সিলেট ৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৫ই রজব, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ১:২৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৪, ২০১৯
বিশ্বনাথ প্রতিনিধি :: নিজ গ্রামসহ আশপাশ গ্রামের বাড়ি বাড়ি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন ২৫ বছর বয়সী বেদানা বেগম। কিন্তু গত ৬মাস ধরে বিরল রোগ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনতে হচ্ছে তাকে। বেদানা সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নের বড়তলা গ্রামের অসহায় জমির আলী ও সিতারা বেগম দম্পতির বড় মেয়ে।
তার রোগের ধরণ এমনই যে, তার বাম হাত বিশাল আকৃতির হয়ে গেছে এবং মাঝে মাঝে রক্তও বেরুচ্ছে। অভাবের সংসারে তার দিনমজুর সত্তরোর্ধ পিতা জমির আলীও বয়সের ভারে ক্লান্ত। ৫০ বছর বয়স্ক মা সিতারা বেগমও অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত। কিন্তু নিজে আক্রান্ত হলেও তার চিন্তা মেয়েকে বাঁচানো যাবে তো!। কারণ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা ছাড়া তাকে সুস্থ করা যাবেনা। কিন্তু নুন আনতে যাদের পানতা ফুরোয় তারা এত টাকা পাবে কোথায়?
সরেজমিনে তাদের বাড়িতে গেলে হাউমাউ করে কেঁদে উঠা সিতারা বেগম এ প্রতিবেদককে জানান, রোগের কারণে মেয়েটিকে বিয়ে দিতে পারছেন না। ৩ ছেলে ও ২ মেয়ের মধ্যে বেদানা সবার বড়। বেদানার বাম হাতে ছোটবেলায় থাকা কালো জটটি ছোট থাকলেও ৬/৭মাস আগে হঠাৎ বড় হয়ে যায়। পেটে বিষণ ব্যথা হওয়ায় সে আর বাড়ি বাড়ি কাজ করতে পারেনা।
গত শুক্রবার স্থানীয় পনাউল্লাহ বাজারে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মইনুল ইসলাম ডালিমের শরণাপন্ন হন তারা। চিকিৎসক ডালিম তাদের জানান, বিরল রোগে আক্রান্ত বেদানার চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন। আর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট ছাড়া এ রোগের চিকিৎসাও নেই। তাই প্রথমত ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা নিয়ে সেখানে গিয়ে ভর্তি হওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।
এদিকে টাকার পরিমান বেশি হওয়ায় গত মঙ্গলবার মেয়েকে নিয়ে পাশের বাড়ির ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম রুহেলের কাছে যান সিতারা। প্রয়োজনে দেশি-বিদেশীসহ সকল বিত্তবানদের সহযোগিতায় মেয়েটির চিকিৎসা করানোর আশ্বাস দিয়ে রাতেই তিনি ইউনিয়ন পরিষদের ফেসবুক পেজে সাহায্য চেয়ে ছবি পোষ্ট করেন তিনি।
দেশি-বিদেশী বিত্তবানদের সহযোগিতা চেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম রুহেল বলেন, মেয়েটিকে বাঁচাতে পূবালী ব্যাংক বিশ্বনাথ শাখাস্থ তার নিজের সেভিং একাউন্ট নাম্বার ১০৪০১০১০৭৫২১০ এবং রকেট নাম্বার ০১৬১১০৪২৮২৮ সহায়তা প্রদানের অনুরোধ করেন।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd