গোয়াইনঘাটে ভারতীয় মহিষের ‘অবৈধ সিন্ডিকেট’: কোওর বাজারে মুছা মিয়ার রসিদের আড়ালে বৈধতা

প্রকাশিত: ৫:৩৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ২, ২০২৬

গোয়াইনঘাটে ভারতীয় মহিষের ‘অবৈধ সিন্ডিকেট’: কোওর বাজারে মুছা মিয়ার রসিদের আড়ালে বৈধতা

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি :: সিলেটের গোয়াইনঘাট সীমান্তে ভারত থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে আসা মহিষের এক বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে এসব মহিষ প্রকাশ্যে দেশে প্রবেশ করিয়ে কোওর বাজারে এনে কেনাবেচা করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বাজার ইজারাদার মুছা মিয়া রশিদ প্রদানের মাধ্যমে এসব অবৈধ গবাদি পশুকে ‘বৈধতা’ দিচ্ছেন, যা নিয়ে স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

রশিদের আড়ালে ‘বৈধতার’ কারসাজি
স্থানীয় সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা যায়, সীমান্তবর্তী বিভিন্ন পয়েন্ট ব্যবহার করে প্রতিদিন ভারতীয় মহিষ দেশে প্রবেশ করানো হচ্ছে। এরপর এসব মহিষ সোজা চলে আসে গোয়াইনঘাটের কোওর বাজারে। স্থানীয়দের দাবি, এই বাজারে ইজারাদাররা নিয়মিত রশিদ প্রদান করে এসব চোরাই মহিষকে বৈধতা দেওয়ার অপচেষ্টা করছেন। মূলত আইনি জটিলতা এড়াতে ও বাজারে কেনাবেচা স্বাভাবিক রাখতে এই ‘রশিদ বাণিজ্য’ চলছে বলে ধারণা করছেন সচেতন মহল।

পাচারের রুট ও ইটের ভাটায় আস্তানা
বাজার থেকে মহিষগুলো কেনার পর সেগুলোকে গোয়াইনঘাটের বেখড়া এলাকার একটি ইটভাটায় জড়ো করা হয়। সেখান থেকে ট্রাক ও বিভিন্ন যানবাহনে করে মহিষগুলো পাচার করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। একটি সুসংগঠিত চোরাচালান চক্র এই পুরো প্রক্রিয়ার নেপথ্যে কাজ করছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নীরবতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন
সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে গবাদি পশু প্রবেশের বিষয়টি ৪৮ বিজিবির নিয়মিত টহলের আওতাভুক্ত থাকা সত্ত্বেও তা কীভাবে অগোচরে রয়ে যাচ্ছে-তা নিয়ে জনমনে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে, জনসম্মুখে বাজারে মহিষের কেনাবেচা এবং সড়কপথে পরিবহনের সময়ও স্থানীয় গোয়াইনঘাট থানার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় অভিযোগের তীর এখন পুলিশ ও বিজিবির দিকে। সচেতন নাগরিকরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অগোচরে এত বড় পরিসরে চোরাচালান ও বাণিজ্য হওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

উপজেলা প্রশাসনের কঠোর হুঁশিয়ারি
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। তিনি বলেন, “অবৈধভাবে ভারতীয় মহিষ প্রবেশ, বাজারে বিক্রি ও পরিবহনের অভিযোগ আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে তথ্য সংগ্রহ ও খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বাজার ইজারাদারসহ জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”

তদন্তের দাবি সচেতন মহলের
এই পুরো প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত চোরাচালানকারী, আশ্রয়দাতা ইজারাদার এবং দায়িত্বরত আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অবিলম্বে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

March 2026
S S M T W T F
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  

সর্বশেষ খবর

………………………..