টাকার টেন্ডার আহ্বান করা হয়। তবে ছয় মাস আগে ড্রেনের কাজ শুরু হলেও এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি চোখে পড়েনি।

Manual5 Ad Code

সরজমিনে মদিনা মার্কেট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, জলাবদ্ধতার কারণে সুবিদবাজার থেকে মদিনা মার্কেট পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সময় সড়কের উভয় পাশে দুই শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে। বৃষ্টিতে লন্ডনি রোডে জলাবদ্ধতায় ইঞ্জিনে পানি ঢুকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরবাইক পথিমধ্যে বিকল হয়ে পড়তেও দেখা যায়।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..