সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা :: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ৭ নং নন্দিরগাঁও ইউপির আঙ্গারজুর গ্রামের কাতারপ্রবাসী রুবেল আহমদের ঘটনাক্রমে গলায় মাছের কাঁটা বিঁধে, অনলাইনে দেখতে পান গলায় কাটা আটকার সমস্যার সমাধান। সাথে দেওয়া ছিল ইমু নাম্বার, ফোন দিলেন একটু সময় নিয়ে বলা হয় আপনার গলায় কাটা আড়াআড়ি হয়ে আছে। অসুবিধা নাই সমাধান হবে তবে আমাকে ৫ হাজার টাকা দেওয়া লাগবে। না হয় আপনাকে অপারেশন করতে হবে। এমন ভাবে বললেন বিশ্বাস করা ছাড়া তার কোন উপায় ছিলোনা। রুবেল ছিলেন একটু সহজ-সরল লোক।
দেখলেন অপারেশন করার চাইতে ৫ হাজার টাকা দিয়ে সমাধান করাই ভালো। কথামতো টাকা দিলেন, সমস্যার সমাধান হলো মনে বিশ্বাস জন্মে গেল। শুরু হলো ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল।
প্রতারক রুবেল আহমদকে বড়লোক হওয়ার স্বপ্ন দেখান এবং তা খুব সহজ উপায়ে। বড়লোক হওয়ার স্বাদ কার না আছে, আর তা যদি হয় স্বপ্নের মত। তাহলে তো আর কথাই থাকে না, এ যেনো আলাউদ্দিনের চেরাগ হাতে পাওয়া। তবে একটা ব্যাপার প্রতারককে দিতে হবে ৫ লক্ষ টাকা। প্রথম কাজের সফলতায় রুবেলের মনে বিশ্বাস জন্মে গেলো। প্রতারকরা এমনই হয় আপনার মনে বিশ্বাস জন্মানোই তাদের কাজ, এটা তাদের মূলধন। রুবেল রাজি হয়ে গেলেন শুরু হলো টাকা দেওয়ার কাজ।
কাতার যে মালিকের বাসায় কাজ করতেন, মালিকের স্ত্রীর কাছ থেকে বাংলার ৮0 আশি হাজার টাকা ধার করেন এবং সাথে থাকা বন্ধু-বান্ধবের কাছ থেকে ধার করেন আরও এক লক্ষ টাকা, তাও দেন এবার অক্ষম।
প্রতারককে বলেন আমি আর পারব না। প্রতারক বলেন, তাহলে তোমার বালিশের নিচে তিন কোটি টাকার চেকও যাবে না। রুবেল বলেন এটা আমি কিভাবে পাব, প্রতারক বলেন আমার সাধক করা জীন পরি তোমার বালিশের নিচে রাখবে। বাকি টাকা না দিলে তারা তোমার ক্ষতি করবে, এমনকি তোমার এবং তোমার পরিবারের জীবনও ধংস হতে পারে।
রুবেল পড়লেন দুটানায় আর দুশ্চিন্তায়। বাড়ি থেকে টাকা নেওয়ার কোন সুযোগ নাই, ফোন দেন মামার বাড়িতে। বড় মামা টাকা দিতে অসম্মতি জানান। ছোট মামাকে পানি দিয়ে বলেন ২0 বিশ হাজার টাকা কথা, তিনিও করে দেন ২0 বিশ হাজার টাকা। জিজ্ঞেস করেন টাকা দিয়ে কি হবে, আলাপ-আলোচনাযর মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসে মূল রহস্য। রুবেলের মামা প্রতারকের ইমো নাম্বার সংগ্রহ করেন। ফোন করে এসব জানতে চাইলে অপরপ্রান্তে থেকে অকথ্য ভাষায় শুরু হয় গালিগালাজ। পরিশেষে যা হবার তাই হলো। পাওনাদারগন দিচ্ছে চাপ পরিবার চলছে মামার বাড়ির টাকায়। ঋণ পরিশোধ করতে তোলা হচ্ছে কিস্তি। এভাবে প্রতারিত হচ্ছে হাজার হাজার লোক। পথে নামছে ধংস হচ্ছে হাজার হাজার পরিবার। এই ধরনের প্রতারকদের আইনের আওতায় আনতে, নাই কোনো সঠিক ব্যবস্থা।যতটুক আছে তা দিয়ে নাগাল পাওয়া যায় না।পরিশেষে আইনিসহায়তা নিতেও অনেকের থাকে না আর্থিক অবস্তা।