দক্ষিণ সুরমায় কিশোরী অপহরণকারী বখাটে মাসুমের দাপট

প্রকাশিত: ৮:২৩ অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০২০

দক্ষিণ সুরমায় কিশোরী অপহরণকারী বখাটে মাসুমের দাপট

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : সিলেট দক্ষিণ সুরমার ছবির মতো একটি গ্রাম লামাপাড়া। এই গ্রামে বসবাস করে ৬০টি পরিবার। এ্ই ৬০ টি পরিবারের মধ্যে অনেকে থাকেন প্রবাসে। কেউবা ব্যবসা বাণিজ্যের সাথে জড়িত। আবার চাকরিজীবী হিসেবে জীবন পরিচালনা করেন অনেকে।

ছিমছাম ওই গ্রামের সুন্দর পরিবেশকে কলঙ্কিত করে তুলছে ওই গ্রামেরই ২৫ বছর বয়সি বখাটে মাসুম মিয়া। স্কুল কলেজ পড়ুয়া কিশোরীদের উত্যক্ত করাই তার মূল কাজ। তার যন্ত্রণায় অনেক কিশোরী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। মাসুমের ওই অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরো কয়েকজন বখাটে যুবক। তাদেরকে সব ধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছে মাসুমের মা রাফিয়া বেগম।

স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, বেপরোয়া মাসুম এক সময় অপিপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠে। গত ২৩ এপ্রিল ওই গ্রামের এক স্কুল ছাত্রী কিশোরীকে অপহরণ করে মাসুম ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। ওই ঘটনায় ২৪ এপ্রিল সিলেট দক্ষিণ সুরমা থানায় মামলা করেন অপহৃতার বাবা। ওই ঘটনায় আসামি করা হয় মাসুমসহ তার সাঙ্গপাঙ্গদের বিরুদ্ধে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দক্ষিণ সুরমা থানার পুলিশ ২৯ এপ্রিল অভিযান শুরু করে অপহৃতকে উদ্ধারের জন্যে। ওসমানীনগর থানার একটি গ্রামে অভিযান চালিয়ে অপহৃতাকে উদ্ধার করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরকারী মাসুমসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা পালিয়ে যায়।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ বরাবরে দেয়া এক অভিযোগে ওই গ্রামের মুরুব্বি আলাউদ্দিন উল্লেখ করেছেন, অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধারের পরপরই মাসুম ও তার মা রাফিয়া বেগম বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। মাসুমের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা প্রতিনিয়িত নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশের খাতায় মাসুম ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা পলাতক, কিন্তু নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে প্রকাশ্যে। মাসুমের মা তাদেরকে সব ধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছে।

অভিযোগে বলা হয় পুলিশ অপহৃতাকে উদ্ধারের পর মাসুম ও তার বাহিনী বেপরোয়া হয়ে উঠে। মাসুমের মা বারবার হুমকী দিতে থাকে মামলা তুলে না নিলে পাল্টা নারী নির্যাতন মামলা করবেন।

অভিযোগে বলা হয় মামলা তুলে না নেয়ায় পরবর্তীতে রাফিয়া বেগম দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি নারী নির্যাতন মামলা করেন। মামলায় আসামি করা হয়, ৭৮ বছর বয়সী গ্রামের সালিশান আবদুল কাদির, কিশোরী অপহরণ মামলার বাদি নজরুল ইসলাম নজুসহ ৬০ বছর বয়সী আরো তিনজনকে। ৫০ বছর বয়সী রাফিয়া বেগম অভিযোগ করেন, আসামিরা তাদের লোকজনকে সাথে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করতে গিয়েছিলেন। এখানেই শেষ নয়। রাফিয়া বেগম এখন আসামিদের বিরুদ্ধে একাধিক কাল্পনিক সাধারণ ডায়েরি করছেন থানায়।

এলাকার মুরুব্বি আলাউদ্দিন ১৫ জুন ওই বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেন পুলিশ কমিশনার বরাবরে। আবেদনে ওই দুর্বৃত্তদের হাত থেকে গ্রামের সুন্দর পরিবেশকে রক্ষা করার প্রার্থনা জানান।

সূত্র: দৈনিক বায়ান্ন

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..