ঢাবি শিক্ষার্থী সুমাইয়া হত্যায় মামলা, শাশুড়ি-ননদ গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৪, ২০২০

ঢাবি শিক্ষার্থী সুমাইয়া হত্যায় মামলা, শাশুড়ি-ননদ গ্রেপ্তার

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : নাটোরে শহরের হরিশপুর এলাকায় ঢাবির মেধাবী ছাত্রী সুমাইয়া খাতুনকে হত্যার পরে আত্মহত্যা বলে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের পর পুলিশ সুমাইয়ার শাশুড়ি সৈয়দা মালিকা (৫০) এবং ননদ জুই খাতুনকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে সামাইমার স্বামী মোস্তাক হোসাইন।

পুলিশ ও নিহত ছাত্রীর পরিবার সুত্রে জানা যায়, হরিশপুর বাগানবাড়ি এলাকার মোস্তাক হোসেন নিজেকে বুয়েট থেকে পাশ করা ইঞ্জিনিয়ার পরিচয় দিয়ে বলারী পাড়া এলাকার সিদ্দিকুর রহমান যশোরীর মেয়ে সুমাইয়া খাতুনকে বিয়ে করে। কিন্তু মোস্তাক একটি বেসরকারি টেকনিক্যাল কলেজ থেকে পাশ করা ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার। বিয়ের পর সুমাইয়াদের ঢাকায় থাকার সমস্ত খরচ বহন করতেন সুমাইয়ার বাবা। কিন্তু সম্প্রতি সুমাইয়ার বাবা মারা গেলে সুমাইয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে খরচ দেওয়া বন্ধ করে দেয়। তাছাড়া সুমাইয়ার ইসলামী স্টাডিজ বিভাগের স্নাতকোত্তর ফাইনাল পরীক্ষা হয়ে যায়। ফলে গত ৬ মাস ধরে মোস্তাক সুমাইয়াকে নিয়ে হরিশপুরের বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু শাশুড়ি ও ননদ নানাভাবে সুমাইয়াকে অত্যাচার করতো। এসব ঘটনায় মোস্তাক ধরে সুমাইয়াকে মারধর করতো।

সুমাইয়ার চাচা আহাম্মদ আলী বলেন, বড় ভাইয়ের মত্যুর পরে সুমাইয়া তার অত্যাচারের ঘটনা আমাকে বলেতো। কারণ সুমাইয়ার মা নুজহাত সুলতানা স্ট্রোকের রোগী। মেয়ের খারাপ কিছু সংবাদ থেকে মায়ের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কায় সুমাইয়া তার নির্যাতনের কাহিনী বাড়িতে বলত না।

গত রবিবার রাতে তারা সুমাইয়া নির্যাতন করে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা হত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করে বলে অভিযোগ পরিবারের। কেউ বাদী না হওয়ায় পুলিশ একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। কিন্তু সোমবার রাতে সুমাইয়ার মা নুজহাত সুলতানা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ সুমাইয়ার শাশুড়ি সৈয়দা মালিকা (৫০) এবং ননদ জুই খাতুনকে (২৬) গ্রেপ্তার করে।

নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ দাফন করা করা হয়েছে। সুমাইয়ার মা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করার পরেই মোস্তাকের মা সৈয়দা মালেকা এবং বোন জুই খাতুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মোস্তাক এবং তার বাবাকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..