সিলেট ১০ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২২শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৯:৫৩ অপরাহ্ণ, মে ১৬, ২০২০
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটের গোয়াইনঘাটে করোনাকালে ত্রাণ বিতরণের মিথ্যা ও পজিটিভ গুজব প্রচার। ক্ষতিগ্রস্থ ও বঞ্চিত হচ্ছে অসহায় ও গরীব মানুষ। একটি অনলাইন পোর্টাল ব্যক্তি স্বার্থে এমন ভুয়া নিউজ প্রচার চলেছে। ফলে বিভিন্ন সেবামূলক সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন অসহায় মানুষজন। একটি স্থানে ত্রাণ বিতরণের সংবাদ প্রচারের পর ওই এলাকায় যাচ্ছে না সাহায্যকারী অন্য কোন সংস্থা ও ব্যক্তি। ফলে মানবিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন মহামারি করোনাকালীন কর্মহীন অসহায় মানুষ। ‘সীমান্তের আহ্বান ’ নামের একটি অনলাইন পোর্টাল এই গুজব ও মিথ্যাচার প্রচারে জড়িত বলে স্থানীয়ভাবে খবর পাওয়া গেছে।
অভিযোগে প্রকাশ, সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা আলেম ওলামা ও জমিয়তে ওলামার শক্ত ঘাটি। আর এ কারণে গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা গোলাম আম্বিয়া কয়েছ বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। বৈশ্বিক মহামাররি করোনাকালে ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম আম্বিয়া কয়েছ-নিজের সেবামূলক তৎপরতা দেখানোর পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করেছেন তারই আশীর্বাদপুষ্ট অনলাইন পোর্টাল সীমান্তের আহ্বান। মিথ্যাভাবে জমিয়তের বিভিন্ন নেতার ছবি ও নাম দিয়ে ত্রাণ ও সহায়তা বিতরণের আজগুবি সংবাদ প্রচার করাচ্ছেন ওই পোর্টাল দিয়ে। এতে করে জমিয়ত দলীয় উপজেলা ভাইস চেয়ারমম্যান গোলাম আম্বিয়া কয়েছ-এর গুণকীর্তণই করা হচ্ছে বেশি। ভবিষ্যত নির্বাচনী পথ পরিষ্কার রাখতে গিয়ে দল ও দলীয় নেতানে নামে এম পজিটিভ গুজব ছড়ানো হচ্ছে নিউজের মাধ্যমে। সীমান্তের আহ্বান-এর পরিচালক (সম্পাদক) আবু তালহা তেফায়েল ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম আম্বিয়া কয়েছ-এর একান্ত ও ঘনিষ্ট হওয়ায় তারই প্ররোচরায় এমনটা মিথ্যাচার করে চলেছেন তিনি।
গোয়াইনঘাটে জমিয়তের পক্ষ থেকে একেকদিন একেকজনের ছবি ব্যবহার করে সীমান্তের আহবান নামক একটি নিউজ পোর্টালে অসহায়দের সহায়তার নামে নিউজ করা হয়। অথচ এই সহায়তা কেবল নিউজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। গরীব অসহায়রা কোন প্রকার সহায়তা পাননি। সেসব নেতার নামে ত্রাণের নিউজ প্রচার করা হয় তারাও জানেন না ত্রাণ তৎপরতার কথা। খবর পেয়ে অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেন গণমাধমের কাছে
গোয়াইনঘাট জমিতর সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস ও যুব জমিয়তের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামুনুর রশীদ-এর নাম ও ছবি ব্যবহার করে সীমান্তের আহবান নামক অনলাইন পোর্টালে গত ৭ মে যে মিথ্যা ও পজিটিভ গুজব প্রচার করা হয়েছে তা নিম্নরূপ:- “গোয়াইনঘাট উপজেলা জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক ও গোয়াইনঘাট উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা গোলাম আম্বিয়া কয়েছ করোনা সংক্রমণের ফলে কর্মহীন হয়ে পড়া উপজেলার অসহায়দের নীরবে তাদের বাড়িতে প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ ও মানবিক সহায়তা হিসেবে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন। গোয়াইনঘাট উপজেলা যুব জমিয়তের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান গোয়াইনঘাট উপজেলা জমিয়তের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস এবং গোয়াইনঘাট উপজেলা যুব জমিয়তের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামুনুর রশীদের মাধ্যমে এ সহায়তা প্রদান করেন।”
অথচ এই নিউজে যাদের নাম ও ছবি ব্যবহার করা হয়েছে তার কেউই ত্রাণ তৎপরতার বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন।
অতিসম্প্রতি গোয়াইনঘাট উপজেলা জমিয়তের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা নূরুল ইসলাম বৌলগ্রামী ও জমিয়তের সহ-সভাপতি মাওলানা ফরিদ উদ্দিন কয়েস’র নাম ও ছবি ব্যবহার করে সীমান্তের আহ্বান-এ ত্রাণ বিতরণের আরেকটি মিথ্যা নিউজ প্রচার করা হয়, যা সম্পূর্ন অস্বীকার করেছেন তারা।
এ বিষয়ে জমিয়ত নেতা মাওলানা নূরুল ইসলাম বৌলগ্রামী বলেন-গোয়াইনঘাট জমিয়তকে কিছু ফালতু মানুষ খেল-তামাশা ও প্রহসনের বস্তু বানিয়ে দিয়েছেন। শুনেছি আমার নাম ব্যবহার করেও নাকি ইদানীং ত্রাণ বিতরণের নিউজ দেওয়া হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এমন মিথ্যা যারা রটিয়েছে তারা কখনও আকাবিরদের (পূর্বসূরীদের) হাতে গড়া জমিয়তের নেতা-কর্মী হতে পারেন না। মিথ্যার বেসাতি করে তারা বুজুর্গানের রেখে যাওয়া আমানতের খেয়ানতই করে চলেছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন-আমি শুনেছি এই নিউজ গোয়াইনঘাট জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা গোলাম আম্বিয়া কয়েছ করিয়েছেন। তার এমন ফালতু কাজের জন্য জমিয়ত আজ নান প্রশ্নের সম্মুখীন।
ত্রাণ তৎপরতায় অংশ নেয়ার বিয়য়ে মাওলানা ফরিদ উদ্দিন কয়েছ তার অফিসিয়াল ফেসবুক একাউন্টে লেখেন ‘আমি ফরিদ উদ্দিন কয়েস চলতি বছরের ১৭মার্চ থেকে এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সরকারি যাবতীয় আইন কানুন মেনে কোয়ারেন্টিনে অতিবাহিত করছি। এসময়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক কোন কর্মকান্ডে জড়িত ছিলাম না এবং এখনো না। কিন্ত ফেসবুকে দেখি আমি নাকি জমিয়তর নামে ত্রাণ বিতরণ করছি। অবাক হয়ে আমি তীব্র প্রতিবাদ জানাই। আমার নামে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রচারের কোন কারণ জানতে না পেয়ে আমি মানসিকভাবে ব্যথিত হয়েছি।
জমিয়ত নেতা মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস জানান-এই দুঃসময়ে আমি ব্যক্তিগত ভাবে অসহায়দের মাঝে সাধ্যমত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। আমাকে উপজেলা জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক গোলাম আম্বিয়া কয়েছ বিতরণের জন্য নগদ অর্থ কিংবা কিংবা কোন প্রকার খাদ্য সহায়তা দেননি। অযথা আমার ছবি ব্যবহার করে মিথ্যাচার করা হচ্ছে তার আশীর্বাদপুষ্ঠ অনলাইন পোর্টালে। আমার ব্যক্তিগত সহায়তাকে দলীয় সহায়তা বলে প্রচার করে পর্থিব ও রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
জমিয়ত নেতা মাওলানা মামুনুর রশীদ বলেন-গোয়াইনঘাট জমিয়তের পক্ষ থেকে আমার নিকট কোন ত্রাণ সামগ্রী পৌছায় নি। আমার এলাকার কয়েকজন আমাকে কল দিয়ে বলেন-আপনার নিকট গোয়াইনঘাট জমিয়তের পক্ষ থেকে ত্রাণ সামগ্রী এসেছে। আপনি এসব বিতরণের কোন ব্যবস্থা নেননি কেন। আমি শুনে চমকে গেছি। তাদের কাছে বিস্তারিত জানতে চাইলে তারা বলেন উপজেলা জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক গোলাম আম্বিয়া কয়েছ সীমান্তের আহবান-এর একটি নিউজ ফেসবুকে শেয়ার করেছেন। এখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস ও মাওলানা মামুনুর রশীদের মাধ্যমে নগদ অর্থ ও খাদ্য সামগ্রী অসহায়দের জন্য প্রদান করা হয়েছে। আমি বিষয়টি শুনা মাত্রই মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস সাহেবকে কল দেই। তিনিও এবিষয়ে কোন কিছু জানেন না বলে আমাকে জানান। পরবর্তীতে জানতে পারি প্রতিদিন এভাবে দু’একজনের ছবি দিয়ে গোলাম আম্বিয়া কয়েছ-এর মুখপত্র সীমান্তের আহবান নামের অনলাইন পোর্টালে এধরণের ভুয়া নিউজ করা হচ্ছে। এটার কোন বাস্তবতা বলতে কিছু নেই। কয়েছের এমন অসৎ কর্মকান্ডের আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
সিলেট জেলা জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আতাউর রহমান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন-আমি নিজে কোন প্রেগ্রামে উপস্থিত থাকতে পারিনি। তবে আমার পক্ষে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে বলে আমি জানতে পেরেছি।
গোয়াইনঘাট উপজেলা জমিয়তের সভাপতি মাওলানা আব্দুল আজিজ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, গোলাম আম্বিয়া কয়েছ আমার সাথে যোগাযোগ করে সংবাদটি প্রকাশ করছেন। তবে আমি নিজে উপস্থিত ছিলাম না। আমার উস্থিতি দেখিয়ে ও ছবি দিয়ে ত্রাণ বিতরণের সংবাদ প্রকাশ মিথ্যাচার বৈ কিছু নয়।
গোয়াইনঘাট উপজেলা জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম আম্বয়া কয়েছ নিজেকে ‘সীমান্তের আহ্বান’ নামের অনলাইন পোর্টালের উপদেষ্ঠা স্বীকার করেন এবং বলেন-আমরা জমিয়তের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করছি। সাবেক অনেক নেতা উপস্থিত না থাকলেও তাদের মূল্যায়ণ করতে গিয়ে নিউজে তাদের নাম ও ছবি ব্যবহার করতে বলেছি।
গোয়াইনঘাট উপজেলা ছাত্র জমিয়তের সভাপতি হাফিজ জাকির হোসেন জানান, সীমান্তের আহ্বান অনলাই পোর্টালে যাদের নাম ও ছবি দিয়ে ত্রাণ তৎপরতার নিউজ প্রকাশিত হয়েছে বা হচ্ছে তারা সবাই কিন্তু ত্রাণ বিতরণে অংশ নেন নি। আমাদের উপজেলা জমিয়তের সিদ্ধান্ত মতে ১৯৯২ সাল থেকে যারা জমিয়ত, যুবজমিয়ত ও ছাত্র জমিয়তের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন, মহামারি ত্রাণ তৎপরতায় সশরীরে অংশ গ্রহণ না করলেও মূল্যায়ন মূলকভাবে “ তারা অংশ গ্রহণ করেছেন” বলে তাদের নাম ও ছবি ব্যবহান করা হয়েছে থাকে। উভয় নেতাই পরোক্ষভাবে সীমান্তের আহ্বান পের্টালে বাস্তবতা বিরোধী নিউজ প্রকাশের সত্যতা স্বীকার করে নেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে ১৬ মে সন্ধ্যায় সীমান্তের আহ্বান পোর্টালের পরিচালক (সম্পাদক)-এর মুঠোফোনে (০১৭২৪-৬৯১৭০৪) যোগাযোগের চেষ্ঠা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd