করোনায় গোয়াইনঘাটের সিএনজি চালকদের মানবেতর জীবনযাপন

প্রকাশিত: ৩:২৫ অপরাহ্ণ, জুন ২০, ২০২০

করোনায় গোয়াইনঘাটের সিএনজি চালকদের মানবেতর জীবনযাপন

সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা :: কোবিড ১৯ করোনাভাইরাসের ভয়াল থাবায় বিশ্ব বিপর্যস্ত প্রলকম্পিত দুনিয়া উদিগ্ন আর আতঙ্কিত মানুষ। করোনাভাইরাস শুধু মৃত্যু আর মৃত্যুর ভয় নিয়ে আসে নাই, ধস নেমেছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে শহর বন্দর নগর গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে অচল মানুষজন। পৃথিবীর সৃষ্টি লগ্ন থেকে অনেক ধরনের মহামারী দেখেছেন, কিন্তু এই মহামারিতে এত সমস্যার সমন্বয় কনো মহামারীতে দেখেননি।

চারিদিকে শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা, অনিশ্চয়তা আর হতাশায় ভাসছে মানুষজন, এইভাবে আর কতদিন চলবে, স্থায়ী কোনো সমাধান কি? কখনও হবে। কে দিবে এই উত্তর।

মহামারী করোনার গ্রাস থেকে বাদ পড়েননি গোয়াইনঘাট উপজেলার সিএনজি ড্রাইভারগন। প্রায় ৩ লক্ষ জনগোষ্ঠীর বৃহত্তর গোয়াইনঘাট উপজেলা, আজ রাস্তাঘাট জনমানব শূন্য। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হচ্ছেন না। বড়ই বিপাকে আছেন গোয়াইনঘাট উপজেলার সিএনজি ড্রাইবারগন। এত চাপ নিয়ে তাদের কখনো চলতে দেখি নাই। তাদের মুখের দিকে তাকালেই ভেসে উঠে হতাশা আর অসহায়ত্বের চাপ। তাদের অসহায়ত্ব আর হাহাকার দেখলে যে কোন হৃদয়বান ব্যক্তির মনে কষ্ট লাগবেই। যে স্টেশনগুলোতে একসময় যাত্রীরা দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থাকতো যানবাহনের জন্য, আজ সেই স্টেশনগুলোতে লাইন বেঁধে দাড়িয়ে আছে যানবাহন।মাত্র ৫ জন যাত্রীর জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে ঘন্টার উপরে। এরমধ্যে অপেক্ষা করতে হয় সিরিয়ালের জন্য, সিরিয়াল আসলে তবে।হঠাৎ ২/১ জন যাত্রী আসলে পিছন থেকে আসা দূরবর্তী সি এন জি তুলে নেয়, স্টপিজ ভাগাভাগিতে এ নিয়ে আরেক সমস্যা। রাধানগর স্টপিজের আওতাধীন সি এন জি রাস্তার মধ্যে পাওয়া কোনো যাত্রী বহন করিতে পারিবে না, তারা শুধু গ্যাস নিয়ে যেতে পারবেন। তাই মাঝে মধ্যে যাত্রী নিয়ে ছোটখাটো অঘটন ঘটে, স্টেশনের সিরিয়াল নিয়েও অনেক সময় সমস্যা হয়। যা স্থানীয় লোকজনেররা অনেক সময় সমস্যার সমাধান করে দেন, এইভাবে চলে তাদের জীবনযাত্রা। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে মরার উপর খরার ঘা। অভাব যখন দরজায় এসে দাঁড়ায় ভালবাসা তখন জানালা দিয়ে পালায়।

একজনের প্রতি অন্যজনের গভীর সম্পর্ক থাকার পরও ছোট খাট বিষয় নিয়ে কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজী নয়।সবার মাথায় চাপ,মালিক ইনকাম গ্যাসবিল পকেট খরচ এরপরে নিজের ইনকাম।দুপুর হয়ে গেছে গ্যাস নিতে হবে,পকেটে আছে মাত্র দুইশত টাকা।মালিক ইনকাম, পরে নিজের বাকী রইলো পকেট খরচ।বেশির ভাগ সি এন জি কিস্তিতে মালিকানা।কিস্তির উপরে কিস্তি। ডাউন পেমেন্ট এক লক্ষ টাকা দিলে যে কোন সামাজিক সমিতি গাড়ি-ক্রয় করে দিবে, গাড়ীর মূল্য নির্ধারণ হবে পাঁছ লক্ষ টাকা। পঞ্চাশ হাজার টাকা ডাউন পেমেন্ট দিলে গাড়ীর মূল্য নির্ধারণ হবে ছয় লক্ষ টাকা। তাও নাম্বার বিহীন গাড়ী, কাগজপত্র থাকবে সমিতির নামে। টোটাল কিস্তি পরিশোধ হওয়ার পর গাড়ির মালিকানা পাবেন। সেই পঞ্চাশ, এক লক্ষ টাকাও তাকে কিস্তির উপরে আনতে হয়। তোমার পরিস্থিতিতে গাড়ী দিয়ে ইনকাম করা যায় চার থেকে পাঁচশত টাকা।

দিন শেষে হিসাব মিলাতে প্রতি ড্রাইবার গনকে অনেক হিমসিম পেতে হয়।এমনও পরিস্তিতি হয়, কোন দিন বাজার করার মত পকেটে কোন টাকা থাকে না।হঠাৎ বাড়িতে মেহমান আসলে ফোন আসে কিছু খরচ আনা লাগবে, এ যনো বিনা মেঘে মাথায় বজ্রপাত।আজ কিছু আনতে পারবো না,গাড়িতে কাজ করাতে হবে।যা আছে তা দিয়ে চালিয়ে নাও,নতুবা ধার কর। এই পরিস্থিতিতে যদি কোনদিন হাজার বারোশো টাকা ইনকাম হয় তাহলে ওই দিন ড্রাইভার এর জন্য ঈদের দিন। এতই বিপাকে আছেন বর্তমান সময়ে সিএনজি ড্রাইভারগন। রীতিমত পরিস্থিতির সাথে যুদ্ধ করেই চলছে তাদের জীবন। এমন হবে তারা কেন কোন মানুষ কোনদিন কল্পনা করেননি। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই পরিস্থিতির কাটিয়ে উটার তৌফিক দান করুন। ফিরে আসুক আমাদের মাঝে সেই আমেজ।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..