সিলেটে খুঁটির সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে প্রেমিকাকে নির্যাতন

প্রকাশিত: ১২:২২ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৫, ২০২১

সিলেটে খুঁটির সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে প্রেমিকাকে নির্যাতন

Manual1 Ad Code

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : সিলেটের জকিগঞ্জে পরকীয়া প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকাকে শিকল দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি মঙ্গলবার রাতে উপজেলার কাজলসার ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের কামালপুর গ্রামের নওয়াবাড়িতে ঘটে।

Manual1 Ad Code

খবর পেয়ে জকিগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রেমিক জাকারিয়া আহমদের বসতঘরের বারান্দার খুঁটির সঙ্গে শিকল দিয়ে প্রেমিকাকে তালা দেয়া অবস্থা থেকে উদ্ধার করে।
এদিকে, নির্যাতিতা হওয়ার পরও পরকীয়া প্রেমিকের পরিবারের দায়েরকৃত মামলার ভিত্তিতে প্রেমিকাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ নিয়ে উপজেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

Manual2 Ad Code

স্থানীয়রা জানান, কামালপুর গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে জাকারিয়া আহমদ (২২)-এর সাথে বেশ কয়েক বছর থেকে একই গ্রামের প্রবাসী আফতাব উদ্দিনের স্ত্রীর ফারহানা বেগম (৪২)-এর পরকিয়া প্রেম চলে আসছিল। মঙ্গলবার প্রেমিক জাকারিয়া বিয়ে করে নববধূ বাড়িতে নিয়ে আসলে পরকীয়া প্রেমিকা ফারহানা বেগম প্রেমিকের বাড়িতে রাত ৮টার দিকে গিয়ে উত্তেজিতভাবে কথা বলতে শুরু করেন। এনিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায় হাতাহাতি ও মারধর হয়। পরে প্রেমিক জাকারিয়ারসহ তার পরিবারের লোকজন প্রেমিকা ফারহানাকে শিকল দিয়ে বসতঘরের বারান্দায় খুঁটির সঙ্গে বেঁধে তাতে তালা মেরে রাখেন এবং তাকে মারধর করেন।

Manual8 Ad Code

খবর পেয়ে জকিগঞ্জ থানা লিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরকিয়া প্রেমিকা ফারহানা বেগমকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে জাকারিয়ার ফুফু বাদি হয়ে ফারহানার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় পুলিশ ফারহানাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে পরকিয়া প্রেমিকা ফারহানা বেগমের স্বামী আফতাব উদ্দিন (আতাব) বলেন, তিনি দীর্ঘদিন সিঙ্গাপুর প্রবাসে ছিলেন। এ সময় পার্শ্ববর্তী বাড়ির জাকারিয়া আহমদ তার বাড়িতে বাজারসদাই এনে দিতো। গত কয়েক বছর থেকে জাকারিয়া তার অগোচরে স্ত্রী ফারহানার সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলে নিজের মোবাইলে বিভিন্ন আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও তুলে রাখে। তিনি দেশে এসে স্ত্রীর সাথে জাকারিয়ার পরকিয়া সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে জাকারিয়াকে বাড়িতে আসতে নিষেধ করেন। তবুও সে ফারহানার সঙ্গে মোবাইল ফোনে সম্পর্ক রেখে সময়ে সময়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। ঘটনার দিন তিনি তারাবির নামাজ পড়তে বের হলে জাকারিয়া মোবাইল ফোনে তার স্ত্রী ফারহানাকে প্রন দেখিয়ে বাহিরে বের হতে বললে তিনি বের হন। এ সময় সে জড়িয়ে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় ফারহানা শোর চিৎকার শুরু করলে পার্শ্ববর্তী জাকারিয়ার বাড়ির লোকজন এসে তার স্ত্রীকে ধরে বাড়িতে নিয়ে মারধোর করে লোহার শিকল দিয়ে বারান্দার খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন।

ফারহানার স্বামী অভিযোগ করেন, তার স্ত্রীর নানা আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও মোবাইলে তুলে ফেসবুকে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে জাকারিয়া দীর্ঘ দিন থেকে তার স্ত্রী ফারহানার নিকট থেকে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিচ্ছে।

অপরদিকে এ ঘটনায় প্রেমিক জাকারিয়ার আহমদের ফুফু সালেহা বেগম বাদি হয়ে পরকিয়া প্রেমিকা ফারহানা বেগমকে আসামি করে জকিগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এতে তিনি পরকীয়া প্রেমের বিষয়টি উল্লেখ করে বসতঘরে অনধিকার প্রবেশ, মারধর, ভাঙচুর ও ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ করেন।

এ অভিযোগে পুলিশ ফারহানা বেগমকে আটক দেখিয়ে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে।

তবে স্থানীয় লোকজন এক পক্ষের মামলা নিয়ে পরকিয়া প্রেমিকা ফারহানা বেগমকে জেলহাজতে প্রেরণের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জাকারিয়া একটি চরিত্রহীন ছেলে। সে ২০১৭ সালে বারহাল এলাকার এক স্কুল শিক্ষিকাকে প্রেম নিবেদন করে ব্যার্থ হয়ে জোরপূর্বক অপহরণ করে এলাকায় নিয়ে আসে। পরে জকিগঞ্জ থানা পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার করে অপহরণকারী জাকারিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। এলাকাবাসী এ ঘটনায় উভয়ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

এ বিষয়ে জকিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবুল কাসেম বলেন, খবর পেয়ে জকিগঞ্জ থানাপুলিশ গিয়ে ফারহানা বেগমকে শিকলবাঁধা থেকে ছাড়িয়ে থানায় নিয়ে আসে। এরপরও ফারহানার বিরুদ্ধে অভিযোগ আসার কারণে তার বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড করে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তবে ফারহানা বেগমকে বেঁধে মারধরের ঘটনায়ও একটি এজাহার এসেছে। এ বিষয়ে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জকিগঞ্জ সার্কেল) সুদীপ্ত রায় এ প্রসঙ্গে জানান, পরকীয়া প্রেমঘটিত কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। ফারহানাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার দায়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

Manual1 Ad Code

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..