সিলেট ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১২ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ১০:০৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটের গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কয়েক হাজার সিএনজি অটোরিকশা চালক এখন গ্যাস সংকটে চরম মানবেতর জীবন যাপন করছেন। পর্যাপ্ত কাগজ না থাকায় ‘অনটেস্ট’ এসব গাড়ি সিলেট মহানগরীতে প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা চালকদের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে সালুটিকর এলাকার ‘ছালিয়া মদিনা সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন’।
সরেজমিনে ছালিয়া মদিনা রিফুয়েলিং স্টেশন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার ওপর সিএনজি অটোরিকশার কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন। স্থানীয় চালকদের দাবি, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার অনটেস্ট সিএনজি এই একটি মাত্র স্টেশন থেকে গ্যাস সংগ্রহ করে। ভোরে লাইনে দাঁড়ালে গ্যাস পেতে বিকেল গড়িয়ে যায়। অনেক সময় পুরো একদিন ব্যয় হয় শুধু গ্যাস নিতেই।
লাইন দাঁড়িয়ে থাকা এক চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ভোরে সিরিয়াল দিছি, এখন দুপুর পার হইয়া গেছে গা। সারাটা দিন যদি লাইনেই কাটে, তাইলে কামাই করমু কখন আর খামু কী?
গাড়িগুলোর বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ট্রাফিক পুলিশের ভয়ে এসব সিএনজি সিলেট শহরে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে প্রান্তিক এলাকার এই চালকরা বাধ্য হয়ে একটি মাত্র পাম্পের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। এই সুযোগে এক শ্রেণির দালাল চক্র ও অসাধু সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জালিয়াতি ও অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশ
অনুসন্ধানে জানা গেছে, লাইনের ভোগান্তি ও পুলিশের তল্লাশি এড়াতে কিছু সিএনজি অটোরিকশা ভূয়া নাম্বার প্লেট ব্যবহার করে শহরে প্রবেশ করছে। অভিযোগ উঠেছে, বিআরটিএ-এর কিছু অসাধু কর্মকর্তা তাদের নিজস্ব ‘সোর্স’ বা দালালের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এসব অবৈধ নাম্বার প্লেট সরবরাহ করছেন। এতে একদিকে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ চালকরা বড় ধরণের আইনি ঝুঁকিতে পড়ছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল ও চালকদের দাবি, অনটেস্ট গাড়িগুলোর রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং এই রুটে সিএনজি স্টেশনের সংখ্যা বাড়ানো হলে এই দীর্ঘ ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলবে। অন্যথায় চালকদের এই দীর্ঘ সময় নষ্ট হওয়ার প্রভাব পড়ছে সাধারণ যাত্রীদের ওপর, যাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd