সুনামগঞ্জের শাল্লায় শিক্ষকদের আচরণে অতিষ্ট হয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা অবশেষে অবরুদ্ধ

প্রকাশিত: ৩:২৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০১৯

সুনামগঞ্জের শাল্লায় শিক্ষকদের আচরণে অতিষ্ট হয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা অবশেষে অবরুদ্ধ

Manual8 Ad Code

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা থেকে বদলি হয়ে শাল্লায় আসা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফেরদৌসকে দূর্নীতি ও ব্যাপক অনিয়মের কারনে শাল্লা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ তার নিজ কার্যালয়ে রবিরাব সন্ধ্যা ৭টায় প্রায় ২ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। এসময় উপস্থিত শিক্ষকবৃন্দ শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফেরদৌসের প্রতি চরম ক্ষিপ্ত হন এবং তাকে শাল্লা থেকে চলে যাবারও অনুরোধ জানান। খবর পেয়ে শাল্লা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

Manual5 Ad Code

জানা যায়,বিভিন্ন দূর্নীতির অভিযোগ মাথায় নিয়ে ওই শিক্ষা কর্মকর্তা গত বছরের ১১জুলাই তাহিরপুর উপজেলা থেকে জগন্নাথপুর উপজেলায় বদলি হলে সেখানকার শিক্ষকসহ নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ তাকে প্রত্যাহার করেন। পরে তিনি গত বছরের ৮আগষ্ট উপজেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে শাল্লা উপজেলায় যোগদান করেন। উপজেলার শাল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত ১জানুয়ারী বই বিতরণ অনুষ্ঠানে গিয়ে প্রধান শিক্ষক পীযুষ কান্তি দাসকে অকথ্য ভাষায় উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অভিভাবকবৃন্দের সামনেই গালমন্দ করেন। এতে প্রধান শিক্ষক পীযুষ কান্তি দাস অপমানিত হয়ে উপজেলা শিক্ষক সমিতিকে জানালে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফেরদৌসকে বিষয়টি নিয়ে বার বার আলোচনা করতে চাইলে তিনি তা এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফেরদৌস ঘোষনা দেন,আমি শিক্ষা অফিসার মানে আমি শাল্লার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী। আমি যা করবো,যা করবো,তাই আইন। তিনি আরো ঘোষনা করেন,উপজেলা সদরের বিদ্যালয়ে বদলি হয়ে আসতে দেড় লক্ষ টাকা ও সদরের আশেপাশের বিদ্যালয়ে আসতে এক লক্ষ টাকা যে শিক্ষক দিবে তাকেই তিনি বদলি করবেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি তার ঘোষনা অনুযায়ী ধাম্ভীকতা প্রকাশ করে শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফেরদৌস উপজেলার শিক্ষকদের নানাভাবে হয়রানি ও বিভিন্ন অজুহাতে উৎকোচ আদায় ও অন্যায় আচরণে অতিষ্ট হয়ে উপজেলার ৪৯জন শিক্ষক স্বাক্ষরিত ১৩জানুয়ারী মহাপরিচালক,প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার,সুনামগঞ্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

সর্বশেষ রবিবার সন্ধ্যা ৭টায় বিষয়টি নিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসে শিক্ষকদের তোপের ম‚খে পড়েন ওই কর্মকর্তা। একপর্যায়ে উপস্থিত প্রায় ২৫-৩০জন শিক্ষক তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন র্দীঘ ২ঘন্টা।

Manual6 Ad Code

শাল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পীযুষ কান্তি দাস জানান,গত ডিসেম্বর মাসে তিনি পরিদর্শন শেষে আমার নিকট যাতায়াতের টাকা দাবি করলে আমি উনাকে ১জাহার টাকা দিলে তিনি আরো টাকা দাবি করেন। এতে আমি আপারগতা প্রকাশ করায় তিনি ক্ষুব্দ হয়ে বিদ্যালয়ের পরিদর্শন রেজিস্টারটি অফিসে নিয়ে আসেন। এরই স‚ত্র ধরে তিনি বই বিতরণ অনুষ্ঠানে আমাকে সবার সামনে অপমানিত করেন।

Manual7 Ad Code

কলিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন কান্তি রায় বলেন,আমি কনজ্যুমার ঋণ উত্তোলন করার জন্য ফরমে স্যারের সুপারিশ নিতে ৫শ’ টাকা ঘুষ দিয়েছি। নাম প্রকাশে অনুনিচ্ছুক উপজেলার বাজারকান্দি গ্রামের এক লোক জানান তার ছেলেকে দপ্তরী পদে নিয়োগের জন্য দেড় লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়েছেন ওই শিক্ষা কর্মকর্তা।

এব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফেরদৌস বলেন,প্রধান শিক্ষক পীযুষ কান্তি দাসের সাথে আমার ভ‚ল বুঝাবুঝি হয়েছিল। যা সকল শিক্ষকদের সামনেই সমাধান হয়েছে।

Manual1 Ad Code

শিক্ষকদের দায়েরকৃত অভিযোগপত্র থেকে জানাযায়,উপজেলার গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক সুমিতা রাণী দাস রায়কে মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে বদলির নীতিমালা অনুসরণ না করেই বদলি করে দেন। আগুয়াই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক অঞ্জলী রাণী দাসের ৫মাসের বকেয়া বেতনও মোটা অংকের টাকা বিনিময়ে বিল নং ১৫/২০১৮ ইং মূলে ছাড় করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা গোল্ডেনকাপ-২০১৮এর ২৫হাজার টাকা খেলাধুলা না করিয়েই পকেটস্থ করেন। ২০১৭/১৮অর্থ বছরের প্রতিবন্ধিদের জন্য মালামাল ক্রয়ের ৬০হাজার টাকা কোনো মালামাল ক্রয় না করে তিনি আত্মসাৎ করেন। ২০১৮সালের বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্ন বাবদ ৬৫হাজার ফিসের টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা করে নিজে পকেটস্থ করেন। টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন শিক্ষকদের বেতন ছাড়ের অভিযোগও রয়েছে। যা ইতোমধ্যেই স্থানীয় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। জৈষ্ঠ্যতার ক্রমিক অনুসরণ না করে ২জন শিক্ষককে উৎকোচের বিনিময়ে ২০১৯-২০শিক্ষাবর্ষে ডি.পি-এড প্রশিক্ষণে সুনামগঞ্জ পিটিআইতে ডেপুটেশন প্রদান করেন।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..