স্বামীসহ মৌসুমীকে নিয়ে আলামত উদ্বারে পুলিশ বিয়ানীবাজারে

প্রকাশিত: ১:৪৭ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৪, ২০২০

স্বামীসহ মৌসুমীকে নিয়ে আলামত উদ্বারে পুলিশ বিয়ানীবাজারে

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : সিলেট আদালতের আইনজীবী সহকারী ইউনুছ আহমদ শামীম হত্যাকান্ডে জড়িত মৌসুমী ও তার স্বামী রুহুল আমীনকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে র্যা্ব। নিহত শামীম ছিলেন আটক রুহুল আমীনের ফুফা ও মৌসুমীর ফুফা শশুড়।আজ ১৩জুন দুপুরে র্যাছবের একটি দল এদেরকে দক্ষিন সুরমা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করলেও হত্যাকান্ডের কোনো আলামত উদ্বার না হবার কারনে দক্ষিন সুরমা থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল স্বামী-স্ত্রী দুজনকে নিয়ে আলামত উদ্বারের উদ্দেশ্যে বিয়ানীবাজারের সুপাতলা গ্রামের দিকে রওয়ানা দিয়েছে।কারন শামীমকে নিয়ে সেখানে হত্যা করা হয়েছিল। গত বুধবার (১০ জুন) অজ্ঞাত লাশটি উদ্ধারের পর পরবর্তীতে পরিচয় মিললেও খুঁজে পাওয়া যায়নি হত্যাকারীদের। পুলিশের ধারনা অনুযায়ী খুন হয়েছিলেন সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার দত্তগ্রামের ইউনুস আহমদ শামীম (৩৮)। তিনি পেশায় ছিলেন একজন মুহুরী।

এই হত্যাকান্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের পাশাপাশি মাঠে নামে র্যা ব । অবশেষে ক্লু-লেস এই হত্যাকান্ডের রহস্য বের করেছে র্যা ব-৯। দক্ষিণ সুরমা থানায় দায়ের হওয়া মামলার সূত্রে র্যা ব জানতে পারে এই হত্যাকান্ডে জড়িত এক দম্পতি। অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেয়ায় শামীমকে সিলেটের বিয়ানীবাজারে বাড়িতে পরিকল্পিত ডেকে নিয়ে খুন করেন ওই দম্পতি ও তাদের এক সহযোগী।

শুক্রবার (১২ জুন) গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভোররাত চারটার দিকে র্যা ব-৯ এর কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল আবু মুসা মোঃ শরীফুল ইসলামের নেতৃত্বে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ সামিউল আলমসহ একটি আভিযানিক দল পৌঁছে সিলেটের মোগলাবাজার থানার দক্ষিন শ্রীরামপুর এলাকায়। সেখানে গিয়ে গ্রেফতার করা হয় হত্যাকান্ডের মূল হোতাদের। তবে পলাতক রয়েছে তাদের এক সহযোগী শাহেদ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন মোছাঃ মৌসুমী বেগম (২৩) ও তার স্বামী রুহুল আমিন (৩৫)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

আসামীরা স্বীকারোক্তিতে জানান, খুন হওয়া ইউনুস আহমদ শামীম (৩৮) মৌসুমী বেগমকে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের চাপ এবং উত্যক্ত করতেন। যার প্রতিশোধ নিতে মৌসুমীর স্বামী রুহুল আমীন ও তার বন্ধু পলাতক আসামী শাহেদ এই হত্যা পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করে। গত বুধবার (১০ জুন) ইউনুস আহমদ শামীমকে বিয়ানীবাজারে নিজ বাড়িতে ডেকে নেয়। অনুমান রাত একটার দিকে শামীমকে হত্যা করে মৃতদেহ বস্তায় ভরে দক্ষিণ সুরমার ধোপাঘাট এলাকার রাস্তার পাশে ফেলে দেয়। এ ঘটনায় দক্ষিন সুরমা থানায় নিহত শামীমের ভাইকে বাদী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল ।মৌসুমী ও রুহুল আমীনকে নিয়ে পুলিশি অভিযানে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ধারালো চাকু সহ বস্তাবন্দী লাশ বহনে ব্যবহৃত যানবাহন ও তার চালকের সন্ধান পাবার সম্ভাবনা রয়েছে। অপর একটি সুত্রে জানাগেছে, আইনজীবী সহকারী শামীমের মৃতদেহ দাফনের সময় ঘটনাকারী রুহুল আমীনও সেখানে ছিল এবং শামীমের বিধবা স্ত্রী অর্থাৎ ফুফুর জন্য একটি সাদা শাড়ী কাপড় সে নিয়েছিল বলে একটি অসমর্থিত সূত্রে প্রকাশ। সূত্র: বাংলার বারুদ

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..