সিলেট ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৯:০০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৯
ডেস্ক রিপোর্ট:: সিলেট নগরীর মিরাবাজারে সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের পৈত্রিক বসতবাড়ি জাল নামজারির মাধ্যমে জবরদখল করে রেখেছিলেন স্থানীয় জামায়াত নেতা মিরাবাজারের আব্দুল মুতলিবের ছেলে রেজাউল করিম রেজা গংরা।
দীর্ঘ এক যুগ পর নগরীর মিরাবাজারের আগপাড়া এলাকার ১৯ নম্বর বাসা বেদখল হওয়া ভিটে উদ্ধার করেছে সংখ্যালঘু পরিবার। বুধবার (১৩ ফেব্র“য়ারি) মনোজ দে দখলবাজ রেজাউল করিম গংদের কাছ থেকে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তার ভিটে উদ্ধার করেন।
অভিযোগ রয়েছে- পরিত্যক্ত প্রায় ৮ শতক বাড়ি শ্রেণীর ভূমি প্রতিবেশি রেজাউল করিম দখল করে রেখেছিলেন। সকল আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে বৈধ কাগজে মৌরসি সম্পত্তির দাবিদার হিসেবে বাড়িটিতে এলে এলাকার মানুষজন জড়ো হন। সকাল ১০টায় সংখ্যালঘু পরিবারের ভূমি নিয়ে এলাকায় মৃদু শোরগোল শুরু হয়। মৌরসী স্বত্ত্বে ৫৬ রেকর্ড ও বর্তমান পর্চা সংখ্যালঘু পরিবারের নামে থাকায় এলাকার মানুষজনও মনোজ দে’র পাশে দাঁড়ান। সোবহানীঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ কামাল আহমদ ওই সময় ঘটনাস্থলে যান। যাওয়ার পর উভয় পক্ষকে কোন উশৃঙ্খলতা না করে তাদের জমির কাগজ দেখানোর কথা বলেন। তখন মনোজ দে তার জমির এস.এ রেকর্ড, বর্তমান পর্চা দেখান, অপরপক্ষ দখলবাজ রেজাউল গংরা কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। তখন ফাঁড়ির ইনচার্জ বলেন- আপনারা উভয় পক্ষ কাগজ নিয়ে থানায় আসবেন।
এসময় নগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবি এম জিল্লুর রহমান উজ্জল, এলাকার বিশিষ্ট সালিশ ব্যক্তিত্ব মুরব্বি সুনু মিয়া, মোমিত মিয়া, মৌসুমী ক্লাবের সভাপতি মনসুর চৌধুরী, মুজিবুর রহমান, তপন মিত্র পাল, সাদিক আহমদ, মিজানুর রহমান, উবায়েদ বিন বাসিত সুমন, এইচ এম হিমেল আহমদ বিষয়টির শান্তিপূর্ণ মীমাংসার উদ্যোগ নেন। তারা ফাঁড়ির ইনচার্জ কামাল আহমদকে বলেন- আমরা উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে মধ্যতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এক দিনের মধ্যে আমরা মীমাংসার করা হবে। যে জায়গার প্রকৃত মালিক তাকেই জায়গা সমঝিয়ে দেওয়া হবে।
সংখ্যালঘু পরিবারের মনোজ দে বলেন,‘ আমার আত্মীয়-স্বজন অনেকেই ভারতে চলে গিয়েছিলেন। ৫৬ রেকর্ড অনুযায়ী জায়গার মালিক আমার বাবা স্বর্গীয় বিমল কান্তি দে। পরিত্যক্ত জায়গা দেখে আমাদের পিছনের প্লটের প্রতিবেশি জামায়াত নেতা রেজাউল করিম জালিয়াতি করে জায়গাটি জবরদখল করে রাখেন। পরে আমি ভূমি আইনের সকল লড়াই শেষ করে জায়গাটির কাগজ বুঝে পেয়েছি। ১২ বছর পর আমি বাড়িতে এসেছি।’
এ ব্যাপারে জানতে রেজাউল করিমের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কথা বলতে রাজি হননি। সিটি কাউন্সিলর এবি এম জিল্লুর রহমান উজ্জল বলেন, ‘এলাকার মানুষজনের কাছ থেকে এই সংখ্যালঘু পরিবারের কথা জেনে আমি ঘটনাস্থলে যাই। একদিনের সময় নিয়েছি। দুপক্ষকে ডেকে যার কাগজপত্র বৈধ পাবো-আমরা এলাকাবাসী মিলে তার হাতে জায়গা সমঝে দিব।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd