সিলেট ৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৬:৩১ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৩, ২০২০
ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় সরকারি হাসপাতালের নার্সদের অসহযোগিতার কারণে ভ্যানের উপর সন্তান প্রসব করেছেন মনিফা বেগম। বৃহস্পতিবার রাতে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে একটি ফুটফুটে ছেলে সন্তানের জন্ম দেন তিনি। মনিফা বেগম ওই উপজেলার পুর্ব বিছনদই গ্রামের দিনমজুর রুহুল আমিনের মেয়ে।
রুহুল আমিন জানান, প্রসব বেদনা নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পর নার্সরা তার মেয়ের নরমাল ডেলিভারি না করিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে সিজার করার জন্য চাপ দেয়। বারবার অনুরোধ করার পরও তারা নরমাল ডেলিভারি করেনি। পরে বাধ্য হয়ে ভ্যানে করে প্রাইভেট হাসপাতালে নেয়ার পথে ছেলের জন্ম দেন মনিফা। তার দাবি, দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও প্রাইভেট ক্লিনিকের দালালি করায় নার্সদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হোক।
মনিফার ছোট ভাই রাকিব জানান, প্রসব বেদনা হওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় মনিফাকে। এরপর নার্স তাহমিনা ও রঞ্জিলা বেগম তাকে প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে সিজারের জন্য চাপ দিতে থাকেন।
রাকিব বলেন, সিজার করার সামর্থ্য নেই, এ কারণেই নরমাল ডেলিভারি করানোর জন্য আমার বোনকে সরকারি হাসপাতালে এনেছি। কিন্তু নার্সরা কোনোভাবেই রাজি হননি। নিরুপায় হয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে নেয়ার জন্য আমার বোনকে ভ্যানে ওঠাতেই তার সন্তান জন্ম নেয়। ওই সময় স্থানীয় এক নারী আমাদের সহযোগিতা করেন।
ভুক্তভোগী মনিফা বেগম ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, আমি ব্যথায় মারা যাচ্ছিলাম। নার্স তাহমিনা ও রঞ্জিলা বেগম আমাকে কোনো সহযোগিতা করেননি, উল্টো ভয় দেখিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে যেতে বলেন। এখন আল্লাহর রহমতে আমার চেয়ে ভালো আছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স তাহমিনা বেগম বলেন, আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। মনিফার জরায়ুর মুখ খোলা থাকলেও জরায়ুর বাহিরে কট প্রলাভস থাকায় ঝুঁকি নিতে চাইনি।
আরেক সিনিয়র স্টাফ নার্স রঞ্জিলা বেগম বলেন, ওই প্রসূতির গর্ভে বাচ্চাটি উল্টো হয়ে ছিল। তার একটি পা জরায়ুর বাহিরে বের হয়ে ছিল। তাই আমরা ঝুঁকি না নিয়ে সিজার করতে বলেছি।
মোবাইল বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নাইম হোসেনের বক্তব্য জানা যায়নি।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd