জৈন্তাপুর এখন চোরাকারবারীর স্বর্গরাজ্য, বেন্ডটিস করিম বাহিনীর লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য

প্রকাশিত: ৪:০৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৭, ২০২০

জৈন্তাপুর এখন চোরাকারবারীর স্বর্গরাজ্য, বেন্ডটিস করিম বাহিনীর লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য

Manual5 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক :: জৈন্তাপুর উপজেলার ও ভারতের মেঘালয় সীমান্ত জুড়ে চোরাকারবারীদের স্বর্গরাজ্যে পরিনত হয়েছে। দিন-রাত সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে ভারতীয় গরু-মহিষ, মদ-মাদক, কসমেট্রিক্স, কাপড় ও মটর সাইকেল সহ আমদানী নিষিদ্ধ নানা অবৈধ পণ্য। লাইনম্যান নিজপাট ইউনিয়নের ঘিলাতৈল গ্রামের বাসিন্ধা মছদ্দর আলীর ছেলে আব্দুল করিম ওরফে বেন্ডটিস করিম বাহিনীর মাধ্যমে রফা দফার বিনিময়ে দুদেশের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিরব ভূমিকা পালন, লোক দেখানো অভিযান, জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

সরেজমিন চোরাকারবারীদের লাইনম্যান বেন্ডটিস করিম বাহিনীর সাথে প্রশাসন সহ সীমান্ত রক্ষী বাহিনী’র সখ্যতা রয়েছে অভিযোগ উঠে। জৈন্তাপুর উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের বেশিরভাগ এলাকায় রয়েছে মেগালয়ের বর্ডার এলাকা। উপজেলায় সীমান্তের নিরাপত্তার দায়িত্বে ২টি ব্যাটালিয়নের ৫টি বিওপি রয়েছে। তার মধ্যে ৪৮বিজিবি’র শ্রীপুর, মিলাটিলা, ডিবির হাওড় বিওপি’র আওতাভূক্ত এলাকার নলজুরী খাসিনদী, খাঁসি হাওর, আলুবাগান, মোকামপুঞ্জি, শ্রীপুর,আসামপাড়া, আদর্শগ্রাম, ছাগল খাউরী, রাবার বাগান, মিনাটিলা, কাঁঠালবাড়ী, কেন্দ্রী, কেন্দ্রী হাওর, ডিবির হাওড়, ডিবিরহাওর (আসামপাড়া), রিভার পিলার এলাকা ও ১৯বিজিবি জৈন্তাপুর, লালাখাল বিওপি’র আওতাভূক্ত ঘিলাতৈল, ফুলবাড়ী, টিপরাখলা, গৌরীশংকর, কমলাবাড়ী, গুয়াবাড়ী, হর্নি, বাইরাখেল, জালিয়াখলা, কালিঞ্জীবাড়ী, লালাখাল গ্রান্ড, লালাখাল চা-বাগান, আফিফা নগর চা-বাগান, বাঘছড়া, জঙ্গীবিল, তুমইর, ইয়াং রাজা, বালিদাঁড়া, সিঙ্গারীপাড় এলাকা দিয়ে লাইনম্যান বাহিনীর মাধ্যমে দুদেশের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের রফা দফার বিনিময়ে দিন-রাত সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে ভারতীয় গরু-মহিষ, মদ-মাদক, কসমেট্রিক্স, কাপড় ও মটর সাইকেল সহ আমদানী নিষিদ্ধ নানা অবৈধ পণ্য প্রবেশ করছে বীরদর্পে। সিলেটের জৈন্তাপুর-ভারতের মেঘালয় সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় বিএসএফ ও বাংলাদেশের বিজিবি’র নজরদারি এড়িয়ে চোরাকারবার ব্যবসার স্বর্গ রাজ্যে পরিনত হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে সীমান্ত এলাকায় কর্তব্যরত বিএসএফ ও বিজিবি‘র সদস্যদের প্রত্যক্ষ ইশারায় সীমান্ত এলাকায় রাতের অন্ধকারে কিংবা দিনের আলোতেই চোরাচালান সংগঠিত হচ্ছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করে। অবৈধ ভাবে গরু-মহিষ, মদ-মাদক, কসমেট্রিক্স, কাপড় ও মটর সাইকেল সহ আমদানী নিষিদ্ধ নানা অবৈধ পণ্য ব্যবসার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সচেতন মহলে প্রশ্ন নানা দেখা দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত বাসিন্দাগন জানান, ভারতীয় বিএসএফ ও বাংলাদেশের বিজিবি’র নিষ্ক্রিয়তায় দিনের বেলায় সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন বাড়ীতে, জঙ্গলে, পাহাড়-টিলা, খাল-ডোবা, নদী-নালার আড়ালে শত শত গরু-মহিষ, ভারতীয় কসমেট্রিকের কিট, মাদকের বড় বড় চালান, কাপড়ের কিট, ভারতীয় আমদানী নিষিদ্ধ শেখ নাছির উদ্দিন বিড়ি, মোবাইল হ্যান্ড সেট, মটর সাইকেল বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকে। সন্ধ্যা রাত হতেই গভীর রাত পর্যন্ত জৈন্তাপুর উপজেলায় মালামাল প্রবেশ করলে সংশ্লিষ্ট বাহিনী নিরব ভূমিকা পালন করায় জনমনে ক্ষোভ একত্রিভুত হচ্ছে। এই বাহিনীর নামে বেন্ডটিস করিম চক্রের লোকজন প্রতিনিয়ত চোরাকারবাদের কাছ লাখ লাখ টাকা আদায় করছেন। এই বেন্ডটিস করিম বাহিনীর বিরুদ্ধে নিউজ বন্ধ করার জন্য এক দালাল সাংবাদিক করিমের কাছ থেকে বড় অংকের টাকা আদায় করে। কিন্তু গতকাল ক্রাইম সিলেটে ওই চক্রের সকল সদস্যদের ছবিসহ সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। এই সংবাদের পর বেন্ডটিস করিম বাহিনীর লোকজন ওই দালাল সাংবাদিককে মোবাইল ফোনে অশ্লীল গালিগালাজ করেন।

Manual1 Ad Code

বেন্ডটিস করিম বাহিনীর লোজন আসাম-মেঘালয় সীমান্তবর্তী রংহংকং, মুক্তাপুর, আমলেরেং, হেওয়াই বস্তি, এসপিটিলা, চান্দঘাট, জালিয়াখলা, মালিডহর, দিগরখাল, আমকোনা, উসিয়াং, উখিয়াং পাহাড়ি দূর্গম পথ অতিক্রম করে হাজার হাজার গরু-মহিষ, মদ-মাদক, কসমেট্রিক্স, কাপড় ও মটর সাইকেল সহ আমদানী নিষিদ্ধ নানা অবৈধ পণ্য অবৈধ ভাবে বাংলাদেশ প্রবেশ করে। সীমান্তের কোথায় নদী, পাহাড়, ঘন জঙ্গল ও কৃষি জমি, বিল ও খাল বেষ্টিত।

তাই পাহাড়ী এলাকা দিয়ে মেঘালয়ের পাচারকারীরা খাঁসি নদী, খাঁসি হাওর, আলুবাগান, মোকামপুঞ্জি, রাবার বাগান, মিলাটিলা, কাঁঠালবাড়ী, ডিবিরহাওর (আসামপাড়া), গৌরীশংকর, ডিবির হাওর, গুয়াবাড়ী, লালাখাল, বালিদাঁড়া ও ভারতের মেঘালয়ের ঘিলাতৈল, ফুলবাড়ী, টিপরাখলা, গুয়াবাড়ী, জালিয়াখলা, লালাখাল লালমিয়ার টিলা, বাগছড়া, জঙ্গীবিল, তুমইর, বালিদাঁড়া এবং ভারতের মেঘালয়ের সীমান্তের দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় রয়েছে বেশ কয়েকটি ছোট বড় কালভার্ড ও পাহাড়ী খাদ।

খাদ ও কালভার্ড ও পান সুপারীর জুম, কমলাবাগান গুলোই ভারতীয় পাচারকারীদের আরও দিগুন সুযোগ করে দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র সীমান্তের ওপারে গরু পাচারের বর্ণনা দিয়ে জানান, সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী ও পুলিশের নজর এড়াতে ছোট ছোট গাড়ি ব্যবহার করে থাকে। রাতে মেঘালয়ের জোয়াই-বদরপুর জাতীয় সড়কের পাশে অবস্থিত সীমান্তের বিভিন্ন বাড়িতে গরু-মহিষ, মাদক সহ ভারতীয় পণ্য মোবাইল হ্যান্ডসেট, মটর সাইকেল, কসমেট্রিক্স সামগ্রী পৌছে দেয় পাচারকারী দল। সীমান্তে পৌছে দেয়ার জন্য তাদের কে দেয়া হয় ৭শত থেকে ১হাজার টাকা।

Manual3 Ad Code

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় কয়েকটি বাড়ী ব্যবহার করে পাচারকারী দল। আর এ সব বাড়ীতে টাকার বিনিময় রাখা হয় গরু-মহিষ। সীমান্তের ওপার-এপারে দাড়িয়ে থাকেন লাইনম্যানরা মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে সমতলের চোরাকারবারীদের জানিয়ে দেওয়া হয় গরু-মহিষ সহ পণ্যের বিবরণ। আর সীমান্তের এপারে থাকা চোরাকারবারী কাছে সংকেত চলে আসে।

Manual7 Ad Code

এভাবে চলছে ভারতের মেঘালয়-বাংলাদেশের জৈন্তাপুর সীমান্তে ভারতীয় অবৈধ গরু-মহিষ, মদ-মাদক, কসমেট্রিক্স, কাপড়ের কিট, মোবাইল হ্যান্ডসেটর কিট, মদ (ঔষধ) এর কিট, মটর সাইকেল সহ আমদানী নিষিদ্ধ নানা অবৈধ পণ্য সামগ্রী।

জৈন্তাপুর উপজেললা সীমান্তে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর নিয়োজিত লাইনম্যান নামে রয়েছে অন্তত ৩০জন সক্রিয় সদস্য। চোরাচালান ব্যবসায় জড়িয়ে আছেন ছোট বড় প্রায় ৩শতাধিক চোরাকারবারী। তাদের মধ্যে অন্তত ৫০জন বড় মাপের চোরাকারবারীদের ইশারায় সীমান্ত এলাকা চোরাকারবারের স্বর্গরাজ্যে পরিনত হয়েছে।

ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশ প্রবেশ করার পর আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর মনোনিত ৩০জন লাইনম্যান গরু-মহিষ, মাদক (ঔষধ) এর কিট, কসমেটিক্সের কিট, মোবাইল হ্যান্ডসেটের কিট, শেখ নাছির উদ্দিন বিড়ির কিট, সিগারেটের কিট, মটর সাইকেল হতে লাইন আদায় করা হয়ে আসছে। লাইনের টাকা পরিশোধ করার পর আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে দিয়ে গরু মহিষ ভারতীয় পণ্য পাঁচারের সুযোগ করে দেওয়া হয়। দিন দিন ভারতের মেঘালয়-জৈন্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন সীমান্তে চোরাকারবারীর দৌরাত্ব্য বেড়েই চলছে।

অপরদিকে সেপ্টেম্বর মাসে উপজেলা চোরাচালান কমিটির সভায় জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমদ কড়া ভাষায় চোরাচালন বন্ধের বিষয়ে প্রতিবাদ করে তিনি বলেন সাধারণ জনগন নদী হতে বালু উত্তোলন করেলে বিজিবি নৌকা ধরে নিয়ে যায় অথচ হাজার হাজার গরু মহিষ, বিভিন্ন সামগ্রী বালাদেশে প্রবেশ করলে তা ধরা পড়ে না। তিনি উপজেলা চোরাচালান বন্দের জন্য জোর প্রতিবাদ করেন।

এবিষয়ে জানতে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মহসিন আলী বলেন, সীমান্ত এলাকার দায়িত্ব পুলিশের নয়, তার পর মাদক নিয়ন্ত্রনে তার টিম কাজ করছে বলে জানান। তবে পুলিশের লাইনম্যান নামে কোন বাহিনী তার নেই। এরকম কাজে কেউ জড়িত থাকলে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহবান জানান।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদা পারভীন বলেন, চোরাচালন ও আইন শৃঙ্খলা বৈঠকে বিষয়টি উপজেলা চেয়ারম্যান জানিয়েছেন। বৈঠকে আইন শৃঙ্খলায় নিয়োজিত সবাইকে সর্তক করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জেলার উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষেকে অবহিত করা হবে জানান।

Manual3 Ad Code

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

October 2020
S S M T W T F
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

সর্বশেষ খবর

………………………..