করোনাযুদ্ধে অসহায়দের মুখে হাসি ফুটাতে ছুটেছেন সিলেটের পুলিশ সদস্য সফি আহমেদ

প্রকাশিত: ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ, মে ১৬, ২০২০

করোনাযুদ্ধে অসহায়দের মুখে হাসি ফুটাতে ছুটেছেন সিলেটের পুলিশ সদস্য সফি আহমেদ

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক :: মনে পড়ে কি মানবতার মহিষী নারী মাদার তেরেসার কথা। যে কি না মেসোডেনিয়া ছেড়ে কলকাতায় এসে আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিলেন। নেলসন ম্যান্ডেলা মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে জেলে কাটিয়েছেন জীবনের ২৭টি বছর। এরকম অনেকেই নিজেদের বিলিয়ে দিয়েছেন মানুষের কল্যাণে। বিশ্বের যা কিছু মহান, মহৎ কর্ম, যা মানব সভ্যতাকে স্বর্ণ শিখরে নিয়ে গেছে তার মূলে রয়েছে মহৎ মানুষের ভূমিকা।

অপরের কল্যাণ সাধনের জন্য তারা তাদের নিজেদের সুখ শান্তি, আরাম-আয়েশ, ভোগ-বিলাস সবকিছু বিসর্জন দিতে দ্বিধাবোধ করেননি। শিক্ষা: সংকীর্ণ স্বার্থপরতায় বিভোর মানুষ কোনো দিন সুখ নামক বস্তুটির দেখা পায় না। তাই মানুষের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়াই প্রকৃত মানুষের কাজ। তাই অপরের সুখে একটু অংশীদার হতে তার এমন উদ্যোগ। বলছি সফি আহমেদের কথা।

পুরোপৃথিবী জুড়ে এক আতঙ্কের নাম করোনাভাইরাস। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি মানুষকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। গড়ে তুলেছেন একটি টিম।

করোনার শুরু থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় ৮০০ পরিবারের কাছে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। সফি আহমেদ পেশায় একজন পুলিশ সদস্য। সিলেট মহানগর পুলিশের নায়েক পদে কর্মরত। বর্তমানে তিনি মহানগর পুলিশের মিডিয়া ও কমিউনিটি সার্ভিস বিভাগে কাজ করছেন।

সংকটময় মুহূর্তে অসহায় ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন তিনি ও তার দল। বন্ধু বান্ধুব,পাড়া প্রতিবেশী, আত্মীয় স্বজনদের কাছ থেকে টাকা এনে খাদ্য সামগ্রী বিলিয়ে দিচ্ছেন মানুষের মাঝে । দিনে কিংবা রাতে,শহরে কিংবা নগরে মোবাইল ফোনে কল পেয়ে সাধ্যমতো খাদ্য বা নগদ অর্থ দিয়ে সাহায্য করেছেন।তবুও মনে এখনো প্রশান্তিটুকু পাননি।

আর তাই তো এবার ঈদে বেতনের সাথে বোনাস হিসাবে যা পেয়েছেন তাও বিলিয়ে দিলেন মানুষের কল্যাণে। তবে এবার তিনি একা নন এই লড়াইয়ে যোগ হলেন আরও দুজন। কনস্টেবল শফিকুল আলম রুবেল ও প্রাইভেট ক্লিনিক এর ম্যানেজার মায়শা সাথী। সফি আহমদের কাজ দেখে নিজ এলাকা কুলাউড়ায় তার বন্ধুরা এগিয়ে এসেছেন মানুষের পাশে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩শশতাধিক পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী দিয়েছেন। সেই সাথে বিকাশের মধ্যমে নগদ অর্থ দিচ্ছেন।

সফি আহমেদের কাজে এগিয়ে আসা মায়শা সাথী বলেন, আমি আসলেই নিজেকে অনেক সৌভাগ্যবান মনে করছি যে বাংলাদেশ পুলিশ সফি আহমেদ ভাই এবং এস.এ. রুবেল ভাইয়ের সাথে কাজ করে। আমার খুব ভালো লাগে এই কাজ করতে। যখন মানুষের হাতে একটু খাবার তুলে দেই তখনি আনন্দে চোখে পানি চলে আসে। এই কাজ গুলো যারা করেন বা করছেন তারাই শুধু বুঝতে পারবেন অসহায় মানুষদের সাহায্য করলে মনে কতটুকু শান্তি পাওয়া যায়।

তিনি আরও বলেন পরিশেষে একটা কথা বলবো খুব ভালো লাগছে এরকম কাজে এগিয়ে আসতে পেরে। দেশের এমন পরিস্থিতিতে আমাদের সবার নিজ নিজ অবস্থান থেকে একে অন্যের পাশে দাড়ানো উচিত। আমি আমার অবস্থান থেকে উনাদের কাজে কিছুটা সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি এবং করে যাবো ইনশাল্লাহ। দোয়া করবেন সবাই।

এব্যাপারে জানতে চাইলে সফি আহমেদ বলেন, প্রথমে নিজের দরিদ্র আত্মীয়-স্বজনদের সহযোগিতা করার আগ্রহ থেকেই তিনি যাত্রা শুরু করেন। এরপর থেকে ধীরে ধীরে সবাই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তবে রমজান মাসের শুরু থেকে নিজ উদ্যোগে অসহায় পথচারী, পত্রিকা হকারদের ইফতার ও সেহরির কার্যক্রম শুরু করেছিলেন, বর্তমানে তা অব্যাহত রয়েছে।

ঈদকে সামনে রেখে কি ধরনের উদ্যোগ নিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন,ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে ঈদ সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম আজ থেকে শুরু হলো।

আসন্ন ঈদ বোনাস এর টাকা ও আমার প্রবাসী কিছু আত্মীয় স্বজনরা, বন্ধু ও ভাইদের সহযোগিতায় ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।

Sharing is caring!

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..