হালিমার পতিতাবৃত্তির সাম্রাজ্য ধ্বংস করলো গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ

প্রকাশিত: ৯:৫০ অপরাহ্ণ, জুন ৭, ২০২১

হালিমার পতিতাবৃত্তির সাম্রাজ্য ধ্বংস করলো গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ

Manual1 Ad Code

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : সিলেটে এখন আলোচিত হালিমা। পতিতা সর্দার হালিমা নিজ বাসাকেই বানিয়েছিল পতিতালয়। সেখানেই খদ্দেরকে মনোরঞ্জন করে টাকা রুজি করতো। এক নয়, একাধিক খদ্দের রাত-বিরাতে তার বাসায় যাতায়াত করতো। সালুটিকর থেকে হারিয়ে যাওয়া দশ বছর বয়সী শিশুকন্যাকে সে পতিতাবৃত্তির জন্য নিয়ে গিয়েছিল বাসায়। সেখানে রেখে শিশুটিকে লালনপালন করছিল। একদিন বাসায় আসা এক খদ্দেরের চোখ পড়ে ওই শিশুটির ওপর। এরপর টাকার লোভে পড়ে মনোরঞ্জন ঘটাতে শিশুটিকে তুলে দেয় খদ্দেরের হাতে।

Manual3 Ad Code

পরে হোটেলেও খদ্দেরদের কাছে শিশুটিকে তুলে দেয় হালিমা বেগম। সিলেটের সালুটিকর পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর পতিতা সর্দারনি হালিমার অসামাজিক কর্মকাণ্ডের নেটওয়ার্ক জানা গেছে। হালিমা বেগমের মূল বাড়ি কুমিল্লার লাকসাম এলাকায়। স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে সে কয়েক বছর ধরে সিলেটে বসবাস করে। সে বর্তমানে নগরীর শাহী ঈদগাহের অনামিকা ৬২ নম্বর বাসার একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করে।

Manual2 Ad Code

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হালিমা ওই এলাকার পরিচিত মুখ। এখন সে স্বামীর সঙ্গ ছাড়া। তিন সন্তানকে নিয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করে। তার আচরণ ছিল সন্দেহজনক। প্রায় সময়ই তার বাসায় অপরিচিত লোকজন যাওয়া-আসা করতো। হালিমা ওইসব লোককে তার আত্মীয় বলে পরিচয় দিতো।

বৃহস্পতিবার রাতে গোয়াইনঘাটের সালুটিকর পুলিশের এক অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছে হালিমা বেগম। শিশুদের দিয়ে পতিতাবৃত্তির অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। সঙ্গে আরো দুই যুবককে। গ্রেপ্তারের পর হালিমা পুলিশের কাছে শিশুদের দিয়ে পতিতাবৃত্তির কথা স্বীকার করেছে। জানিয়েছে, সালুটিকরের কছুয়ারপাড় গ্রামের ওয়ারিস আলীর ওই শিশুকন্যাকে পেয়েছে সিলেটের মাজার এলাকায়। নগরীর সাপ্লাই এলাকার পতিতা দালাল ইমন মিয়ার হেফাজতে ছিল ওই শিশু। এরপর ইমন মিয়াই ওই শিশুকন্যাকে হালিমার হাতে তুলে দেন। হালিমা মাজার এলাকা থেকে শিশুটিকে নিজ বাসায় নিয়ে যায়। বাসার কাজের লোক হিসেবে ওই শিশুটির পরিচয় সে আশপাশের লোকজনকে দিতো।

কয়েক মাস আগের ঘটনা। একদিন হালিমার কাছে আসে এক খদ্দের। ওই সময় খদ্দেরের চোখ পড়ে শিশুটির পর। এরপর বেশি টাকা পাওয়ার লোভে হালিমা শিশুটিকে ওই খদ্দেরের হাতে তুলে দেয়। এরপর থেকে নিজ বাসাতেই খদ্দেরদের হাতে শিশুটিকে তুলে দিতো হালিমা। নিজে পতিতাবৃত্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত হালিমার নেটওয়ার্কও ছিল বড়। কয়েকটি হোটেলেও নিয়মিত যেতো হালিমা। এসব হোটেলের ম্যানেজারদের সঙ্গেও ছিল তার পরিচয়। তেমনি একটি হোটেল হচ্ছে নগরীর উপশহরের হোটেল গুলবাহার। ওই হোটেলের ম্যানেজার ওয়াজিদ আলী। পূর্বের সম্পর্কের সূত্র ধরে ওয়াজিদ আলীকে দিয়ে হোটেলের খদ্দেরদের মনোরঞ্জনের জন্য ওই শিশুটিতে তুলে দেয় হালিমা। ওয়াজিদের ফোন পেলে হালিমা নিজেই ওই শিশুটিকে হোটেলে গিয়ে দিতে আসতো। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর হালিমা নিজেই এসব তথ্য সাংবাদিক ও পুলিশকে জানিয়েছে।

এদিকে- হালিমার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ নগরীর সাপ্লাই এলাকার পতিতার দালাল ইমন মিয়াকে শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারের পর ইমন মিয়া শিশুদের দিয়ে পতিতাবৃত্তির অভিযোগ তুলেন হালিমার বিরুদ্ধে। জানায়, হালিমা তার বাসায় শিশুদের দিয়ে পতিতাবৃত্তি করায়। নগরীর শাহী ঈদগাহস্থ অনামিকা আবাসিক এলাকার স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, হালিমা তিন সন্তানের মা। তার এক মেয়েকে বিয়ে দিয়েছে। আরেক মেয়ে ও ছেলে তার সঙ্গে বসবাস করে। স্বামীর সঙ্গে বর্তমানে তার বনিবনা নেই। একাই বাসাতে থাকতো। হালিমার বাসায় যেমনি রাত-বিরাতে অপরিচিত লোকজন আসতো, তেমনি হালিমাও প্রায় সময় বোরকা পরে বাসা থেকে বের হতো। তার গতিবিধি রহস্যজনক হলেও তার সম্পর্কে কেউ খোঁজখবর নেননি। এমনকি তার ঘরে আশেপাশের মহিলারাও যেতেন না।

Manual5 Ad Code

গোয়াইনঘাটের সালুটিক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, শিশু দিয়ে অসামাজিক কাজে হালিমার নেতৃত্বে একটি চক্র রয়েছে। তারা কৌশলে শিশুকন্যাদের দিয়ে এসব কাজ করতো। একটি ফোনের সূত্র ধরে পুলিশ অনুসন্ধান চালিয়ে হালিমা ও চক্রের সন্ধান পেয়েছে। শিশুদের দিয়ে পতিতাবৃত্তি করার কাজে নিয়োজিত মোট ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ ঘটনায় মামলা দায়ের করে তদন্ত করছে বলে জানান তিনি। এদিকে- সালুটিকের ওই শিশুটি কীভাবে হালিমার হাত পর্যন্ত পৌঁছালো সেটি নিয়েও চলছে জল্পনা। তবে উদ্ধার হওয়া শিশুটি জানিয়েছে, গত ঈদুল আজহার দু’দিন আগে সে কচুয়ারপাড় বাড়ি থেকে সালুটিকর বাজারে আসে। সেখানে দু’জন লোক তার সঙ্গে কথাবার্তা বলার এক পর্যায়ে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এরপর আর কিছু বলতে পারেনি।

Manual5 Ad Code

হালিমা জানিয়েছে, ভিন্ন কথা। সে জানিয়েছে, মাজার এলাকায় সাপ্লাইয়ের ইমন ওই শিশুটিকে তার হাতে তুলে দিয়েছে। প্রথমে সে শিশুটিকে তার কাজের লোক হিসেবে নিয়োজিত করে। পরে খদ্দেরদের চোখ পড়ায় সে শিশুটিকে দিয়ে পতিতাবৃত্তি শুরু করে। এরপর নিয়মিত হোটেলে নিয়ে যেতো। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ইমন মিয়াকে সর্বশেষ গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে আর কারও নাম এলে তাকেও গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..