সিলেট ২৫শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৫ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ, জুন ২১, ২০২০
খায়রুল আলম রফিক : মেয়ের বিরুদ্ধে দেশে বিদেশে নির্যাতনের অভিযোগ এক গর্ভধারিনী মায়ের। অভিযোগ রয়েছে, আমেরিকা প্রবাসী মোছাঃ হাবিবা খাতুন মুন্নি গত ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে তার শিশুকে দেখভাল তথা লালন পালন করতে তার গর্ভধারিনী মা আয়শা হাবিব বিলকিসকে আমেরিকা নিয়ে যায়। সেখানে মাকে নিয়ে গিয়ে প্রথমে তুচ্ছ- তাচ্ছিল্ল করে। সামান্য ত্রুটি বিচ্যুতির অজুহাত দেখিয়ে একপর্যায়ে মায়ের খাওয়া দাওয়ার পরিমান কমাতে থাকে।
২দিনের স্থলে একদিন খাবার দেয়। ক্রমশ; মানসিক ও শারীরিক ভাবে মাকে নির্যাতন শুরু করে মোছাঃ হাবিবা খাতুন মুন্নি। এরপর হুমকি ধমকি দিতে থাকে। মাকে মারধর, মায়ের শরীরে গরম পানি ঢেলে দেয়া, হাত ভেঙে দেয়া, ওড়না মুখে বুজে দেয়াসহ অকথ্য নির্যাতন করতে থাকে মাকে।
সর্বশেষ মায়ের ৪টি দাত ভেঙে দেয়। মেয়ে কর্তৃক নির্যাতন অত্যাচার সইতে না পেয়ে আমেরিকা পুলিশের শ্মরণাপন্ন হন মা আয়শা হাবিব বিলকিস। মোবাইলে আমেরিকা পুলিশকে ৯১১ এ বিষয়টি জানান। পুলিশ এসে ঘটনার সত্যতা পেয়ে মোছাঃ হাবিবা খাতুন মুন্নিকে নগদ ৩ লাখ টাকা জরিমানা ধার্য করে আদায় করে।
মোছাঃ হাবিবা খাতুন মুন্নি ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে দেশে ফিরলে মাকেও নিয়ে আসে। আবার আমেরিকা গিয়ে ২০১৭ সালে দেশে ফিরে । দেশে এসে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার রসুলপুর গ্রামে পৈত্রিক বাড়ি সেখানেও মাকে নির্যাতন হামলা চালায় হাবিবা খাতুন মুন্নী। সে তার মাকে জিম্মী করে ছোট ভাই আকিব এর ৫ কাঠা জমি লিখে নেয়।
অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়ে আয়েশা হাবিব বিলকিস গফরগাঁও থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। যদিও অজ্ঞাত কারনে পুলিশ মামলাটি গুরুত্ব দিচ্ছে না।
আয়েশা হাবিব বিলকিস অভিযোগ করে বলেন, যারপর নাই আমার ওপর অত্যাচার নির্যাতন করেছে মেয়ে।
অভিযোগ করে বলেন, গফরগাঁও থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) আবু বকর সিদ্দিকের সহযোগীতায় উল্টো আমাদেরকেই হয়রানি করছে। এসআই আবু বকর সিদ্দিক জানান, এই পরিবারের সকলের মধ্যেই একে অপরের দ্বন্দ্ব বিরোধ চলে আসছে। থানার ওসি স্যারের নিকট অভিযোগ করা হয়। ওসির নির্দেশে মামলার তদন্ত করছি।
অভিযোগ উঠেছে, এসআই আবু বকর সিদ্দিক প্রবাসী হাবিবা খাতুন মুন্নীর সাথে দিনরাত মোবাইলে কথা বলতে থাকেন। এক মাসে ৮শ’ বার কথা বলেন এসআই। অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাবিবা খাতুন মুন্নী যে সিমকার্ডে এসআইয়ের সাথে কথা বলতেন। সিমটি তার ছোট ভাই আকিদের নামে রেজিস্ট্রেশন করা। টের পেয়ে আকিব সিমটির সংযোগ বন্ধ করে দিয়ে পুন:সংযোগ নেন।
জানা গেছে, হাবিবা খাতুন মুন্নী বর্তমানে ময়মনসিংহের ত্রিশালে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন। এই বাসায় নিয়মিত যাতায়াত এসআই আবু বকর সিদ্দিকের।
এস.আই আবু বক্কর ছিদ্দিকের সাথে দীর্ঘ সময় কথা বলা ও যাতায়াতের বিষয়ে হাবিবা খাতুন মুন্নী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, আমি তার সাথে কথা বলব। ঘুরতে যাব। এটা আমার ব্যক্তিগত বিষয়। মায়ের বিষয়ে কথা বলেন, আমার মা পাগল। সে সব সময় পাগলামি করেন। মাকে মারিনি। ছোট ভাইয়ের নিকট থেকে জমি কিনেছি। ওদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। মামলা আদালতে আছে। প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালে ডিভি ভিসায় আমেরিকা যান হাবিবা খাতুন মুন্নি। সেখানে তিনি এ্যাম্বাসিতে চাকুরি করেন।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd