যুবলীগ নেতাকর্মীদের বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে পথচলার নির্দেশনা দেন: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৩:৪৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৩, ২০১৯

যুবলীগ নেতাকর্মীদের বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে পথচলার নির্দেশনা দেন: প্রধানমন্ত্রী

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুবলীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, রাজনীতি নিজের জন্য নয়। এটা দেশের জন্য এবং দেশের মানুষের জন্য। রাজনীতি করতে গিয়ে যদি কেউ বিপথে যায় তাকে ছাড়া হবে না। সে যেই হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি নেতাকর্মীদের বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে পথচলার নির্দেশনা দেন। শনিবার দুপুরে আওয়ামী যুবলীগের সপ্তম কংগ্রেস উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত সপ্তম কংগ্রেসে সভাপতিত্ব করেন চয়ন ইসলাম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্ট পেশ করেন হারুনুর রশীদ, স্বাগত বক্তব্য রাখেন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী ও শোকপ্রস্তাব পাঠ করেন অ্যাডভোকেট বেলাল হোসেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ নিয়ে সংগঠন করতে পারলে সংগঠন শক্তিশালী হবে, দেশ এগিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, দেশকে সন্ত্রাসমুক্ত দুর্নীতি-জঙ্গিবাদ ও মাদকমুক্ত করার জন্য আমরা অভিযান চালাচ্ছি। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। সন্ত্রাস-দুর্নীতি জঙ্গিবাদ মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকলে সে রেহাই পাবে না। তাকে যেকোনো মূল্যে শাস্তি পেতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যুবকরাই মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। এ দেশ গড়ে তোলার দায়িত্বও যুবকদের। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেন কোনো যুবনেতার বদনাম না হয়। যুবকদের অবশ্যই দেশের জন্য কাজ করতে হবে এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছিল ক্ষমতা ভোগের জন্য নয়, এদেশের মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য। দেশের মানুষ যেন ভালো থাকে দেশের মানুষ যেন দুমুঠো খেয়ে-পরে ভালোভাবে জীবনযাপন করতে পারে সে জন্য যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করা হয়েছে। ক্ষমতা ভোগদখলের জন্য নয়। ক্ষমতা হলো মানুষকে কিছু দেয়ার জন্য। ইতঃপূর্বে ক্ষমতাকে যারা ভোগদখল হিসেবে ব্যবহার করেছে তারা দেশের মানুষকে কিছু দিতে পারেনি।

তিনি উল্লেখ করেন, আমরা দেশের মানুষের জন্য কাজ করি বলেই ১০ বছরে মানুষকে অনেক কিছু দিতে পেরেছি। যারা ২৯ বছর রাষ্ট্র চালিয়েছে তারা কি দিতে পেরেছে? জনগণকে কিছু দিতে হলে দেশকে ভালোবাসতে হয়। যারা দেশের স্বাধীনতা বিশ্বাস করে না তারা দেশকে কিছু দিতে পারে না।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতু বিষয়ে আমার ও আমার পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে। আমি চ্যালেঞ্জ করেছিলাম। পরে প্রমাণ হয়েছে তারা আমার এবং আমার পরিবারের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতি বের করতে পারেনি বরং খালেদা জিয়া এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি খুঁজে পেয়েছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, সততার শক্তি সবচেয়ে বড় শক্তি। সততা আছে বলেই চ্যালেঞ্জ করেছিলাম। দেশের সম্পদ পদ্মা সেতু যাতে গড়ে না ওঠে সে জন্য আমার দেশের কিছু লোক আমেরিকায় আমার বিরুদ্ধে নালিশ করেছিল। নোবেল প্রাইজ পাওয়া একজন লোক ব্যাংকের এমডি পদের জন্য উঠেপড়ে লেগেছিল।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ৯০ ভাগ আমরা নিজের অর্থে বাস্তবায়ন করছি। দশ পার্সেন্ট টাকা আমরা বিদেশিদের কাছ থেকে নিয়েছি কিন্তু সেটা আবার তাদের সুদে-আসলে বুঝিয়ে দিচ্ছি। কারও কাছে দান নিয়ে আমরা টাকা নিচ্ছি না। ধার করে ঘি খাওয়ার চেয়ে নিজের অর্থায়নে নুনভাত খাওয়া অনেক ভালো।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এগিয়ে যাবে। কেউ আর বাংলাদেশের এগিয়ে চলা রুখতে পারবে না। আগামী ৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে উন্নত-সমৃদ্ধ একটি বাংলাদেশ পায় এ জন্য আমরা ডেল্টাপ্লান ২১০০ ঘোষণা করে কাজ করে যাচ্ছি।

এ আগে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বেলুন উড়িয়ে কংগ্রেসের উদ্বোধন করেন। সাংগঠনিক পতাকা উত্তোলন করেন কংগ্রেসের আহ্বায়ক চয়ন ইসলাম। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আকাশে শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে দেন।

প্রধান অতিথি শেখ হাসিনাকে উত্তরীয় পরিয়ে দেয়া হয়। যুবলীগের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়া হয় এবং ক্রেস্ট উপহার দেয়া হয়। মূলপর্বের আগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘জয়ের পরে জয়ের প্রতিচ্ছবি’ অনুষ্ঠিত হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আনজাম মাসুদ।

Sharing is caring!

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

November 2019
S S M T W T F
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30  

………………………..