জয়নবের মৃত্যুতে গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম

প্রকাশিত: ১০:৪৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২১, ২০২৪

জয়নবের মৃত্যুতে গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম

Manual4 Ad Code

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : বান্দরবানে খাদে গাড়ি পড়ে নিহত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জয়নব খাতুনের গ্রামের বাড়িতে চলছে মাতম। এমন মৃত্যুতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তার বাবা-মা। রবিবার দুপুরে কুড়িগ্রামের রৌমারীর মণ্ডলপাড়ায় ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ আনা হলে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা।

নিহত জয়নব খাতুন (২৪) ওই এলাকার আব্দুল জলিল মিয়ার মেয়ে। তিন ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন তিনি। পড়তেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে।

জয়নব খাতুনের বাবা আবদুল জলিল কাঠমিস্ত্রির কাজ করেন। পরিবারে এক ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। বড় ভাই মেহেদী হাসান বাবু ব্যবসা করতেন, এখন বেকার। বড় বোন জহুরা খাতুনের বিয়ে হয়েছে। রোববার সকালে জয়নবদের বাড়িতে দেখা যায়, মা জুলেখা বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। জয়নবের মৃতদেহ এক নজর দেখতে প্রতিবেশীরা ভিড় করছেন।

Manual7 Ad Code

শনিবার বেলা ১১টার দিকে বগালেক-কেওক্রাডং সড়কের দার্জিলিং পাড়া এলাকায় পর্যটনবাহী একটি চান্দের গাড়ি খাদে পড়ে জয়নবসহ দুই পর্যটক মারা যান। এ ঘটনায় আরও ১১ নারী আহত হন।

জয়নবের শখ ছিল ভ্রমণ করা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভ্রমণ পিপাসুদের সংগঠন ভ্রমণকন্যা’র সদস্য ছিলেন তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি ট্যুরিস্ট সাইটে কাজ করতেন জয়নব।

Manual7 Ad Code

অসচ্ছল পরিবারের মেয়ে জয়নব কোনো প্রকার কোচিং, টিউশনি ছাড়াই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান। পড়া লেখার পাশাপাশি টিউশনি করে পড়াশুনার খরচ যোগাতেন তিনি। জয়নবের বাবা একজন কাঠ মিস্ত্রি। মেয়েকে উৎসাহ ও সাহস দিতেন সবসময়। মেয়ের মৃত্যুর খবরে তার বাবা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন এবং মা জুলেখা বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন।

গত শুক্রবার সকালে তিনি ভ্রমণকন্যার ৫৮ সদস্যের একটি দল নিয়ে জিপে করে রুমা উপজেলায় বেড়াতে যান। পরিদর্শন শেষে শনিবার দুপুরে বান্দরবানের উপজেলার পর্যটন কেন্দ্র কেওকারাডাং থেকে বান্দরবান ফেরার পথে বগালেক-কেওকারাডং সড়কের দার্জিলিং পাড়া এলাকায় তাদের বহন করা গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহত জয়নবের মরদেহ জানাজা শেষে রবিবার দুপুরে রৌমারী কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।

Manual5 Ad Code

জয়নবের বাবা আবদুল জলিল বলেন, ‘জয়নব পড়াশোনা শেষ করে ভালো একটা চাকরি করবে। স্বাবলম্বী করে তুলবে পরিবারকে। মেয়েকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল আমার। সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। রৌমারী থানার ওসি তদন্ত মুশাহেদ খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

Manual2 Ad Code

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

January 2024
S S M T W T F
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  

সর্বশেষ খবর

………………………..