সিলেট ৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৮ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৮:৫৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০১৮
ডেস্ক রিপোর্ট:: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শাহ আরফিন টিলায় একের পর এক শ্রমিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও তাতে থেমে নেই পাথরখেকোদের কালো থাবা। দেশের প্রচলিত আইনকে উপেক্ষিত করে দীর্ঘদিন যাবৎ অবাদে পাথর লুটপাটের মাধ্যমে ধ্বংস করা হচ্ছে উক্ত টিলাটি। বারবার লাশের মিছিলেও রক্ষা পাচ্ছে না শাহ আরফিন টিলা। তিন রত্নের বেপরোয়া লুটপাটে শাহ আরফিন টিলা এখন প্রায় কঙ্কালে রুপ নিয়েছে। এখনো চলছে এই টিলা কেটে পাথর উত্তোলন। তার সাথে যুক্ত হয়েছে পাথর উত্তোলনের বোমামেশিন নামক দানবযন্ত্রও।
স্থানীয়দের মতে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কিভাবে চলছে পাথরখেকোদের বেপরোয়াভাবে পাথর উত্তোলন। পাথরখেকোরা নিরীহ শ্রমিকদের দিয়ে অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাথর উত্তোলন করানোর ফলে কিছুদিন পরপর টিলা ধসে সেখানে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে থাকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহ আরফিন টিলায় পাথর লুটপাট ও ধ্বংসের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিন রত্ন। সেই রত্নরা দীর্ঘদিন ধরে শাহ আরফিন টিলা কেটে এমনকি বোমামেশিন দিয়ে পাথর লুটপাটের ফলে টিলার পাশাপাশি আশপাশের পরিবেশকে বিশাল হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। জনজীবনে নেমে এসেছে ব্যাপক ভোগান্তি। তিন রত্ন নামে খ্যাতি পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন, কোম্পানীগঞ্জের কাঁঠালবাড়ি গ্রামের জিহাদ আলী ও তার ছেলে মোহাম্মদ আলী এবং জালিয়ারপাড় গ্রামের মৃত আব্দুলের ছেলে হুশিয়ার আলী। তাদের নেতৃত্বে শাহ আরফিন টিলায় বন্ধ থাকা পাথর উত্তোলন অতীতের ন্যায় বর্তমানেও শুরু হয়েছে। বিনিময়ে তারা হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি টাকা। আবার প্রশাসনকেও ম্যানেজ করে চলছেন দিব্যি।
তথ্য সূত্রে জানা যায়, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ১নং পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়নে সরকারি খাস খতিয়ানের ১৩৭ দশমিক ৫০ একর জায়গা নিয়ে শাহ আরফিন টিলা অবস্থিত। লালচে, বাদামী ও আঠালো মাটির নিচে রয়েছে পাথরের বিশাল ভান্ডার। এসব পাথর লুটপাটে চলছে টিলা কাটা ও বোমামেশিনের তান্ডব লীলা।
আর সেই টিলা কাটা ও বোমামেশিনের তান্ডব লীলার নেতৃত্বদানকারী তিন রত্নের সাথে জোট বেধে পাথর লুটপাটে সক্রিয় রয়েছে আরো একটি সিন্ডিকেট। সেই সিন্ডিকেটের সদস্যরা হলেন, জালিয়ারপাড় (শাহ আরফিন টিলা) এলাকার শুকুর আলীর ছেলে বশর মিয়া, মাসুক মিয়া, সাদ্দাম হোসেন, ফারুক মিয়া, এলাইছ মিয়া, জালিয়ারপাড় গ্রামের মৃত আব্দুল আলীর ছেলে হুশিয়ার আলী, হোসেন মিয়া, ফয়জুর রহমান, আব্দুল গনির ছেলে ইব্রাহিম আলী ও ইসমাঈল আলী, মোঃ আব্দুল আলীর ছেলে সোলেমান, চিকাডর গ্রামের মৃত মনফর আলীর ছেলে আইয়ুব আলী, মৃত ইউনুস আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন আনাই, আব্দুল হান্নান ও আব্দুর রহমান, মৃত তছির আলীর ছেলে ইউপি সদস্য আজির উদ্দিন। তারা শাহ আরফিন টিলায় পে-লোডার দিয়ে টিলা কেটে ও বোমামেশিনের মাধ্যমে প্রায় দুই শতাধিক কোয়ারী থেকে কোটি টাকার পাথর লুটপাট করছে প্রতিদিন। আর প্রশাসন শুধুই দেখে যাচ্ছে। তাদের যেন কিছুই করার নেই।
শাহ আরফিন টিলা থেকে প্রতিদিন প্রায় হাজারখানিক পাথরবাহী ট্রাক্টর গাড়ি থেকেও আবার জিহাদ আলী ও তার ছেলে মোহাম্মদ আলী বাবুল নগর এলাকায় আদায় করছে রয়্যালিটির নামে চারশত টাকা করে। সেই আদায়কৃত কয়েক লাখ টাকা প্রতিদিন ভাগ-ভাটোয়ারা হয় প্রশাসন থেকে শুরু করে হুশিয়ার আলীসহ উপরোক্ত সিন্ডিকেট চক্রের মধ্যে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তিরা জানান, শাহ আরফিন টিলা থেকে যেভাবে অপরিকল্পিতভাবে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে সেভাবে চলতে থাকলে অতীতের ন্যায় বর্তমানেও যেকোন সময় ঘটতে পারে বিশাল শ্রমিক হতাহতের ঘটনা। শুরু হবে আবারো বিশাল লাশের মিছিল। তারা ক্ষোভের সাথে আরো জানান, প্রশাসন যদি যথাযথ প্রদক্ষেপ নিতো তাহলে হয়তো পাথরখেকোরা এত বেপরোয়া হতে পারতো না। তবে রক্ষক যখন ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় তখন আমরা সাধারণ জনতা যাবো কোথায়। কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল হাইকে শাহ আরফিন টিলায় টিলা কাটায় ব্যবহৃত প্রায় অর্ধশতাধিক পে-লোডার মেশিনের প্রতিটি থেকে তিন হাজার ও প্রায় ৭০/৮০টি বোমামেশিন নামক দানবযন্ত্রের প্রতিটি থেকে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা করে দিতে হচ্ছে। আবার জিহাদ আলী ও মোহাম্মদ আলীর রয়্যালিটির নামে ট্রাক্টর গাড়ি থেকে আদায়কৃত টাকার ভাগ প্রতি সাপ্তাহে দুই লাখ টাকা করে দিতে হয় ওসি আব্দুল হাইকে। যা নিয়ে জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে।
এদিকে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে এলাকাবাসীর দাবী অনতিবিলম্বে কালের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা শাহ আরফিন টিলাকে রক্ষা ও এলাকার পরিবেশ ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে পাথর লুটপাট ও ধ্বংসের নেতৃত্বে থাকা তিন রত্ন সহ উপরোক্ত সিন্ডিকেট সদস্যদের বিরুদ্ধে যেন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়। তাহলেই রক্ষা পাবে শাহ আরফিন টিলা। পরিবেশ ফিরে পাবে তার হারানো বৈচিত্র্য।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd