কাউন্সিলর রেজওয়ানের দুর্নীতি : বাতিল হল তালিকায় আসা ২৬ বিত্তবানদের কার্ড

প্রকাশিত: ২:২৭ পূর্বাহ্ণ, মে ৩১, ২০২০

কাউন্সিলর রেজওয়ানের দুর্নীতি : বাতিল হল তালিকায় আসা ২৬ বিত্তবানদের কার্ড

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : এবার বাতিল হল সিলেটে সিটি কর্পোরেশনের ৫নং ওয়ার্ডে গরীবের খাদ্য তালিকায় আসা সেই ২৬ জনের কার্ড। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মনোজ কান্তি দাস চৌধুরী।

করোনাভাইরাস মহামারিতে সরকারের দেয়া বিশেষ ওএমএসের চালে উপকারভোগীর তথ্য গোপন করে তালিকায় হ-য-ব-র-ল সৃষ্টি করে নিজের ভোট ব্যাংক তৈরী করতে গিয়ে সরকারের দেয়া ১০ টাকা কেজি দরে ওএমএসের চাল বিতরণ কার্যক্রমকে হতদরিদ্রের পরিবর্তে ২৬ জন বিত্তবানদের নামে কার্ড ইস্যু করান সিসিকের ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদ।

তার এই দুর্নীতির কারণে ওয়ার্ডের অনেক অসচ্ছল পরিবারে ওএমএসের চাল থেকে বঞ্চিত হয়। গত ১৭মে রোববার ”কাউন্সিলর রেজওয়ানের দুর্নীতি : পেশা পরিবর্তন করে গরীবের খাদ্যে ২৬ বিত্তবানদের থাবা” শিরোনামে নিউজ মিরর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এই প্রতিবেদন মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারে জেলা খাদ্য অধিদপ্তর। এনিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সিলেট জেলা খাদ্য অধিদপ্তর।

শুক্রবার দুপুরে ৫নং ওর্য়াডের শাহী ঈদগাহের হাজারীবাগ এলাকায় খাদ্য অধিদপ্তরের সেই তদন্ত কমিটি আসে। তারা তদন্ত করেন। এসময় তথ্য গোপণ করে মনগড়া তালিকায় ভুল তথ্য দিয়ে ওয়ার্ডের অসহায়-হতদরিদ্রের নামে খাদ্য অধিদপ্তরে ৪৫০ জনের মনগড়া তালিকায় অসহায়-হতদরিদ্রের বঞ্চিত করে ওয়ার্ডের বিত্তবান, বাড়ির মালিক, কোলোনীর মালিক, রাজনৈতিক নেতা, তার বন্ধু-বান্ধব, ত্রাণ কমিটির সদস্য ও তার আত্মীয়-স্বজনের নাম দিয়েছেন এবং এলাকার বিত্তবানদের একেকটি পরিবারে ৩ থেকে ৪টি কার্ড ইস্যু করেছেন কাউন্সিলর রেজওয়ান এমন সত্যতা পায় খাদ্য অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটি। পরে ইস্যুকৃত ২৬টি কার্ড বাতিল করা হয়।

এসময় হাজারিবাগের সেই ২৬ জন বিত্তবান কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদকে এ ব্যাপারে দোষারোপ করেন। তদন্তকালে তারা কাউন্সিলর রেজওয়ানকে একাধিকবার কল করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি বলে জানান স্থানীয়রা।

এদিকে কাউন্সিলর রেজওয়ানের ওএমএসের চালের কার্ড দুর্নীতির কারণে হাজারিবাগের ওই ২৬ বিত্তবানরা তাদের সম্মানহানী হয়েছে বলে মন্তব্যও করেন। তারা কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে এর সুষ্ঠ তদন্ত দাবী করেন।

৫নং ওয়ার্ডে তথ্য গোপণ করে দেয়া সেই ২৬ জন বিত্তবানের কার্ড বাতিল হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মনোজ কান্তি দাস চৌধুরী।

প্রসঙ্গত, মহামারি করোনায় সরকারের দেয়া বিশেষ ওএমএস (চাল) খাতে উপকারভোগীদের তথ্য গোপন করে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে অসহায় ও হতদরিদ্রদের নাম তালিকা থেকে বঞ্চিত করে বিত্তবানদের নামের তালিকা খাদ্য অধিদপ্তরে দিয়ে কার্ড ইস্যু করেন কাউন্সিলর রেজওয়ান। ৫নং ওয়ার্ডের ৪৫০ জনের নামে কার্ড ইস্যু হয়েছে। এর মধ্যে শাহী ঈদগাহ হাজারীবাগ এলাকায় ৭৭ জনের সামে কার্ড ইস্যু হয়। তবে এই ৭৭ জন অসহায় পরিবারের মধ্যে ২৬ জনই সম্পদশালী ও বিত্তবান। শাহী ঈদগাহ ৪৩ হাজারীবাগের বাসিন্দা সিসিকে ৫নং ওয়ার্ডের ত্রাণ কমিটির সদস্য, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. কুতুব উদ্দিনের পরিবারে ৪টি কার্ড ইস্যু হয়েছে। এরমধ্যে কুতুব উদ্দিনের মাতা হাজী রকিবা খাতুনের গৃহিনী পেশা পরিবর্তন করে দর্জি বানিয়ে ১টি কার্ড, ভাই সেলিমকে রিক্সা চালক বানিয়ে ১টি, ভাই শাহিনকে শ্রমিক বানিয়ে ১টি ও কুতুব উদ্দিনের স্ত্রী মিসেস বদরুন নাহারকে কাজের বুয়া বানিয়ে ১টি কার্ড ইস্যু হয়। শাহী ঈদগাহ ৩৩ হাজারীবাগের বাসিন্দা ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান পাপ্পুর পরিবারে ৩টি কার্ড ইস্যু হয়। বিগত নির্বাচনে পাপ্পু ৫নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন। কাউন্সিলর রেজওয়ান পাপ্পুর পেশা পরির্বতন করে তালিকায় দর্জি বানিয়ে ১টি কার্ড, পাপ্পুর মাতা রুকেয়া বেগমকে শ্রমিক বানিয়ে ১টি কার্ড ও পাপ্পুর ছোট ভাই মনিরের স্ত্রী তাছলিমা সাদেক সোহানীকে কাজের বুয়া বানিয়ে ১টি কার্ড উস্যু করেন।

এছাড়াও পেশা পরিবর্তন করে শাহী ঈদগাহ ৪০/৩ হাজারীবাগের আনোয়ার হোসেন রাজুকে অটো রিকশা চালক, ৪৫ হাজারীবাগের মো. রাসেলকে ভ্যান চালক, ৪৮ হাজারীবাগের মো. আব্দুল কবির মিটুকে শ্রমিক, ১৭ হাজারীবাগের স্বপন আহমদকে কাঠমিস্ত্রি, ৩৪/২ হাজারীবাগের মো. শফি আহমদকে দিনমজুর, ২৪ হাজারীবাগের রতু মিয়াকে ভ্যান চালক, ৮ হাজারীবাগের মো. রায়হান মিয়াকে শ্রমিক, ৮ হাজারীবাগের রুম্মান মিয়াকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ১৮ হাজারীবাগের জাবেদ আহমদকে ঢালাই মিস্ত্রি, ১৭/১ হাজারীবাগের হাবিবুর রহমান পুতুলকে শ্রমিক, ৯ হাজারীবাগের রাসেল আহমদকে অটো চালক, ৯ হাজারীবাগের জাকারিয়া আহমদকে শ্রমজীবি, ৯ হাজারীবাগের জয়নাল আহমদকে রং মিস্ত্রি বানিয়েছেন কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদ।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..