সিলেট ২৫শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৫ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৩:১৪ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৭, ২০২০
ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : কোভিড-১৯ সংক্রমণের শুরু থেকে সিলেটে ঝুঁকি নিয়ে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন নার্সরা। তাদের সেবায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরছেন রোগীরা। সুস্থ হওয়ার রোগীদের করোনাজয়ের হাসিতেই যেন সকল প্রাপ্তি একেকজন নার্সের।
করোনা আক্রান্তদের সেবা দিতে গিয়ে অনেক নার্স নিজেরাও আক্রান্ত হচ্ছেন। করোনাজয় করে তারা আবার ফিরছেন কর্মক্ষেত্রে। ভয়কে জয় করে তারা নিজেদেরকে সঁপে দিয়েছেন মানবতার সেবায়। এই যে উদ্যম, দৃঢ়চেতা মনোবল- সেটার পেছনে সবচেয়ে বড় যার অবদান তিনি হচ্ছেন আমাদের মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। সিলেটের সর্বস্তরের নার্সরা যাকে তাদের অভিভাবক হিসেবে মানেন।
করোনাকালীন সময়ে সিলেটের নার্সদের সুরক্ষা নিশ্চিতে অনেক কাজ করেছেন মাননীয় মন্ত্রী। কোন কিছুর জন্য দাবি করতে হয়নি তার কাছে। নার্সদের প্রয়োজনীয়তার তাগিদ তিনি নিজ থেকে অনুভব করেছেন। বাড়িয়ে দিয়েছেন সহায়তার হাত। খোঁজ রেখেছেন সবসময়। শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের নার্সিং কর্মকর্তা রুহুল আমিন মারা যাওয়ার পর কি-না করেছেন মাননীয় মন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিনী সেলিনা মোমেন। ওই সময় মন্ত্রী মহোদয় পাশে না দাঁড়ালে রুহুল আমিন ভাইয়ের পরিবার হয়তো শোকের অন্ধকার কেটে এতো সহসা আলোতে আসতে পারতো না।
যতোদিন যাচ্ছে সিলেটে করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে এখন রোগীতে পরিপূর্ণ। প্রায় একশ’ জন রোগীকে প্রতিদিন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন নার্সরা। নার্সরা যেহেতু দূর থেকে সেবা দেয়ার সুযোগ নেই, তাই তারা রোগীর কাছে থাকতে হয়। রোগীর হাত ধরে লাগিয়ে দিতে হয় ক্যানোলা। গুরুতর অসুস্থ রোগীকে ধরে তুলতে হয় বিছানা থেকে। তাই সঙ্গত কারণে দিন দিন নার্সদের আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বাড়ছে।
নার্সদের সেবায় মানুষ সুস্থ হয়ে ফিরলেও সেই ‘মানুষ’দের কাছেই নিগৃহিত তারা। করোনা রোগীদের সংস্পর্শে থাকায় নার্সরা বাসায় ফিরতে পারেন না। থাকতে হয় পরিবার থেকে দূরে। অনেক নার্সকে বাসা ছাড়তে চাপ দেন বাড়িওয়ালা। এই অবস্থায় চিকিৎসকদের সাথে একই হোটেলে ওঠেন নার্সরা। কিন্তু তাতে সংকুলান হচ্ছিল না। নার্সদের আবাসনের জন্য আরও একটি হোটেলের প্রয়োজন দেখা দেয়। সেই প্রয়োজনের কথা জানতে পারেন আমাদের অভিভাবক মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। তাঁর নির্দেশে আলাদা একটি অত্যাধুনিক হোটেল পেয়েছেন নার্সরা। এখন হাসপাতালে ডিউটি শেষ করে নির্ধারিত ওই হাসপাতালে থাকছেন তারা।
নার্সদের জীবনঝুঁকির কথা চিন্তা করে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় যে উপকারটি করেছেন তা কোনদিন ভুলার নয়। করনার শুরু থেকে আজ পর্যন্ত ড. মোমেন স্যার আমাদের জন্য যা করেছেন আমরা তা কোনদিনও ভুলতে পারবো না। তাঁর ও তাঁর সহধর্মিনী মমতাময়ী মাতা সেলিনা মোমেনের কাছে আমরা চিরঋণী, চিরকৃতজ্ঞ।
নার্সদের জন্য আলাদা হোটেলের ব্যবস্থা করে দেয়ায় আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আরো কয়েকজন মানবিক মানুষের প্রতি। এই মানবিকযোদ্ধারা সবসময় আমাদের পাশে থেকে সহায়তা করে যাচ্ছেন। তারা হলেন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. ইউনুছুর রহমান স্যার, উপ পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় স্যার, বিএমএ’র করোনা প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ডা. আজিজুর রহমান রোমান স্যার ও সার্জারি বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. আদনান চৌধুরী স্যার। আল্লাহ তাদের নেক হায়াত ও সুস্থতা দান করুন।
কৃতজ্ঞতায় শামীমা নাসরিন, সভাপতি ও ইসরাইল আলী সাদেক, সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ নার্সেস এসোসিয়েশন (বিএনএ)
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শাখা।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd