সিলেট ২৫শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৫ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ১১:৩৩ অপরাহ্ণ, জুন ৮, ২০২০
ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : গত আড়াই মাস আগে ১৬ মাসের শিশুকে রেখে স্ত্রীকে মারধর করে বের করে দিয়েছিলেন নেশাগ্রস্ত স্বামী। একদিকে মায়ের দুধের জন্য শিশুর কান্না অন্যদিকে বাচ্চাকে বুকে ফিরে পেতে মা কাঁদছিলেন সমাজপতিদের দুয়ারে দুয়ারে।
এক কান দু কান হয়ে মায়ের সেই আর্তনাদ পৌঁছায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) শামীম ওসমান পত্নী জেলা মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান সালমা ওসমান লিপির কাছে।
তিনি মাত্র ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটামে ওই শিশুকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। এছাড়া দুই পরিবারের মধ্যে সমঝোতার ব্যবস্থা করেছেন তিনি। ঘটনাটি নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা মাসদাইর এলাকার।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁয়ের মেয়ে হাবিবার সঙ্গে মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকার মৃত দেলোয়ার হোসেনের ছোট ছেলে রনির সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের তিন বছরের মধ্যে নানা অজুহাতে নেশাগ্রস্ত স্বামী রনি হাবিবার ওপর একাধিকবার শারীরিক নির্যাতন চালান। স্বামীর সংসারে সুখে দিন কাটানোর আশা বুকে বেধে আপ্রাণ চেষ্টা চালায় স্বামীর এ আচরণকে পরিবর্তন করতে। হাবিবা যতই স্বামীর অনুগত হবার চেষ্টা করে ততই তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেন রনি।
শিশুর মা হাবিবা বলেন, অজ্ঞাত কারণে তার ওপর নির্যাতন চালান রনি। তার বাপের বাড়ি সোনারগাঁ ও পারিবারিকভাবে অপেক্ষাকৃত একটু দুর্বল হওয়ায় দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেন রনি। এরই মধ্যে তাদের কোল জুড়ে আসে একটি সন্তান। তার বয়স মাত্র দেড় বছর। গত প্রায় আড়াই মাস আগে কোলের বাচ্চাটিকে রেখে রনি পিটিয়ে হাবিবাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। কোনো উপায় না পেয়ে স্ত্রী হাবিবা শিশু সন্তানের জন্য কাঁদতে থাকেন আত্মীয় স্বজন ও সমাজপতিদের দুয়ারে দুয়ারে। পরে আমি জানতে পারি এ বিষয়ে এমপি পত্নী সালমা ওসমান লিপি আমাকে সহায়তা করতে পারবেন।
অবশেষে গত সপ্তাহে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন সালমা ওসমান লিপির সঙ্গে। কোলের সন্তানের জন্য মেয়ের মা হাবিবার বুকফাটা ক্রন্দন দেখে তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটিকে উদ্ধারের ব্যবস্থা নেন তিনি। প্রথমেই তিনি শিশুটিকে স্বামীর কবল থেকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেন।
শিশুটিকে পেয়ে বিতাড়িত গৃহবধূ হাবিবা মায়ের মমতায় আকড়ে ধরেন নিজ শিশুটিকে। প্রায় আড়াই মাসের অবহেলা অযত্নে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এ অবস্থার সালমা ওসমান লিপি শিশুটির চিকিৎসার দায়িত্বও নেন।
অন্যদিকে দ্বিতীয় দফায় লিপি ওসমান ওই গৃহবধূর স্বামী রনি ও তার পরিবারের লোকজনদের ডেকে নিয়ে আসেন ও সেমাবার (৮ জুন) সময় নির্ধারণ করে দেন হাবিবাকে সম্মান দিয়ে বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে পারিবারিক বৈঠক করতে। বিষয়টি মনিটরিং এর জন্য দায়িত্ব দেন পূর্ব ইসদাইর যুব সংঘের কাছে।
এ বিষয়ে পূর্ব ইসদার যুব সংঘের কর্মী জিবু ইসলাম জানান, দুই পরিবারের মধ্যে সমঝোতা করে দিয়ে স্ত্রী হাবীবাকে রনির সংসারে তুলে দেওয়া হয়েছে ও সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে ভবিষৎতে হাবিবা ও তার মেয়ের কোনো নির্যাতন হলে রেহাই নাই।
এ বিষয়ে সালমা ওসমান লিপি বলেন, মোবাইলে শিশু বাচ্চার জন্য ওই মায়ের কান্নায় আমি নিজে চোখের জল ধরে রাখতে পারিনি। বাচ্চাটি কোলের শিশু। হয়তো দুধের শিশুও হতে পারে। বাচ্চার জন্য মায়ের খুবই প্রয়োজন। সেখানে আড়াই মাস যাবত মা তার শিশু বাচ্চা থেকে বিচ্ছিন্ন। এটা মেনে নেওয়া যায় না। আমি ২৪ ঘণ্টার সময় দিয়েছিলাম দুধের শিশুকে মায়ের কোলে তুলে দিতে ও সাত দিনের মধ্যে দু পরিবারের মধ্যে সমঝোতা করতে।
তিনি আরও বলেন, আমি শুনেছি দুই পরিবার মধ্যে সোমবার সমঝোতা হয়েছে। মায়ের কোলে ফিরেছে শিশু সন্তানটি। হাবিবাকে তার শিশু সন্তানসহ স্বামীর বাড়ির লোকজন সম্মানের সহিত তুলে নিয়েছে।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd