মুশফিকদের হারিয়ে প্রথম জয় ওয়ার্নারের সিলেটের

প্রকাশিত: ৫:১০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৯, ২০১৯

মুশফিকদের হারিয়ে প্রথম জয় ওয়ার্নারের সিলেটের

Manual2 Ad Code
ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : শেষ ওভারে দারুণ নাটক জমিয়ে তুলেছিলেন চিটাগং ভাইকিংসের দক্ষিণ আফ্রিকান রিক্রুট রবি ফ্রাইলিংক। দুটি ছক্কাসহ তুলে ফেলেছিলেন ১৮ রান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারলেন না দলকে জেতাতে। ৫ রান দুরে থাকতেই থেমে যেতে হলো তাকে এবং চিটাগং ভাইকিংসকে। ১৬৮ রানের জবাবে ৭ উইকেট হারিয়ে চিটাগাং সংগ্রহ করলো ১৬৩ রান।

প্রথম ম্যাচে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কাছে হেরে যাওয়ার পর প্রথম জয়ের লক্ষ্য নিয়ে চিটাগংয়ের মুখোমুখি হলো ডেভিড ওয়ার্নারের সিলেট সিক্সার্স। অবশেষে শ্বাসরূদ্ধকর ম্যাচে ৫ রানে আশরাফুল-মুশফিকদের দল চিটাগং ভাইকিংসকে হারিয়ে জয়ের দেখা পেলো সিলেট।

১৬৯ রানের লক্ষ্য। ঢাকার মাঠে দিনের ম্যাচে এই লক্ষ্য পাড়ি দেয়া সত্যিই কঠিন। কারণ, দিনের আলোয় মিরপুরের উইকেট থাকে কিছুটা স্লো। রান তোলা কষ্টকর। এমন উইকেটে শুরুটা দারুণ ছিল চিটাগংয়ের। ক্যামেরণ ডেলপোর্ট আর মোহাম্মদ আশরাফুল মিলে দ্বিতীয় উইকেটে দারুণ জুটি গড়ে তোলেন।

Manual7 Ad Code

কিন্তু সিলেটের পেসার তাসকিন আহমেদের গতির কাছে হার মানতে হয়েছে চিটাগংকে। দীর্ঘদিন পর বল হাতে আবারও নিজেকে চেনালেন তাসকিন। ৪ ওভার বল করে ২৮ রান দিয়ে একাই নিলেন ৪ উইকেট। তাসকিনের গতির কাছে চিটাগংয়ের রানের গতিও মন্থর হয়ে পড়েছিল।

Manual2 Ad Code

যে কারণে শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন হয় ২৪ রান। রবি ফ্রাইলিঙ্ক ২ ছক্কায় তুলে ফেলেন ১৮ রান। বোলার ছিলেন আল-আমিন। শেষ দুটি বল খুব বুদ্ধিদীপ্ত ডেলিভারি দেয়াতে রবি ফ্রাইলিংক পারলেন না ওই দুটিকে বাউন্ডারিতে পরিণত করতে। শেষ পর্যন্ত ৫ রানে বিপিএলে প্রথম জয়ের দেখা পেলো সিলেট সিক্সার্স।

সিলেট সিক্সার্সের করা ১৬৮ রানের জবাব দিতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারিয়ে বসে চিটাগং ভাইকিংস। আফগান মারকাটারি ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ শাহজাদ ৪ বলে ৬ রান করে তাসকিন আহমেদের বলে ফিরে যান ওয়ার্নারের হাতে ক্যাচ দিয়ে।

প্রথম ওভারের চতুর্থ বলে দলীয় ৬ রানের মাথায় প্রথম উইকেট পড়ার পরই মাঠে নামেন আশরাফুল। অর্থ্যাৎ ইনিংসের প্রথম ওভারেই মাঠে নামতে হয় তাকে। জুটি বাধেন ক্যামেরন ডেলপোর্টের সঙ্গে।

প্রথম ম্যাচে করেছিলেন মাত্র ৩ রান। প্রায় ৬ বছর পর বিপিএলে ফেরার পর শুরুতেই হতাশ করেছিলেন তিনি। তবুও আশরাফুলের ভক্তরা তাকিয়েছিলেন তার ব্যাটের দিকে। আবারও যদি সুযোগ পান, আবারও যদি জ্বলে উঠতে পারেন তিনি।

Manual6 Ad Code

এবারও সুযোগ পেলেন আশরাফুল এবং নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে শুরু করেছিলেন প্রায়। সিলেট সিক্সার্সের বিপক্ষে ব্যাট হাতে মাঠে নেমে কিছু রানও করেছিলেন তিনি। তবে কিছুটা স্লো। তবুও তো রান আসছিল আশরাফুলের ব্যাটে। কিন্তু খুব বেশি দুর যেতে পারেননি। ২৩ বল খেলে ২২ রান করে আউট হয়ে যান আশরাফুল।

জুটিটা ভালোই গড়েছিলেন আশরাফুল। নিজে স্লো হলেও অন্য প্রান্তে ডেলপোর্ট ছিলেন মারমুখি। ২২ বল খেলেছেন তিনিও। তবে ৪ বাউন্ডারি আর ৩ ছক্কায় তিনি রান করেন ৩৮টি। তবে ডেলপোর্টের দুর্ভাগ্য। সন্দিপ লামিচানের সরাসরি থ্রোতে স্ট্যাম্প ভেঙে গেলে রানআউট হয়ে যান তিনি।

Manual2 Ad Code

জুটি ভেঙে যাওয়ার পর আশরাফুলও টিকলেন না। ডেলপোর্ট চলে যাওয়ার পর আশরাফুল চেয়েছিলেন মারমুখি হতে। তাতেই সর্বনাশ ঘটে তার। উইকেট হারান ছক্কা মারতে গিয়ে। তাসকিন আহমেদের বলে সাব্বির রহমানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে গেলেন।

ডেলপোর্ট আর আশরাফুল ফিরে যাওয়ার পর চিটাগং ভাইকিংসও যেন ছন্দ হারিয়ে ফেলেছে। আগের ম্যাচে রান করা মুশফিকুর রহীম আউট হলেন ৫ রান করে। মোসাদ্দেক হোসেন ১০ বলে ৭ রান করে আউট হয়ে যান।

তবে সিকান্দার রাজা এবং রবি ফ্রাইলিঙ্ক মিলে আবারও জাগিয়ে তোলেন চিটাগংয়ের আশা। দু’জনের ব্যাটে ৩৭ রানের জুটি গড়ে উঠলে প্রায় জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায় চিটাগং। ২৮ বলে ৩৭ রান করে আউট হন সিকান্দার রাজা।

নাঈম হাসান কোনো রান না করলেও সানজামুলকে নিয়ে শেষ মুহূর্তে ঝড় তোলেন ফ্রাইলিঙ্ক। ২৪ বলে ৪৪ রান করে অপরাজিত থাকেন দক্ষিণ আফ্রিকান এই অলরাউন্ডার। শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে ১৬৩ রানে থেমে যেতে হলো চিটাগং ভাইকিংসকে। তাসকিন আহমেদের ৪ উইকেটের সঙ্গে ২ উইকেট নেন অলক কাপালি।

সিলেট সিক্সার্সের অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার বোলার ব্যবহার করলেন ৭জন। ২০ ওভারে ৭ বোলার বল করা বিস্ময়করই বটে। তাসকিন আহমেদ, মোহাম্মদ ইরফান, নাসির হোসেন, আল আমিন হোসেন, সন্দিপ লামিচানে, আফিফ হোসেন এবং অলক কাপালি- এই সাতজন হাত ঘোরানোর সুযোগ পান।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৬৮ রান সংগ্রহ করে সিলেট সিক্সার্স। লিটন দাস শূন্য রানে, নাসির হোসেন ৩ রানে এবং সাব্বির রহমান শূন্য রানে আউট হয়ে গেলেও একপ্রান্ত ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন ডেভিড ওয়ার্নার। আফিফ হোসেন ধ্রুবর সঙ্গে জুটি বাধেন তিনি।

ওয়ার্নার ৪৭ বলে খেলেন ৫৯ রানের ইনিংস। ২৮ বলে ৪৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন আফিফ হোসেন। ৫টি বাউন্ডারির সঙ্গে ৩টি ছক্কার মার মারেন তিনি। তবে নিকোলাস পুরান ছিলেন সবচেয়ে বিধ্বংসী। ৩২ বলে তিনি খেলেন ৫২ রানের ঝড়ো ইনিংস। ৩টি করে বাউন্ডারি এবং ছক্কার মার মারেন পুরান। রবি ফ্রাইলিঙ্ক নেন ৩ উইকেট।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..