সিলেট ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৩, ২০২০
রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদকালে গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) হুমকি দিয়ে পাপিয়া ওরফে পিউ বলেছেন, ‘বেশি চাপাচাপি করবেন না, করলে সব ফাঁস করে দেব।’ এই সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশের পর তার অপকর্মের সঙ্গী নারী নেত্রীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে পাপিয়াকে নিয়ে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক এক এমপিকে বারিধারার এক বাড়িতে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। তারা চাঁদাবাজি ও হুমকি-ধামকি দিতেই সে দিন ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে থাকা নেত্রীরা তদবির বাণিজ্যসহ নানা অপকর্মের জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন সচিবালয় কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর। ইতোমধ্যে তাদের ব্যাংক হিসাবসহ সব ধরনের খোঁজখবর নিতে শুরু করেছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। প্রশাসনের ও ক্ষমতাসীন দলের উচ্চ পর্যায়ের একাধিক সূত্র এসব বিষয় নিশ্চিত করেছেন।
সূত্র জানায়, শুধু সরকারি দলের অঙ্গ সংগঠনগুলোর নেত্রীই নন, যারা সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপি ও নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সেলফি তুলে স্যোশাল মিডিয়ায় দিতে ব্যস্ত তাদের ব্যাপারেও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। নজরদারিতে রাখা হয়েছে ‘বাজার পড়ে যাওয়া’ মধ্যমসারির সিনেমার অভিনেত্রী ও উঠতি মডেলদেরও। যাদের অধিকাংশকেই এখন সিনেমা, নাটক বাদ দিয়ে সরকারি দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে, রাজধানীর তারকা হোটেলগুলোতে দেখা যায়। যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী পাপিয়াদের সঙ্গে তাদেরও যোগসাজশ রয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছেন।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দেশত্যাগের সময় পাপিয়াসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। আটককালে তার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা, ইয়াবা, মদ ও জাল মুদ্রা উদ্ধার করা হয়। পরদিন তাকে নিয়ে নরসিংদী ও রাজধানীর ফার্মগেটের বাসায় অভিযান চালায় র্যাব। অভিযানে ফার্মগেটের বাসা থেকে নগদ ৫৮ লাখ টাকা, অবৈধ পিস্তল ও গুলি, বিদেশি মুদ্রা ও মদ উদ্ধার করা হয়। এরপর দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশেই পাপিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের শাস্তি দেওয়ার সৎ সাহস রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্যে একমাত্র শেখ হাসিনারই আছে। তাই অপরাধ করে কেউ পার পেয়ে যাবে, এটি ভাবার কোনো কারণ নেই।
অপকর্মের হোতাদের নজরদারিতে রাখার কথা জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, শুধু যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী পাপিয়া নয়, অপকর্ম, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদকের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকে নজরদারিতে আছে। এছাড়া পাপিয়াদের পিছনে যারা আছেন তারাও নজরদারির বাইরে নয়। টার্গেট পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সেতুমন্ত্রী অপকর্মকারীদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশের যে কোনো প্রান্তে হোক- অপকর্ম, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ ও মাদকের সঙ্গে দলের লোকজন যদি জড়িত থাকে সেও রেহাই পাবেন না। তারা ইতোমধ্যে নজরদারিতে চলে এসেছেন। থেমে থেমে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে। এছাড়া এই অপকর্মের পিছনে যারা কলকাঠি নাড়ছেন তারাও রেহাই পাবেন না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে অপকর্মকারীদের বিরুদ্ধে কঠিন অবস্থানের কারণে দুর্নীতিগ্রস্তরা এখন আতঙ্কিত। রাজনৈতিক নীতি-নৈতিকতার চর্চা না করা এমন ঘাপটি মেরে থাকা অনেক পাপিয়া এখন দেশে ছেড়ে পালানোর পথ খুঁজছেন। যেসব নেতা-নেত্রী সর্বত্র দাপিয়ে বেড়াতেন তারাও এখন অনেকটা আত্মগোপনে। হয়তো পাপিয়ার মতো পালানোর সময় ধরা পড়বেন বিমানবন্দরে এমনটাই বলছেন বিশ্লেষকরা।
পাপিয়াকে র্যাব গ্রেপ্তারের পর যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি নাজমা আকতার ও সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে সংগঠনে শুদ্ধি অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়ে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমার কাছে অনেক রিপোর্ট আসছে, অনেকের নাম আছে। আমি কাউকে ছাড়ব না। এ ব্যাপারে প্রশাসনের সর্বস্তরে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd