সিলেট ১৫ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৬শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৪:৩৩ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৪, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক :: Bangladesh Live নামে একটি ফেসবুক পেইজের পোস্টে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ‘নিলিমা বেগম’ নামের এক নারীকে ভর্তি করা এবং তার ওপর ছাত্রদলের এক নেতার নির্যাতনের অভিযোগসংক্রান্ত একটি খবর ছড়িয়ে পড়েছে। খবরটিতে দাবি করা হয়, জুলাই বিপ্লবের শহীদ ‘আবুল কালাম’-এর পরিবারের সদস্য হিসেবে ওই নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তবে অনুসন্ধানে এই সংবাদের কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি।
পুলিশ প্রশাসন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠনের অনুসন্ধানে বিষয়টি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও গুজব হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই:
সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মাঈনুল জাকির বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, খবরটি চোখে পড়ার পরপরই তারা সত্যতা যাচাইয়ে মাঠে নামেন। তিনি বলেন, “রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ওসমানী হাসপাতালের ওসিসি (ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার)সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এমন কোনো ভিকটিম বা ঘটনার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। থানায়ও কেউ কোনো অভিযোগ করেননি।”
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসির দায়িত্বে থাকা এসআই সেলিনা রুবি জানান, গত ২ মার্চ থেকে ৩ মার্চ রাত পর্যন্ত ‘নিলিমা বেগম’ নামে কোনো ভিকটিম হাসপাতালে ভর্তি হননি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের রেকর্ড অনুযায়ী অভিযোগটি ভিত্তিহীন।
১৫ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত সরকারি গেজেট অনুযায়ী, জুলাই বিপ্লবে শহীদ হওয়া ৮৩৪ জনের তালিকায় সিলেট অঞ্চলের ‘আবুল কালাম’ নামের কোনো ব্যক্তির নাম নেই।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিলেট অঞ্চলের নেতাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, সিলেটে গেজেটভুক্ত জুলাই শহীদ সংখ্যা ৩২ জন এবং এই তালিকার কোথাও আবুল কালাম নামের কোনো শহীদ নেই।
এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ বলেন, “সিলেটের শহীদদের নিয়ে আমাদের ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নিয়মিত কাজ করে। তাদের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে, এমন কোনো পরিবারের সঙ্গে কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিভ্রান্তি দূর করতে আমি তাৎক্ষণিকভাবে কোতোয়ালি থানার ওসিকে ফোন দিয়ে বিষয়টি যাচাইয়ের অনুরোধ করেছি।”
ছড়িয়ে পড়া এই সংবাদে ভিকটিমের নাম উল্লেখ থাকলেও অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় বা ঘটনার সপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। এছাড়া নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্র বা দাপ্তরিক তথ্যের সাথে এর কোনো মিল নেই। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা একে একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
সাধারণ পাঠকদের প্রতি অনুরোধ, যাচাইহীন কোনো সংবাদের ভিত্তিতে বিভ্রান্ত না হয়ে নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যম ও প্রশাসনের তথ্যের ওপর আস্থা রাখুন।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd