সিলেট ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৭:৫৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৯, ২০১৮
কমলগঞ্জ প্রতিনিধি :: বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান সড়কের সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুগাছ-পাত্রখোলা সংযোগ রক্ষাকারী বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান সড়কের সংস্কার কাজে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এলজিইডির তত্ত্বাবধানে ৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যায়ে পরিচালিত এই সংস্কার কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে প্রকল্পের আসল উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
জেলার গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন পর্যটকবাহী অসংখ্য হালকা ও ভারী যানবাহন চলাচল করে। আগামী ২৩ নভেম্বর (শুক্রবার) নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠি মনিপুরি সম্প্রদায়ের আয়োজনে দেশের সর্ববৃহৎ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রাস উৎসব দেখতে উপজেলার আদমপুর ও মাধবপুরে কয়েক লাখ লোকের আগমন ঘটবে। উৎসব উপলক্ষে সড়কে হাজারো যানবাহন চলাচল করবে।
এ পরিস্থিতিতে রাস্তাটির সবচেয়ে বিপদজনক স্থান ধলাইর পার এলাকায় কার্পেটিংয়ে নিম্নমানের ইটের খোয়ার উপর মাটি মিশ্রিত বালি দিয়ে কার্পেটিংয়ের কাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই এলাকায় রাস্তার পশ্চিম পাশে রোলিং না করেই কাঁদা মাটি দিয়ে রাস্তার সাইট ভরাটের কাজ চলছে। বিষয়টি তদারকির দায়িত্ব যাদের হাতে তারা বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। যার ফলে ওই স্থানে ভারী যানবাহন ডেবে গিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ভানুগাছ-পাত্রখোলা সংযোগ রক্ষাকারী বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান সড়কের সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছেএদিকে একই সড়কের চলমান এই সংস্কার কাজের অংশ হিসাবে ভানুগাছ চৌমুহনীতে যে সংস্কার কাজ চলছে সেখানেও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পুরনো কার্পেট ভেঙে রাস্তা লেভেল করে তার ওপর ৩ ইঞ্চি ১নং ইটের খোয়া দিয়ে কার্পেটিং করার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। চলমান কাজে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি আবর্জনা ও ডাস্ট মিশ্রিত নিম্নমানের খোয়া ব্যাবহার করছেন। নিয়ম অনুযায়ী ১০ টন ওজনের রোলার ব্যবহারের কথা থাকলেও কাজ করা হচ্ছে ৫ টন রোলার দিয়ে। ৩ ইঞ্চি তো দূরের কথা অনেক জায়গায় এক ইঞ্জি খোয়াও পর্যন্ত নেই।
এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১৮ নভেম্বর বিকালে সরেজমিনে গেলে এ কাজের তদারকিতে এলজিইডির কোনও কর্মকর্তাকেও মাঠে পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকরা জানালে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে আবর্জনা ও ডাস্ট মিশ্রিত খোয়া সরিয়ে সেখানে পরিষ্কার খোয়া বিছানোর নির্দেশ দিয়েছি।’
তবে ভানুগাছ বাজারের বাসিন্দা এম ওয়াহিদ রুলু জানান, ‘উপজেলা প্রকৌশলী নির্দেশের পর বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে আবর্জনা ও ডাস্ট মিশ্রিত খোয়া বিছানোর কাজ অব্যাহত রয়েছে। এসব নিম্নমানের কাজের ফলে নির্মাণ কাজের কিছুদিনের মধ্যেই রাস্তাটিতে আবার খানা-খন্দের সৃষ্টি হবে। তাই বিষয়টির প্রতি প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি।’
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd