রবিবার দুপুর ১২টায় কানাইঘাট প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠকালে পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার মাওঃ ফখর উদ্দিন মেয়র নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, ‘তিনি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে প্রকৌশলী মনির উদ্দিন ও তার চাচাতো ভাই ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিলাল উদ্দিন মিলে পৌরসভাকে লুটে পুটে খাচ্ছেন। পরিষদের সংখ্যা গরিষ্ট কাউন্সিলরদের মতামত উপেক্ষা করে একক ভাবে মেয়র নিজাম উদ্দিন সমস্ত উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড থেকে শুরু করে অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে পৌর পরিষদ চালিয়ে যাচ্ছেন। ’

লিখিত বক্তব্য পাঠকালে কাউন্সিলর ফখর উদ্দিন আরো বলেন, ‘পৌরসভার প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা রাজস্ব খাতে আয় হলেও এই খাতে এক কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। মেয়র নিজাম উদ্দিন দায়িত্ব পালনের পর ৩ কোটি ৯৫ লক্ষ ৬২ হাজার টাকা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য বরাদ্দের টাকা পৌরসভার ব্যাংক একাউন্টে জমা হয়েছে। বিগত ৮ মাসে কত টাকা জমা হয়েছে তা কাউন্সিলাররা জানেন না। এ পর্যন্ত ৬টির টেন্ডারের মাধ্যমে সাড়ে ৫ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করে বেশির ভাগই টাকা লুটপাট করেছেন মেয়র। এরমধ্যে একটি বিশেষ টেন্ডার রয়েছে, যাতে কোন প্রকল্প ও বরাদ্দের টাকার পরিমান উল্লেখ নেই। পৌর টেন্ডারের অধিকাংশ উন্নয়ন মেয়রের নিজ স্বার্থে তার বাসাবাড়ী এবং কানাইঘাট বাজারে অবস্থিত মার্কেটের রাস্তা পাকা করন ও তার নিজ ৩নং ওয়ার্ডে করেছেন স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে। এরমধ্যে পৌর টেন্ডারের মাধ্যমে প্রায় দুই কোটি টাকার দুর্নীতি করা হয়েছে। পৌরসভার নিজস্ব কার্যালয় থাকার পরও মেয়র নিজাম উদ্দিন তার নিজস্ব মার্কেটে পৌরসভার কার্যালয় হস্তান্তর করে মাসে ৫০হাজার টাকা করে ভাড়া নিচ্ছেন। পৌরসভার উন্নয়নের প্রতিটি লাভজনক কাজ সমূহের সিডিউল বিক্রি না করে মেয়র তার ভাই কাউন্সিলার বিলাল ও পৌর প্রকৌশলী মনির আহমদ বিভিন্ন কলা কৌশলের মাধ্যমে বিভিন্ন লাইসেন্সের নামে নি¤œ মানের কাজ করে টাকা উত্তোলন করে থাকেন। লিখিত বক্তব্যে ৭জন কাউন্সিলার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করে পৌরসভার রাজস্ব তহবিলের হিসাব প্রদান, পৌর পরিষদের সকল মাসিক সভার কার্যবিবরণী প্রকাশ ও বিতরণ, জনস্বার্থে পৌর কার্যালয় পুরাতন কার্যালয়ে হস্তান্তর, সকল ওয়ার্ডের সমহারে উন্নয়ন ও চলমান বৈষম্য দূর, পৌরসভার কর্মরত প্রকৌশলী মনির উদ্দিনকে অবিলম্বে প্রত্যাহার, মেয়রের একক সিন্ধান্ত নয় প্রচলিত বিধি বিধান অনুসরণ করে সংখ্যাগরিষ্ট কাউন্সিলারদের মতামত নিয়ে পরিষদ পরিচালনা করার দাবী জানানো হয়। সেই সাথে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন কারী মেয়র নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানানো হয়। অন্যতায় আগামী ২৯ জানুয়ারী থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত বিভিন্ন ওয়ার্ডে গণসংযোগ, ১৮ ফেব্রুয়ারী কানাইঘাট বাজারে মানববন্ধ, ২৫ ফেব্রুয়ারী বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা, ২৮ ফেব্রুয়ারী কানাইঘাট বাজারে জনসভার ডাক দিয়ে কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে কাউন্সিলাররা বলেন, ‘মেয়র নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে যেসকল অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে তা সরেজমিনে তদন্ত করলে প্রমাণিত হবে। এছাড়া বিগত পৌরসভা নির্বাচনে ৬নং ওয়ার্ডের জনগণ নৌকায় ভোট দেয়ায় মেয়র নিজাম উদ্দিন সেই ওয়ার্ডে কোন ধরনের কাজ করছেন না বলে কাউন্সিলার ফখর উদ্দিন বলেন।’
সংবাদ সম্মেলনে কাউন্সিলারদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ২নং ওয়ার্ড হাজী শরিফুল হক, ৭নং ওয়ার্ড মাসুক আহমদ, ৫নং ওয়ার্ড আবিদুর রহমান, সংরক্ষিত-১ মহিলা কাউন্সিলার রহিমা বেগম, ২- আছিয়া বেগম, ৩-আছমা বেগম সহ পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।