সিলেট ৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৮ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৮:১৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৮
ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : পুরো টিলা ধংস আর একের পর এক প্রাণহানির পরও থামছে না সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শাহ আরেফিন টিলা থেকে বোমা মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন। প্রশাসনের নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও এই টিলা কেটে পাথর উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না। ঝুঁকিপূর্ণভাবে বোমা মেশিনের ব্যবহারও চলছে।
রোববার শাহ আরেফিন টিলায় টাস্কফোর্সের অভিযান চালিয়ে পাথর উত্তোলন কাজে ব্যবহৃত ৮টি বোমা মেশিন ধ্বংস করা হয়। এসময় হোসেন নামে একজন মেশিন মালিককে গ্রেপ্তারও করা হয়।
উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুদ রানার নেতৃত্বে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এ অভিযান চালানো হয়। এতে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরাও অংশ নেয়।
এ ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুদ রানা বলেন, প্রশাসনের ঠোর নজরদারির কারণে শাহ আরেফিন টিলা থেকে পাথর উত্তোলন এখন অনেক কমেছে। তারপরও কিছু অসাধু লোক লুকিয়ে বোমা মেশিন ব্যবহার করে পাথর উত্তোলন করে। তাদের দমনে প্রশাসন নজরদারি আরও বাড়াবে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়নে সরকারি খাস খতিয়ানের ১৩৭ দশমিক ৫০ একর জায়গায় শাহ আরেফিন টিলা। লালচে, বাদামি ও আঠালো মাটির এ টিলার নিচে রয়েছে বড় বড় পাথর খন্ড। এসব পাথর উত্তোলন করতে টিলা কেটে পুরো সাবাড় করে ফেলা হয়েছে। তারপরও চলছে মেশিন দিয়ে মাটি খুঁড়ে পাথর উত্তোলন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় সিলেটের সকল পাথর কোয়ারিতে সব ধরণের যন্ত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে আদালত। এছাড়া ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে শাহ আরেফিন টিলাসহ তিনটি কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন নিষিদ্ধ করে খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়। তবে এসব নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোম্পানীগঞ্জের সীমান্তবর্তী বিশাল পাহাড় শাহ আরেফিন টিলা কেটে বোমা মেশিন দিয়ে চলছে পাথর উত্তোলন।
ঝুকিপূর্ণভাবে পাথর উত্তোলনের ফলে এই টিলার মাটি ধ্বসে গত একবছরে মারা গেছেন অন্তত ১০ শ্রমিক। এরমধ্যে গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি ও ১০ মার্চ দুই দফা এই টিলা ধসে মারা যান ৬ শ্রমিক।
২৩ ফেব্রুয়ারির হতাহতের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিলো। এই কমিটি শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় প্রশাসন ও পুলিশের গাফিলতি রয়েছে বলে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে। এই প্রতিবেদনে টিলা কাটার জন্য ৪৭ ‘পাথরখেকো’কে চিহ্নিত করা হয়। এদের সঙ্গে পরোক্ষভাবে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে গণমাধ্যমকর্মীদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, থানা-পুলিশের সঙ্গে পাথর ব্যবসায়ীদের সুসম্পর্কের কারণেই ভোলাগঞ্জ ও শাহ আরেফিন টিলায় ‘বোমা মেশিন’ দিয়ে পাথর উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল লাইছ বলেন, আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। তারপরও অপরাধীদের ঠেকানো যাচ্ছে। আগামীতেও আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd