সিলেট ২৫শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৫ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৪:৫৪ অপরাহ্ণ, জুন ৫, ২০২০
বাবর হোসেন: কেউ বলতো হাওলদার কেউ ডাকতো হাবিলদার, পুলিশ ডির্পাটমেন্টে ডাকতো আলমগীর উস্তাদ। সিনিয়র অফিসাররা উস্তাদ ডাকার কারণে জুনিয়ররাও উস্তাদ হিসেবে সম্ভোধন করার ধরনই ছিলো আলাদা। পুলিশে এক সময় হাবিলদার পদর্টি ছোট হলেও বেশ সমাদর ছিলো, হাবিলদারের অপর ডাক নাম ছিলো ‘উস্তাদ’। হাবিলদার থেকে এ টি এস আই আলমগীর হিসেবে ও ভদ্রলোকের পরিচিতি ছিলো অনেকের কাছে।
আমি তাঁকে চিনতাম সেই জাউয়া ফাঁড়ীতে থাকাকালীন সময় থেকে। সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানার আওতাধীন সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের পাশেই জাউয়া পুলিশ ফাঁড়ীর অবস্থান। ৯০র দশকে সিলেট কোতোয়ালি থানার একজন ওসি ছিলেন শফিকুল আলম, বাড়ী চট্রগ্রামের সন্দ্বীপ এলাকায়।ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিদারাবাদের সেই বিরজাবালাসহ ৬হত্যাকান্ডের ঘটনার সময় লালাবাজারের ওসি নুর ভাইকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থানা থেকে পুলিশ প্রশাসন সাসপেন্ড করার পর সেখানে পোস্টিং দেয়া হয়েছিল সেই ওসি শফিকুল আলমকে। তিনি সেই ঘটনার রহস্য উদঘাটনকারী এবং তদন্তকারী অফিসারও ছিলেন।
সেই ৬ হত্যাকান্ডের বিচারে যখন তাজুল ও বাদশার ফাঁসি কার্যকর হয়েছিল, তখন শফিকুল আলম সিলেট কোতোয়ালি থানায় ওসি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।আমি তখন দৈনিক যুগভেরীতে ক্রাইম রিপোর্টার ।শফিকুল আলম তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে বিরজাবালাসহ ৬জন হত্যাকাণ্ডের মামলার সিডির পাশাপাশি যে পিডি লিখেছিলেন, আমি তারই অজান্তে কোতোয়ালির ওসির বাসা থেকে সেই পিডি’র একটি ফটো কপি সংগ্রহ করতে পেরেছিলাম।সেই সময় থেকে এখন পর্যন্ত যে সব সাংবাদিক অপরাধমূলক বিষয় নিয়ে রিপোর্ট করেন, তারা পুলিশের সিডি কিংবা পিডির গুরুত্ব ও ব্যবহার সম্পর্কে কি পরিমান ধারণা রাখেন অথবা এ সমস্ত ডকুমেন্টের উপর নির্ভর করেন কি-না তা আমার জানা নেই। আমি নিদারাবাদ হত্যাকান্ডের তাজুল-বাদশা’র ফাঁসি কার্যকরের প্রাক্কালে ওসির সেই পিডি’র উপর নির্ভর করে যুগভেরীতে কয়েকটি ধারাবাহিক প্রতিবেদন করেছিলাম। শুধু মাত্র ফাঁসি কার্যকরের রাতে সে সময়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় কর্মরত সাব ইন্সপেক্টর কাজী মাহবুব ও মারুফ চৌধুরীর কাছ থেকে ল্যন্ড টেলিফোনে সংবাদ নিয়ে রিপোর্ট করেছিলাম।কাজী মাহবুবের বাড়ী ছিলো চট্টগ্রামের চকোরিয়ায় এবং মারুফ চৌধুরীর বাড়ী মৌলভীবাজারে।
আমার মনে আছে, সে সময় যুগভেরীর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আজিজ আহমদ সেলিম ভাইর পিতা যুগভেরীর সেই সব ধারাবাহিক রিপোর্ট নিয়ে অনেক গবেষণা করতেন। আমাকেও অনেক প্রশ্ন করেতেন। সেলিম ভাই এখন বিটিভির সিলেট প্রতিনিধি ও উওর পূর্বর প্রধান সম্পাদক। ধান বানতে শিবের গীত গাঁওয়া হয়ে যাচ্ছে-এমন কথাও শোনতাম। তখন দেখতাম কোতোয়ালির এত বিশাল এলাকার কোথাও অপরাধমূলক কিছু হলেই বিশেষ করে ডাকাতি কিংবা বড় ধরনের চুরি হলে ওসি শফিকুল আলম টিএস আই আনোয়ার ও`আলমগীর উস্তাদকে তলব করতেন সকলের আগে।
এদের অনেক সোর্স ছিলো, তাদের সেই সব সোর্সকে ব্যবহার করে পুলিশ সফলতা অর্জন করতো, হাবিলদার আলমগীর শহরের একাধিক ফাঁড়ির দায়িত্বে ছিলে।কিন্তু কোনো দিন অপ্রয়োজনে করো সাথে অসাধাচরণ, খারাপ ব্যবহার করতেন না। তাঁর সবচেয়ে একটি ভালো অভ্যাস ছিলো পুলিশের পোষাক পরিহিত অবস্থায় বাজার করতেন না। গোফ ওয়ালা আলমগীর উস্তাদকে ডাবল সাইলেন্সার ওয়ালা মোটরসাইকেলে আর ঘুরে ঘুরে অপরাধ দমনমুলক তৎপরতায় হয়তো দেখা যাবেনা কিন্তু তাঁর সেই অমায়িক ব্যবহার এবং কর্মতৎপরতা স্মরণযোগ্য হয়ে থাকবে।
সোবাহানীঘাট ফাঁড়িতে থাকতে দাড়ি রেখে এবং নামাজ রোজাতে মনোযোগ দিয়েছিলেন আলমগীর। আমার জানা মতে, আলমগীর পুলিশের যেসব ইউনিটে কাজ করেছেন সবখানেই সাংবাদিকদের সাথে সুসম্পর্ক রাখতেন এবং প্রয়োজনে সকল প্রকার সহযোগিতা করতেন মনে প্রাণে।
পবিত্র ঈদের দিনের মত একটি ফজিলতময় দিনে তিনি ইন্তেকাল করেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করবেন বলে আমি বিশ্বাস রাখি এবং দোয়া করি তার কবরকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জান্নাতুল ফেরদৌসের সাথে সংযোগ করে দিন। পুলিশের মাঠে কর্মরতদের মধ্যে এমন চালাক চতুর এবং সাংবাদিক বান্ধব একজন আলমগীর উস্তাদকে হারিয়ে আমরা শোকহত। তার পরিবার পরিজনের প্রতি রইল গভীর সমবেদনা, সেই সাথে আমরা আশাবাদী আলমগীর এর কর্মময় জীবনকে যেন পুলিশের মাঠ পর্যায়ের কর্মরতরা কিছুটা হলেও ধরে রাখার চেষ্টা করেন।
লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, সাপ্তাহিক বাংলার বারুদ
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd